UnishKuri
Web-career.jpg
maidan_strip

হুমকি পোস্টারে খুন মেসি

ফিফার অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ হইহই করে শেষ হতে না হতেই বেজে উঠেছে আগামী বছর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা ফুটবল বিশ্বকাপের ডঙ্কা! আর সেই ডমরুধ্বনির নিনাদকে আরও বাড়িয়ে তুলতে কোনও কসুর রাখছে না জঙ্গি সংগঠন আইসিস-ও।

বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই অনলাইনে একের পর এক হুমকি পোস্টার রিলিজ় করছে এই উগ্র জঙ্গি সংগঠন। কোনও পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, স্টেডিয়ামের বাইরে বোমা-বন্দুক মজুত করে দাঁড়িয়ে আছে এক জঙ্গি, সঙ্গে পরিষ্কার ইংরেজিতে লেখা, ‘শুধু একটু অপেক্ষা করুন। পবিত্র যুদ্ধের যোদ্ধাদের আগুনে রাশিয়ায় থাকা আল্লার সমস্ত শত্রুকে পুড়িয়ে মারবই মারব!’ কোনও পোস্টারে আবার দেখা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের লোগোর পাশেই বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে এক জঙ্গি।

তবে এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে দু’টি পোস্টার, তাদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সেই পোস্টার দু’টির একটিতে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব ফুটবলের তারকা মেসির গায়ে কয়েদির পোশাক। তিনি দাঁড়িয়েও আছেন গরাদের ওপারে। ফোটোশপে তৈরি ছবিতে মেসির এক চোখ থেকে বেরিয়ে আসছে রক্ত। সঙ্গে ইংরেজিতে সাবধানবাণী, ‘তোমরা এমন এক দেশের বিরুদ্ধে লড়ছ, যাদের অভিধানে ব্যর্থতা শব্দটাই নেই।’ অন্য পোস্টারটি আরওই ভয়ানক। নিপুণ হাতের ফোটোশপে তৈরি সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক আইসিস জঙ্গি মাথা কাটতে যাচ্ছে তারকা খেলোয়াড় নেইমারের। পাশেই ধড়-মুণ্ড আলাদা হয়ে পড়ে আছে মেসির নিষ্প্রাণ দেহ। সঙ্গে আবারও হুমকি, ‘যতক্ষণ না মুসলিম দেশগুলো নিরাপত্তা পাচ্ছে, ততদিন তোমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।’

পোস্টারগুলোর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করছেন বটে, তবু ফিফা বিশ্বকাপের আকাশে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে ইতিমধ্যেই। উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন ক্লাব কর্তারাও। এর আগে এপ্রিলে একবার রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে ব্রিফকেস বোমা ফাটিয়েছিল আইসিস। সেবার মারা গিয়েছিলেন ১৪ জন। বিশ্বকাপের সময় একজন ফুটবলার কিংবা দর্শকের গায়েও যেন আঁচড়টুকুও না পড়ে, আপাতত সেটাই পাখির চোখ রাশিয়া সরকারের কাছে।

আবার সেরা কিদম্বি শ্রীকান্ত

চলতি বছরে তৃতীয়বার সুপার সিরিজ় খেতাব জিতলেন ভারতের ব্যাডমিন্টনের নতুন তারকা Kidambi Srikanth। ডেনমার্কে তাঁর সামনে হার মানতে বাধ্য হলেন কোরিয়ার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় Lee Hyun। শুধু হার মানলেন বললে অবশ্য কিছুই বলা হবে না। ২১-১০ ও ২১-৫ এর স্কোরলাইনের দিকে একবার তাকালেই বোঝা যাবে, কতটা একপেশে ভাবে হিউনকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন শ্রীকান্ত। ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে একই বছরে তিনটি সুপার সিরিজ় জেতার কৃতিত্ব এতদিন ছিল শুধুই সাইনা নেহওয়ালের। সেই তালিকায় এবার নাম ঢুকে গেল শ্রীকান্তরও।

চিনকে পিছনে ফেলল ভারত

এই প্রথমবার ফিফার কোনও অনুষ্ঠানের আসর বসেছিল ভারতের মাটিতে। এবং প্রত্যাশামতোই অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দর্শক নিয়ে আসতে সফল হয়েছে আমাদের দেশ। এবছর ছিল এই বিশ্বকাপের ১৭-তম বছর। ভারত পেরেছে এই বিশ্বকাপে দর্শকসংখ্যার গত ১৬ বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যেতে। আয়োজক দেশ হওয়ায় এবারই প্রথমবার ফিফার কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ভারত। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণ আয়োজিত হয়েছিল চিনে। সেবার সমস্ত টুর্নামেন্টের মোট দর্শকসংখ্যা ছিল ১২,৩০,৯৭৬ জন। এবছর সেই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১২,৮০,৪৫৯-য়। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১০ লক্ষেরও বেশি দর্শক-উপস্থিতি আর মাত্র একবারই হয়েছিল, মেক্সিকোতে। ২০১১ সালের সেই সংস্করণে দর্শকসংখ্যা ছিল ১০,০২,৩১৪ জন।

চিনে প্রথমবার যখন অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের আসর বসেছিল, সেবারই ম্যাচপিছু দর্শকসংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এবছর সেই হিসেবে ভারত ঠাঁই পেয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম সেই সংস্করণে ম্যাচ ও অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা— দুইই কম না হলে এই খেতাবও জুটত ভারতের কপালেই।