UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg

  বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড ঠকাচ্ছে না তো?  

achyuta
পরিচালকদের সঙ্গে নায়িকাদের প্রেম কিছু নতুন ব্যাপার নয়। সারা বিশ্বের চলচ্চিত্রজগতের ইতিহাসেই এই ঘটনা ঘটে আসছে সিনেমার সেই আদি যুগ থেকে। তবে গত এই এক হপ্তা জুড়ে আমাগো টলিউডে এই নিয়ে যা কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির খবর কানে আসছে, তাতে স্থির করে ওঠা দায়, খবরাখবর শুনে হাসব, নাকি ঠ্যাং ছড়িয়ে কাঁদতে বসব! এই তো ক’দিন আগেই শোনা গিয়েছিল, পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনেত্রী মিমির প্রেম হঠাৎই কেঁচে কুচিকুচি! মিমি নাকি একটি ছবির শুটিংয়ে বিদেশ গিয়ে মন দিয়েছেন সেখানকারই এক প্রযোজক-সন্তানকে। সেই খবর শুনে তো রাজ কেঁদেকেটে একসা। রাজের ভক্তেরাও গুরুর দুঃখে দুখখু পেয়ে রুমালে চোখ মুছে সেই ভেজা রুমাল শুকোনোর আগেই খবর পেলে, রাজ-শুভশ্রী নাকি একে অন্যের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন!
  সেই শুনে রাজ্যসুদ্ধু সকলেই ‘আ হা বেশ বেশ’ বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কি ফেলেননি, এবার কানে এল জো়ড়া খবর— ১) মিমি নাকি ফিরে এসেছেন রাজের জীবনে, ২) সেই শুনে শুভশ্রী নাকি গায়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছেন! বাংলার মানুষ সবে সেই খবর হজম করবেন বলে দোকানে হাজমোলা কিনতে গিয়েছেন কি যাননি, মাঝরাস্তায়, ভরদুপুরে দুম করে বোমা পড়ল। বোমা ফাটালেন খোদ শুভশ্রীই। ফেসবুকে লাইভ ভিডিয়ো করে সব্বাইকে জানিয়ে দিলেন, তিনি দিব্য আছেন। কিন্তু… কিন্তু সবশেষে আবার বলে বসলেন, ইমোশনাল ব্যাপারস্যাপার নিয়ে ভাবার তাঁর এখন সময় নেই, কারণ তাঁর হাতে এই মুহূর্তে প্রচুর কাজ। বক্তব্যের এই শেষ অংশটাই আরও একবার উসকে দিয়েছে জল্পনার বুড়বুড়িকে। তবে কি শুভশ্রী জানিয়ে দিলেন, প্রেম নিয়ে ভাবারও তাঁর অবকাশ নেই এখন? তার মানে কি প্রেম ভেঙে গেল? তার মানে কি রাজ সত্যিই মিমির সঙ্গে…   
তা সে ওঁরা বড়-বড় মানুষ, শিল্পী মানুষ, ওঁরা অমন দুমদাম প্রেমে পড়তে, প্রেম থেকে উঠতেই পারেন। কিন্তু তোমার-আমার তো অমন ক্যাপা নেই। অতি কষ্টে মনের মতো কাউকে আমরা যারা খুঁজে পেয়েছি, তাকে অতএব সহজে যেতে না দেওয়াই ভাল। কিন্তু কমিটমেন্টে থাকতে-থাকতে যদি আমার পার্টনার সত্যিই অন্য কারও প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে? আর সেকথাটা চাইলেও সাহস করে জানাতে না পারে আমায়? কী করে এমন আসন্ন বিপদের কথা বুঝতে পারবে আগে থেকেই? achyuta-2
  এই ঘুসঘুসে, বিচ্ছিরি রোগ চেনার কতগুলো টিপ্‌স দিলাম নীচে —   
১) প্রায়শই পার্টনারের ফোন বিজ়ি পেলে একেবারে হাত গুটিয়ে বসে থাকা চলবে না একেবারেই। খোঁজ নাও। সরাসরি জানতে চাও, কার সঙ্গে তার এত কিচিরমিচির।
২) আগে বেশ ভালই সময় দিত, ইদানীং নানা বাহানায় তেমনটা আর দিচ্ছে না— অবস্থা এরকম হলেও নড়েচড়ে বসা দরকার!
৩) অন্য যার প্রতি তার ব্যথা থাকলেও থাকতে পারে, সরাসরি তার প্রসঙ্গ তুলে খেয়াল করো, পার্টনারের চোখমুখের ভাব পালটাচ্ছে কি?
৪) ধরো, তোমার পার্টনারটি অন্য কারও প্রতি নরম হয়ে পড়েছেন বলে তোমার সন্দেহ হচ্ছে। অথচ কিছুতেই ধরতে পারছ না। এমতাবস্থায় পার্টনারকে হঠাৎ বলে দেখতে পার, ‘কাল ফেসবুকে তোমার ওই পছন্দের লোকটিকে পিং করেছিলাম। কথাবার্তা হল খানিকক্ষণ।’ তোমার পার্টনারের সাদা মনে কাদা না থাকলে সে একেবারেই চমকাবে না, সেক্ষেত্রে তুমিও নিশ্চিন্ত। সত্যিই কেস জন্ডিস হলে কিন্তু পার্টনার একটু হলেও চমকে উঠবেই উঠবে।
৫) পার্টনারটি তেমন ধুরন্ধর না-ও হতে পারে। হয়তো এমনিই এক্স-এর প্রতি হঠাৎ/কিংবা কোনও কারণে তার ব্যথা উথলে উঠেছে। সেরকম সন্দেহ হলে তোমার পার্টনারের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা বান্ধবীদের কাছে গোপনে খোঁজ নাও। অনেক কথাই আমরা নিজের প্রেমিক/প্রেমিকাকে বলতে না পারলেও বন্ধুদের কাছে শেয়ার করি ঠিক।

এই মোটামুটি কিছু টোটকা। সেলেবদের জীবনেই হোক আর আমাদের জীবনে, অশান্তি, ব্রেক-আপ এগুলো তো অবাঞ্ছনীয়ই। পরের ঘরে আগুন লেগেছে দেখে হ্যা হ্যা হি হি করার আগে নিজের ঘরের ফায়ার এক্সিটটা দেখে নিয়েছ তো ভাল করে?

অচ্যুত দাস