UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg

 আবার সেঞ্চুরি সচিনের 

ছবি : সচিন, আ বিলিয়ন ড্রিমস
পরিচালক : James Erskine

 মুম্বইয়ে ছবির বিশেষ প্রেস শো থেকে ছবির এক্সক্লুসিভ রিভিউ করল ১৯ ২০!

সচিন। সারা ভারত এবং পৃথিবীর সমস্ত ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে এই নামটা যেন কোনও এক ঈশ্বরের নাম। এমন এক নাম, যার সঙ্গে জুড়ে আছে অনেক আবেগ ও ভালবাসা। ছবির নাম ‘SACHIN, A Billion Dreams’ শুনলে মনে হতে পারে বাকি অনেক ছবির মতোই এটিও বুঝি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকরের বায়োপিক। কিন্তু মজাটা সেখানেই। ছবির পরিচালক JAMES ERSKINE নিছক একটি বায়োপিক তৈরি না করে ব্যক্তি সচিনের জীবনের নানা ছোট-বড়, জানা-অজানা ঘটনা নিয়ে তৈরি করেছেন একটি অদ্ভুত সুন্দর ডকুমেন্টারি।

যে ডকুমেন্টারিতে সচিনের ছোটবেলার অনেক গল্প থেকে শুরু করে তার রিটায়ারমেন্ট অবধি অসংখ্য ঘটনাকে অপূর্ব ভঙ্গিতে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আর এইসবের সঙ্গে উপরি পাওনা ছিল ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বয়ং সচিনের কণ্ঠস্বর। ছবি জুড়ে সচিন নিজেই নিজের জীবনের গল্প বলেছেন।

ছবিতে সচিনের পরিবারের সবাইকে দেখানো হয়েছে। গানের প্রতি তাঁর পরিবারের ভালবাসা ছিল। সুরকার শচীন দেববর্মনের গানের প্রতি ভাল লাগা থেকেই নাকি সচিনের নামকরণ। একেবারে ছোটবেলায় মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে সচিনের ক্রিকেটজীবনের শুরু। ছবিতে সচিনের জীবনের সঙ্গে জড়িত বাস্তব জায়গাগুলোকেই দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে অসংখ্য ম্যাচের আসল ভিডিয়ো।  এরপর ছবিতে আসে স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে সচিনের প্রথম যৌবনের প্রেমের প্রসঙ্গ। ছবিতে অঞ্জলি নিজেই তাঁদের প্রেমের গল্প বলেন।

তাঁদের বিয়ের আসল ভিডিয়োও দর্শক এই ছবিতে দেখতে পাবেন। তারপর অবধারিতভাবেই আসে সচিনের জীবনের নানা উত্থান-পতনের গল্প।  সেই গল্পের ফাঁকে-ফাঁকে সচিনকে নিয়ে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন তাঁর স্ত্রী, মা, দাদা, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড়, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, বিরাট কোহলি, হরভজন সিংহ, ওয়াসিম আক্রম, ভিভ রিচার্ডস প্রমুখ অনেককে। নিজের সমস্ত ভাল-লাগা মন্দ-লাগা, নানারকম শারীরিক সমস্যার কথা ছবিতে সচিন নিজের মুখেই বলেছেন। ছেলে অর্জুন এবং মেয়ে সারার সঙ্গে সচিনের অনেক সুন্দর মুহূর্তও ছবিতে আমরা দেখতে পাই।

সচিনের জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিয়ো দেখানো হলেও পরিচালনা ও এডিটিংয়ের নৈপুণ্যে তা কখনওই একঘেয়ে হয়ে যায়নি। বরং ক্রিকেট যাঁরা ভালবাসেন, এই ছবি তাঁদের নস্ট্যালজিক করে তুলবেই তুলবে। ছবি শেষ হতে-হতে বোঝা যায়, এই ছবি শুধুই একটি ডকুমেন্টারি না হয়ে থেকে হয়ে উঠেছে এক ঝকঝকে ইন্সপিরেশন। ছবির একেবারে শেষে সচিনের রিটায়ারমেন্টের দৃশ্য দেখানো হয়। ঘটনাটা আমাদের সকলেরই জানা থাকলেও ছবিতে ঘটনাটার উপস্থাপনা দেখে চোখে জল আসতে বাধ্য।   এ আর রহমানের অনবদ্য সঙ্গীত নিয়ে আলাদা করে আর কিছু বলার নেই। সব মিলিয়ে ছবিটি সমস্ত রকম মার্কিংয়ের ঊর্ধ্বে, সেবিষয়ে দর্শকমাত্রই একমত হবেন। মাস্টারব্লাস্টারের অসংখ্য ইনিংসের মতোই এই ছবিটিও যে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

মৌমিতা সরকার