UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg

  কলকাতায় কি আর বৃষ্টি হবে না?  

গত ১০ দিনে একবারও কালবৈশাখীর মুখ দেখতে পায়নি শহর কলকাতা। আর কি কোনওদিনও পাবে? প্রশ্ন তুলে হাহাকার করলেন অচ্যুত দাস

কথায় বলে ‘ঘরপোড়া গোরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’। শহর কলকাতার মানুষের এই মরসুমে কাঠফাটা গরমে ঘরবাড়ি ইতিমধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি এখনও পেরয়নি বটে, কিন্তু অস্বস্তিতে কলকাতার মানুষকে নাকানিচোবানি খাওয়াতে কোনও কমতি রাখছেন না মাদার নেচার। কলকাতার আশপাশে অনেক জায়গাতেই কিন্তু কালবৈশাখী তার দাপট দেখিয়ে ফেলেছে এর মধ্যে অনেকবার। এমনকী গতকাল সন্ধেতেও বাঁকুড়া, খড়্গপুরের মতো অনেক এলাকাতেই শান্তি ও স্বস্তি এনে দিয়েছে তুমুল ঝড়বৃষ্টি। কিন্তু কলকাতার ভাগ্যে জুটেছে সামান্য ঠান্ডা হাওয়া।

গতকাল সন্ধেয় কলকাতার দু’-এক জায়গায় যেটুকু বৃষ্টি হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে পুজোর শেষে ঠাকুরমশাই শান্তিজল ছিটিয়ে দিচ্ছেন ভক্তদের মাথায়। ওই যে ফ্রিজ খুললে একঝলক ঠান্ডা হাওয়া এসে লাগে না চোখে-মুখে? গত ক’সপ্তাহে হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে যেন কলকাতা সংলগ্ন এলাকারা ফ্রিজ খুলে আইসক্রিম খাচ্ছে, আর কলকাতা সেই ফ্রিজের পাশে চুপটি করে হাতজোড় করে বসে আছে। ফ্রিজ খোলা হলে ওই একঝলক ঠান্ডা হাওয়াটুকুই তার প্রাপ্য।

কিন্তু ক্যানো ম্যান, ক্যানো?? কেন কলকাতার প্রতি এই অবিচার? আবহবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে না গেলে কালবৈশাখী না হওয়ারই কথা। পারদ ৪০ ডিগ্রির উপরে উঠছে না বলেই মাটি তেমন তেতে উঠতে পারছে না। ফলে গরম হতে পারছে না মাটির কাছাকাছি থাকা বাতাস। আর সামান্য ভূগোল যে ব্যাটা পড়েছে, সে-মাত্রেই জানে বাতাস যদি গরমই না হবে, তবে সে আর উপরে উঠবে কী করে? কী করে ঠান্ডা হবে?

কী করে জলীয় বাষ্পকে ঘনীভূত করে তৈরি করবে মেঘ? অগত্যা কলকাতার ভাগ্যাকাশে কিংবা আকাশের ভাগ্যে মেঘের দেখা নাই। যদি বা এক-দু’দিন একটু-আধটু মেঘ দেখাও গিয়েছে, সে-মেঘের মুরোদ হয়নি বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার। বরং মাথার উপর গ্যাঁট হয়ে বসে থেকে সে আরওই বাড়িয়েছে অস্বস্তি!

গত শনিবারের আগের শনিবার বেশ একচোট প্রাণ জুড়িয়ে দেওয়া কালবৈশাখীর মুখ দেখেছিল তিলোত্তমা কলকাতা। তারপর থেকে শুরু হওয়া এই তীব্র দাবদাহের শনির দশা কাটিয়ে আবার কবে ঝমঝম বৃষ্টির মুখ দেখবে কলকাতা? কবে আবার Lagaan ছবির ভুবনের পাড়াপড়শিদের মতো বৃষ্টি দেখে আনন্দে নেত্য করতে পাবে তেতেপুড়ে যাওয়া এই শহরের লোকজন? সে উত্তর আপাতত কারও জানা নেই।