UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg

 প্রেমদিবসে ফুলের বাহার 


প্রেম ও ফুল যেন একে অপরের পরিপূরক। মুখে কিছু না বললেও একটা ফুল দিয়েই তুমি তোমার প্রিয় মানুষটিকে সব মনের কথা বলে দিতে পার। আগামিকাল ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে। আর এই প্রেমের দিনে তুমি তোমার পার্টনারকে আর যা গিফ্‌ট দাও না কেন, একটা সুন্দর ফুল কিন্তু দিতেই হবে। প্রেম ও ফুল এই দুটোই আমাদের মনকে যেন ফুরফুরে করে দেয়। প্রেমের একটা প্রতীকই লাল গোলাপ। সারা বছর তোমার গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে যতই উপহার দাও না কেন, এই ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে-তে একটা লাল গোলাপ তোমাদের সম্পর্ককে করে তুলবে আরও রোম্যান্টিক। কিন্তু প্রেমদিবসে শুধুই কি লাল গোলাপ থাকবে? আমাদের চারপাশে এরকম আরও অনেক ফুল আছে যেগুলো প্রেমকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে। তাই এই ভালবাসার দিনে চলো এবার আমরা সেরকমই কিছু ফুলের অজানা প্রেমের কথা জানব।


লাল গোলাপ ফুল:
প্রেম বলতেই প্রথমেই আমাদের সকলের মাথায় এই লাল গোলাপের কথাই আসে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে গিফ্‌টে একটা লাল গোলাপ রাখতেই হবে। কিন্তু এই প্রেমের সঙ্গে লাল গোলাপের সম্পর্কটা কি? লাল গোলাপ আসলে একটি প্রেমের প্রতীক, যা প্রকাশ করে গভীর প্রেম, ভালবাসা, সৌন্দর্য এবং পারফেকশন। তাই এই প্রেমদিবসে রেড রোজ় ইজ় মাস্ট!

জারবেরা ফুল
জারবেরা ফুল: গোলাপ ছাড়াও এই প্রেমের মরসুমে বাজারে সবথেকে যে ফুল বেশি দেখা যায় সেটা হল জারবেরা। বিভিন্ন রংয়ের হয় এই ফুল যেমন লাল, হলুদ, সাদা, পিঙ্ক, মভ আরও অনেক রকমের। সুন্দর, নিষ্পাপ, মিষ্টি প্রেমের প্রতীক হল এই জারবেরা ফুল । তাই তোমার প্রেমের গভীরতা প্রকাশ করতে গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে একটি জারবেরা ফুল এবার নিশ্চয়ই দেবে।


টিউলিপ ফুল: তোমার পারফেক্ট প্রেমের প্রতীক হল টিউলিপ ফুল। ছোট সুন্দর কুড়ির মতো দেখতে এই ফুল বিভিন্ন রংয়ের হয় যেমন, লাল, গোলাপি, বেগুনি।


লিলি ফুল: আমাদের জীবনে সবকিছুরই একটা ক্লাস বা স্ট্যান্ডার্ড থাকে। তেমনই প্রেমেরও একটা পারফেক্ট ক্লাস থাকা দরকার। বিউটি, ক্লাসি ও স্টাইলিশ প্রেমকে বেঝাতে চাই এই লিলি ফুল। লিলি ফুল সাধারণত হালকা রংয়েরই হয়। তাই এইবছর প্রেমকে নতুনভাবে প্রকাশ করতে একগুচ্ছ লিলি ফুল তোমার গার্লফ্রন্ডকে দিতেই পার।


অর্কিড ফুল: আজকাল বাজারে প্রায় সারা বছরই নানা রংয়ের অর্কিড ফুল পাওয়া যায়। ঘর সাজাতে বা কোনও এথনিক পার্টি মেকআপে অনেকেই এই ফুল দিয়ে সাজগোজও করেন। কিন্তু শুধু তাই নয়, প্রেমেও কিন্তু এর অনেক মাহাত্ম্য আছে। প্রেমে তুমি কতটা কমিটেড সেটা প্রকাশ করে এই ফুল। তুমি তোমার প্রেমকে কতটা যত্ন করো এবং ভালবাসো, তারই প্রতীক এই ফুল।


সূর্যমুখী ফুল: আমরা হয়তো অনেকেই জানতাম না যে, এই সূর্যমুখী ফুলও প্রেমের একটি প্রতীক। ভালবাসা, তার উষ্ণতা এবং তোমার আনন্দ বোঝাতে এবং একটা সারপ্রাইজ় দিতে তোমার পার্টনারকে এইবছর প্রেমদিবসে একগুচ্ছ সূর্যমুখী ফুল দিতেই পার।


গার্ডেনিয়াস ফুল: এই ফুলটি সাধারণত সাদা রংয়ের হয় এবং গন্ধও খুব সুন্দর। প্রেমের শুদ্ধতা, গভীরতা বোঝায় এই ফুল। অনেকের বাড়িতেও এই ফুলগাছ আছে। বাজার থেকে নানারকমের বিদেশি দামী ফুল দিয়ে হয়তো এতদিন পার্টনার ইম্প্রেস করেছ, কিন্তু এবার একদম নতুন স্টাইলে নিজের প্রেমকে প্রকাশ করতে একটা গার্ডেনিয়াসই যথেষ্ট।


রানানকিউলাস: এই ফুলটি দেখতে অনেকটা গোলাপ ফুলের মতো, কিন্তু এর রং একটু হালকা হয়। এবং বেশিরভাগই প্যাস্টেল শেডের হয়। তোমার কাছে তোমার প্রেম কতটা আকষর্নীয় এবং কতটা উজ্জ্বল সেটা বোঝাতে এই রকম একটা একটা এক্সক্লুসিভ ফুল এই বছর ভ্যালেন্টাইন্‌স ডে –তে পার্টনারকে গিফ্‌ট করতেই পার।

ফুল নিয়ে নানারকম প্রেমের গল্প তো হল। এবার সিলেক্ট করার পালা তোমার, যে কোন ফুল তোমার প্রেমের জন্য পারফেক্ট। তাই আর দেরি না করে, এই বছর প্রেমদিবসকে আরও রোম্যান্টিক করে তুলতে তোমার পার্টনারকে উপহার দাও তোমার প্রেমের প্রতীক ফুলটি।




- – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – -

 Get Ready ফর বিয়েবাড়ি 

শীতকাল মানেই তো পরপর বিয়েবাড়ির নেমন্তন্ন। আর বিয়েবাড়ি মানেই সাজগোজ, আড্ডা, সেলফি, খাওয়াদাওয়া আর দেদার ফান। কিন্তু অনেকসময়ই কী জামা পরব তার সঙ্গে জুতো কী হবে, মেকআপ আর হেয়ারস্টাইল নিয়ে তো আরও নাজেহাল। তাই বিয়েবাড়ি যাওয়ার আগে তোমাদের রেডি করতে পুরো ওয়ার্ডরোব, স্টাইলিস্ট, মেকআপ আর্টিস্ট নিয়ে হাজির হলেন নবনীতা দত্ত ও পারমিতা মুখোপাধ্যায়
side-story-img01

- – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – - – -

 ফ্যাশন @ বিয়েবাড়ি 

আচ্ছা, বিয়েবাড়ি বললেই তোমার মাথায় প্রথম কী আসে? হইহুল্লোড়, সাজগোজ, দেদার মজা তাই তো? দাঁড়াও-দাঁড়াও, কিছু মিস করে গেলাম কি? ও হ্যঁা, ফ্যাশন। বিয়েবাড়ি যাবে আর ফ্যাশন করবে না তা আবার হয় নাকি? তবে এমনি সময়ের স্টাইলিংয়ের সঙ্গে বিয়েবাড়ির ফ্যাশনকে কিন্তু এক লাইনে দাঁড় করিয়ে দিলে হবে না। এই কোর্সটি কিন্তু একদম আলাদা। বিয়েরবাড়ির ভরা স্টেডিায়ামে স্পটলাইটটা যাতে থাকে তোমারই উপর তার জন্য তোমার পোশাক এবং স্টাইলিং হতে হবে সব থেকে নজরকাড়া। তাই জেনে নাও এই বিয়ের মরসুমে সকলের নজর কাড়তে কী-কী রাখতে হবে ওয়ার্ডরোবে…

 গার্লস কর্নার 

বিয়েবাড়ি মানেই জানা কথা, এথনিক ওয়্যারের পাল্লা ভারী। তবে আজকাল এথনিক বলতে শুধু শাড়ি বা লহঙ্গা নয়, এখন অপশন রয়েছে ভুঁড়ি-ভুঁড়ি…

side-story-img002

সালোয়ার বা চুড়িদার: সব থেকে ইজ়ি টু ওয়া্যর এথনিক পোশাক বললেই মাথায় আসে লং আনারকলি বা সিকুইনের কাজ করা মিড লেংথ সালোয়ার কামিজ়ের কথা। এই ট্রেন্ড গত বেশ কিছু ওয়েডিং সিজ়ন ধরেই বেশ ইন। এই শ্রেণিতে ‘জাস্ট ইন ট্রেন্ড’-এর মধ্যে সিম্পল কাজ করা হালকা গোলাপি বা অকোয়া জাতীয় কোনও রংয়ের পাটিয়ালা-কুর্তার সঙ্গে হেভি মিরর ওয়ার্ক করা দোপাট্টা বেশ হিট এখন। যে হেতু অন্যান্য এথনিকের চেয়ে এই পোশাক পরে চলাফেরা করা অনেক সহজ, তাই মেহেন্দি, সঙ্গীত, গায়ে হলুদ এক-একটা ফাংশনের জন্য বেছে নিতে এক-এক রকমের সালোয়ার, চুড়িদার বা আনারকলি। এই পোশাকে আলাদা করে নজর কাড়তে হলে দোপাট্টাটা রেগুলার স্টাইলের বদলে একটু অন্য স্টাইলে ড্রেপ করবে।

লহঙ্গা: একটা সময়ে ছিল যখন লহঙ্গা বিশেষত অবাঙালি বিয়ের অঙ্গ হিসেবেই দেখা হত। তবে এখন এই পোশাকটিকে আমরা বাঙালিরাও যথেষ্ট আপন করে নিয়েছি। কাছের কারও বিয়েতে লহঙ্গায় সেজে ওঠাই তাই এখন লেটেস্ট ট্রেন্ড। তবে কার বডি টাইপের সঙ্গে কোন লহঙ্গা বেশি মানাবে সেটা আগে বুঝে নেওয়া দরকার…

স্ট্রেট বডি টাইপ: বাস্ট আর হিপ্‌স মোটামুটি সমান মাপের হলে ঘেরওয়ালা লহঙ্গা তোমাদের জন্য বেস্ট। অথবা ফিশ টেল লহঙ্গা ট্রাই করতে পার। সঙ্গে ব্লাউজ়টি কুর্তি স্টাইলে না করে শর্টই রাখবে। এতে তোমাদের আরও কার্ভি দেখাবে।
পিয়ার শেপ্‌ড বডি: বাস্টের তুলনায় হিপ্‌স একটু চওড়া হলে এ-লাইন বা সার্কুলার লেয়ার্‌ড লহঙ্গা তোমাদের বডি টাইপের জন্য পারফেক্ট। তোমরা চোলির লেংথটা একটু লম্বা রাখতে পার। সঙ্গে স্লিভ্‌স-এর ক্ষেত্রে পাফ্‌ড স্লিভ্‌স (ঘটি হাতা) আপার বডি হাইলাইট করতে সাহায্য করবে।

আওয়ারগ্লাস বডি টাইপ: মোটের উপর তোমার বাস্ট এবং হিপ্‌স-এর মাপে সামঞ্জস্য থাকলেও কোমরটা যদি তুলনায় শরু হয় তাহলে তোমার আওয়ারগ্লাস ফিগার। এই বডি শেপকে অনেকেই আইডিয়াল বডি শেপের তকমা দেয়। তার প্রধান কারণ হল মোটের উপর যে কোনও পোশাকই তোমাদের ফিগারে ভাল মানাবে। ঘেরওয়ালা লহঙ্গা, ফিশ টেল বা মারমেড স্টাইল লহঙ্গা, এ-লাইন লহঙ্গা সবই ট্রাই করতে পার তোমরা।
অ্যাপেল বডি শেপ: উপরের বডি স্ট্রাকচার যদি লোয়ার বডির তুলনায় চওড়া হয় তাহলে ঘেরওয়ালা লেয়ার্‌ড লহঙ্গাই তোমাদের জন্য পারফেক্ট। পাড়ের কাছে হেভি এম্ব্রয়ডারি থাকলে সবচেয়ে ভাল। তবে ব্লাউজ়টা খুব কাজ করা না হয়ে প্লেন হলেই বেস্ট।

শাড়ি: এক কথায় এথনিক ঘরানার রানির আসনটি সেই কবে থেকেই দখল করে রেখেছে শাড়ি। ট্র্যাডিশনাল কোনও অনুষ্ঠান তা সে সরস্বতী পুজো হোক বা কলেজ পার্টি শাড়ি একাই স্টেজ কাঁপাতে ওস্তাদ! আর বিয়েবাড়ির জন্য বেশিরভাগ কন্যেদেরই প্রথম পছন্দ এই পোশাক। তবে সেই একঘেয়ে স্টাইলে আর নয়। এবার শাড়িতে সাজো একটু অন্য ভাবে। একটু-আধটু এক্সপেরিমেন্ট না করলে কি আর বিয়েবাড়ির শো-স্টপার হওয়া যায় নাকি!
আটপৌরে স্টাইল: বাঙালিরা আগেকার দিনে ডাব্‌ল আঁচল রেখে যে স্টাইলে শাড়ি পরতো সেটাকে বলে আটপৌরে স্টাইল।

লহঙ্গা স্টাইল শাড়ি: সাধারণ শাড়ির মতো কুচি দিয়ে নয়, কুচি ছাড়াই শাড়িটা পরে গুঁজে নাও। তারপর আঁচলটা সাধারণ ভাবেও দিতে পার, আবার সামনে থেকে (গুজরাটি স্টাইলেও) দিতে পার।

মারমেড স্টাইল শাড়ি: প্রথমে পেটিকোটের সঙ্গে একটা এন্ড গুঁজে নিয়ে একবার পেঁচিয়ে নাও। খুব নিচু করে শাড়িটা পড়তে হবে, যেন গোড়ালিটা টাচ করে। তারপর আঁচলটায় অনেকগুলো প্লিট করে নিয়ে ডান কাঁধের উপর দিয়ে পিছন থেকে সামনে নিয়ে এসো। আঁচলটা লম্বাই হবে। খুব বেশি হলে, মাটি থেকে চার ইঞ্চি উঁচুতে। হাফ অ্যান্ড হাফ বা কনট্রাস্ট লুকের শাড়ি দিয়ে এই স্টাইল করলে সবচেয়ে ভাল। আঁচলে হেভি ওয়ার্ক থাকলে দেখতে বেশি সুন্দর লাগবে। শাড়িটা পড়ার আগেই জুতোটা পরে নিয়ো মনে করে।

বাটারফ্লাই স্টাইল শাড়ি: এই ধরনের শাড়ি ড্রেপিংকে অনেকে বলিউড স্টাইল ড্রেপিংও বলে থাকে। নাভির নীচে থেকে শাড়িটাকে গুঁজে নিয়ে চিরন্তন স্টাইলেই শাড়িটা পড়ে নাও। তবে এখানে টুইস্টটা হল আঁচলে। খুব শরু করে প্লিট করে পিন করে নাও। কোমরের বেশ অনেকটা অংশ এতে দ্যাখা যাবে। তাই এই স্টাইল আপন করে নিতে চাইলে টোন্‌ড বডি কিন্তু মাস্ট! সিফন বা নেট শাড়ির সঙ্গেই এই স্টাইলটা সবচেয়ে ভাল ক্লিক করবে শাড়িটা। এর সঙ্গে স্টোন বা হেভি এমব্রয়ডারি কাজ করা ব্লাউজ় দারুণ মানাবে। ফুল স্লিভ বা স্লিভলেস, হাতার এই দু’টো অপশনই চলতে পারে।

রাজরানি স্টাইল ড্রেপিং: গুজরাটি স্টাইলে যেমন শাড়ি পড়ে সামনে আঁচল দিয়ে। তেমনই। তবে কুচিগুলো যেন ডানদিকে মুখ করা থাকে। আর সামনের আঁচলটা একটু বড় রেখে ‘ভি’ শেপ-এ দিতে হবে।

 চুলচর্চা 

বিয়েবাড়ির হেয়ারস্টাইল যে একটু আলাদা হবে, সেটা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। কিন্তু যা হোক একটা খোঁপা করে দৌড় মারলে চলবে না। তার জন্য একটু রিসার্চ করতে হবে বইকী! এখন হেয়ারস্টাইলের লেটেস্ট ট্রেন্ড কী, সেটা তো জানতে হবে। চলো দেখি কী-কী হেয়ারস্টাইল ট্রাই করা যায়।

বড় চুলে

সাইড ফিশটেল ব্রেড করতে পার। ঘ্যামা দেখাবে। লম্বা চুল ঝুলিয়ে রাখতে না চাইলে বিনুনির মধ্যেই ইন্টারলক প্যাটার্নে চুল ঘুরিয়ে খোঁপা করে নিতে পার। দেখতে ভাল লাগবে।
চুল যদি বেশ ভারী হয়, তাহলে ভাল করে সেট করে চুল খুলেও রাখতে পার।
একঘেয়ে খোলা চুলে বোর হয়ে গেলে কার্লার দিয়ে হালকা কার্ল করে নিতে পার। লম্বা চুলের শেষের দিকে হালকা কার্ল কিন্তু তোমার পুরো লুকটাই চেঞ্জ করে দিতে পারে।

মাঝারি চুল

মাঝারি চুল একটু ঝকমারি। একে তো এদের বেঁধে ভাল হেয়ারস্টাইল করা যায় না, খুলে রাখলেও ম্যানেজ করা মুশকিল হয়। তাই মাঝারি চুল ম্যানেজ করার কিছু টিপ্‌স রইল।
চুল স্ট্রেট বা কার্ল করে জাস্ট খুলে রাখতে পার।
পুরো চুলটা এক সাইডে ভাল করে কুম্ব করে নাও। এবার অন্যদিকে ক্লিপ লাগিয়ে চুলটা একদিকে খুলে রাখো।
মাথার উপর চুল ফুলিয়ে একটা পনি টেল করে নিতে পারো বা চুলটা টেনে পিছনে ফ্রেঞ্চ রোল করে সামনে ফ্রিঞ্জ খুলে রাখতে পারো।

ছোট চুল

চুল ছোট হলে বিয়েবাড়ির ১৫ দিন আগে চুলে একটা ভাল হেয়ারকাট করে নাও। বিয়ের দিন চুল সেট করে খুলে রাখো, দেখতে ভাল লাগবে।

বড়-মেজ-সেজ চুলের জন্য কয়েকটা হেয়ারস্টাইল করার টেকনিক দেওয়া হল। দ্যাখো তো কেমন লাগে…

 বিয়েবাড়ির মেকআপ 

বিয়েবাড়ি মানেই সাজগোজ আর সাজগোজ মানেই মেকআপ। মেকআপ শুরুর আগে মনে রাখবে যে, স্কিন ভাল থাকলে যে-কোনও মেকআপই সহজে বসবে এবং স্কিন যত ভাল হবে, মেকআপও তত ভাল হবে। তাই নিয়মিত ত্বকচর্চা করতেই হবে।

side-story-img05

মেকআপ শুরু করার আগে ভাল করে মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নেবে। এবার কোনও একটা ময়শ্চারাইজ়ার লাগিয়ে মিনিট দশেক অপেক্ষা করতে হবে।

ময়শ্চারাইজ়ারটা ভাল করে বসে গেলে ত্বকের খুঁত ঢাকতে কনসিলার লাগিয়ে নাও। তারপর প্রাইমারের বেস করে শুরু হবে মেকআপ।

আইশ্যাডোর রং বাছবে পোশাকের রংয়ের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। তবে আজকাল রঙিন আইশ্যাডোর চেয়ে চোখের উপর-নীচে মোটা করে কাজল লাগানোটাই ইন। তবে বিয়েবাড়ি বা পার্টিতে যে কাজল লাগাবে সেটা হতে হবে স্মাজফ্রি আর ওয়াটারপ্রুফ। নাহলে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই কাজল ঘেঁটে একেবার ভূতের মতন চেহারা যেমন লাগবে কিন্তু!

বিয়েবাড়ির মেকআপ যখন, লিপস্টিক তো মাস্ট। কিন্তু কী রং লাগাবে ঠোঁটে? তার জন্য জেনে নাও লিপকালারের লেটেস্ট ট্রেন্ড। ডার্ক মারসালা, ব্রিক রেড, কোরাল রেড, রাইপ বেরি, ট্যাঞ্জারিন ও ফাইন ওয়াইন শেড এখন ইন কালার। আর কিছু না পেলে পিঙ্ক তো অলওয়েজ় ইন।

ব্লাশারে গোল্ডেন, সিলভার আর বেইজ রংই কিন্তু সেরা দেখায় বিয়েবাড়িতে। বেশি গাঢ় রংয়ের ব্লাশার লাগালে স্কিনের স্বাভাবিক কমপ্লেকশন চাপা পড়ে যেতে পারে। তাই গাদাগুচ্ছের ব্লাশার লাগিয়ে বসে থেকো না।

 গয়নার বাক্স… 

গর্জাস পোশাক আর দারুণ মেকআপ, সবই হল। তা বলে কি তোমার সাজ কমপ্লিট? না, তোমার বিয়েবাড়ির লুক কমপ্লিট করতে জুয়েলারির একটা বড় ভূমিকা রয়েছে সেটা ভুলে গেলে চলবে কী করে? আজকাল টিনেজারদের জুয়েলারির কালেকশন বেশ ভালই থাকে। তবে সেটা তোমার পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করার কাজটা কিন্তু তোমাকেই করতে হবে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে। যে হেতু বিয়েবাড়িতে এথনিকের পাল্লাই বেশি ভারী থাকে, তাই এথনিক জুয়েলারির দিকে ঝুঁকতে পার। আজকাল যেমন সিলভার জুয়েলারি বেশ ইন। তবে পোশাক যদি হলুদ বা গোল্ডেন ঘেঁষা হয় তা হলে কিন্তু কুন্দন ট্রাই করতে পার। ব্যঙ্গল্‌স, নেকলেস, রিং, কানেরদুল যাই পরো না কেন, সব কিছুর মধ্যে একটা সামঞ্জস্য রাখতে হবে। সব আছে বলে সব পরে ফেললাম এই ধারণায় চললে কিন্তু স্টাইল কোশেন্ট অনেকটাই কমে যাবে। আরও একটা বিষয় খুব জরুরি। তোমাকে কোন পোশাকের সঙ্গে কী জুয়েলারি মানাবে? এই কনসেপ্টটা ঠিক থাকলে বিয়েবাড়ি হোক বা যে কোনও অনুষ্ঠানে তুমিই একবাক্যেই থাকবে হিট…

রাউন্ড ফেস হলে ইয়ারিংস হবে ছোট। আর নেকলেস-এর ক্ষেত্রে ‘ভি-শেপ্‌ড’ কিছু তোমাদের প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। গোল্ডেন বা স্টোনস্টাডেড কিছু ভাল মানাবে তোমাদের।

শাড়ি, সালোয়ার বা লহঙ্গা যার সঙ্গেই ব্যাঙ্গল্‌স পরো, কালার কো-অর্ডিনেশনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ম্যাচ করে পরতে পার বা পুরোপুরি কনট্রাস্টের পথেও হাঁটতে পার। মাঝামাঝি কোনও রাস্তা না বাছাই ভাল। কাচের চুড়ি এখন খুব একটা ইন নয়, বরং হ্যান্ড কাফ স্টাইলের কিছু ট্রাই করো। চওড়া ব্যাঙ্গেল পরলে কিন্তু এক হাতেই পরো।

বিয়েবাড়িতে ‘টিকলি’টা খুব ভাল লাগে। তবে শাড়ি বা সালোয়ারের চেয়ে বেশি লহঙ্গার সঙ্গেই বেশি মানায়।

 মেহেন্দি 

এই জিনিসটা কিন্তু বিয়ের সিজ়নে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের সিজ়নে তোমার ইম্পর্ট্যান্ট বিয়ের ডেটের একটা লিস্ট বানিয়ে নাও। সেই অনুযায়ী মেহেন্দি প্ল্যান করবে। হয়তো দেখা গেল একটা বিয়েতে হাতভর্তি সুন্দর মেহেন্দি পরে গেলে আর তার পরেই একটা বিয়েতে আধখাওয়া মেহেন্দি হাতে গেলে। তখন কিন্তু মোটেই দেখতে ভাল লাগবে না। তাই তোমার কাছে যার বিয়ে ইম্পর্ট্যান্ট সবসময় সেই বিয়ের আগের দিন মেহেন্দি পরবে। মেহেন্দি উঠতে মোটামুটি ৮-১০ দিন সময় লাগে। কথাটা মাথায় রেখো। তাই পরপর অনেকগুলো ভাল বিয়েবাড়ি যদি ৪-৫ দিনের গ্যাপে পড়ে। তাহলে মেহেন্দি না লাগানোই ভাল। কিন্তু মেহেন্দি করলে, কীভাবে করবে সেটা এবার দেখে নেব।

 কী করব 

মেহেন্দি করতে বসার আগেই বাথরুমে যাওয়ার থাকলে ঘুরে আসব।

হালকা ও কোনও জামা পরে মেহেন্দি করতে বসবে।

মেহেন্দি করার আগে কেমন ডিজ়াইন করতে চাও, সেটা মেহেন্দি আর্টিস্টকে ভাল করে বুঝিয়ে বলবে। যদি কোনও মেহেন্দি কপি করতে চাও, তাহলে সেই মেহেন্দির ডিজ়াইন নিজের সঙ্গে নিয়ে মেহেন্দি করতে বসবে। ইন্টারনেট থেকেও পছন্দের মেহেন্দি ডিজ়াইন ডাউনলোড করে নিতে পারো।

মেহেন্দি করা আগে কত খরচ হবে জিজ্ঞেস করে নেবে, কারণ মেহেন্দি করার সময় যদি তুমি আরও কিছু করাতে চাও, তাহলে খরচ বাড়বে কিনা বুঝতে পারবে। মেহেন্দি করতে বেশ খানিকক্ষণ সময় লাগে। তাই আরামদায়ক কোনও জায়গা দেখে বসবে।

চুল বেঁধে মেহেন্দি করতে বসবে। কারণ মেহেন্দি করতে ও শুকোতে অনেক সময় লাগে। মেহেন্দি করাকালীন চুল এসে চোখে-মুখে বা হাতে পড়লেও সরাতে পারবে না। তাহলে মেহেন্দি ঘেঁটে যাবে। চেষ্টা করবে, রাতে মেহেন্দি করার। মেহেন্দি করার পর শুকিয়ে গেলে ঘুমিয়ে পড়বে।

 কী করব না 

মেহেন্দি করার আগে বা সেই দিন হাতে বেশি ময়শ্চারাইজ়ার বা ক্রিম লাগাবে না।

মেহেন্দি করার পর অন্ততপক্ষে ১২ ঘণ্টা জল লাগাবে না।

মেহেন্দি করার পর শুকিয়ে গেলেই খুঁটে-খুঁটে জমাট মেহেন্দি তুলে ফেলবে না। মেহেন্দি শুকোতে আরও খানিকটা সময় দাও। মেহেন্দি শুকিয়ে আসার দু’ঘণ্টা পর হাত ঘষে শুকনো মেহেন্দি তুলে ফেলতে পার। কিন্তু জল বা সাবান লাগাবে না।

অনেকেই মেহেন্দি তাড়াতাড়ি শুকনোর জন্য ব্লো-ড্রাই করে। কিন্তু এটা একেবারেই করবে না। ব্লো ড্রাইতে মেহেন্দি ঘেঁটে যেতে পারে আর হাতও অতিরিক্ত শুকনো দেখাবে। তার চেয়ে বরং একটা চাটুর উপর লবঙ্গ রেখে সেটা গ্যাসে বসিয়ে গরম করে তার উপর হাত সেঁকে-সেঁকে শোকাতে পারো। এতে মেহেন্দির রংও অনেক গাঢ় হবে।

মেহেন্দি করার পরেই লেবুর রস আর চিনি লাগাবে না। অনেকেই মেহেন্দির রং গাঢ় করার জন্য এই ভুল টিপ্‌স কাজে লাগায়। কিন্তু এতে মেহেন্দি আরও হালকা হয়ে যায়। কারণ পাতিলেবুর রসে মেহেন্দি হালকা হয়ে আসে। শোকায় না। লেবুর রস ও চিনিতে হাত চিটচিটে হয়ে যায়। তাই তাড়াতাড়ি জল দিয়ে হাত ধুতে হয়। তাই এই পদ্ধতিটা একেবারেই অ্যাপ্লাই করবে না।

 জুতো জমজমাট 

জুতোবাবাজি কিন্তু ভারী দুষ্টু। জুতো কেনার সময় ভাল করে না দেখেই হয়তো কিনে ফেললে, তারপর বিয়েবাড়িতে পায়ে ব্যথায় জুতো পড়ে একেবারে নাজেহাল অবস্থা হল তোমার। তাই জুতো কেনার আগে কয়েকটা কথা ভাল করে মাথায় ঢুকিয়ে নাও।
প্রথমেই বলব, যতই পছন্দ হোক, অনলাইনে জুতো কিনতে যেয়ো না। সবসময় জুতো পায়ে পরে দেখে কিনবে। জুতো পরে দাঁড়িয়ে দেখে নেবে জুতো টাইট হচ্ছে কিনা। বেশি টাইট জুতো একেবারেই কিনবে না। খেয়াল রাখবে জুতো পরে হাঁটাচলার সময় গোড়ালির কাছে লাগছে কিনা আর পায়ের বুড়ো আঙুল আর পাশের আঙুল সোজা আছে কিনা।

তোমার পায়ের সাইজ় কত? ৫? ধরো, তোমার পায়ের সাইজ় ৫। তার মানে এই নয় যে, সব দোকানেই ৫ নম্বর সাইজ়ের জুতোই তোমার পায়ে ঠিকঠাক ফিট হবে। বিভিন্ন দোকান ও ব্র্যান্ডের উপর নির্ভর করে জুতোর সাইজ় পালটাতে থাকে। তাই যে দোকান থেকে জুতো কিনবে, সেই দোকানদারকে তোমার পা মেপে জুতো দেখাতে বলবে।

বিয়েবাড়িতে কী পোশাক পরছ, সেটা মাথায় রাখবে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতো কিনবে। বিয়েবাড়িতে হয়তো সিলভার পাড়ের একটা শাড়ি পরবে, এদিকে জুতো কিনতে গিয়ে একটা ভীষণ সুন্দর গোল্ডেন জুতো কিনে ফেললে! তাহলে কিন্তু পুরো সাজ ভন্ডুল হয়ে যাবে।

পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মানানসই রংয়ের জুতো কিনতে পারো। এখন রঙিন জুতো বেশ ইন।

জুতো দেখতে সুন্দরের চেয়েও কতটা কমফর্টেব্‌ল সেটা দেখে কিনবে। কারণ বিয়েবাড়িতে বেশিরভাগ সময়ই দাঁড়িয়ে বা ছোটাছুটি করে কেটে যায়। যেখানে পায়ের উপরেই বেশিরভাগ সময়টা ভরসা করতে হবে, সেখানে জুতো তো ভাল হতেই হবে।

বিয়েবাড়িতে বা রিসেপশন পার্টিতে হিলতোলা জুতো কেনাই ভাল। কারণ বিয়েতে আমরা সাধারণত একটু লং পোশাক, সালোয়ার বা শাড়ি পরে থাকি। এই ধরনের পোশাকের সঙ্গে ফ্ল্যাট একেবারে মানাবে না। তাই হিল কেনার চেষ্টা করবে।

অনুষ্ঠানের অন্তত ১৫ দিন আগে জুতোটা পরতে শুরু করবে। একটা জুতো পায়ে বসতে অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগে। তাই আগে থেকেই জুতোটা পরে হাঁটাচলা করতে হবে। তার সঙ্গে উপরি ফল হিসেবে তুমি বুঝতেও পেরে যাবে জুতোটা তোমার পায়ে কতটা আরামদায়ক।

যতই দেখেশুনে জুতো কেনো না কেন, বিয়েবাড়িতে নতুন জুতো ঝামেলা বাঁধাতেই পারে। খুব খারাপ হলে জুতোটা ছিঁড়েও যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে একটা অতিরিক্ত জুতো ক্যারি করবে। সেটা সম্ভব না হলে একটা ভাল আঠা ক্যারি করবে, যাতে জুতো ছিঁড়ে গেলে সঙ্গে-সঙ্গে ফিক্স করে ফেলতে পারো।

ছেলেদের একটা কথা বিশেষ করে বলব যে, জুতো কেনার আগে জুতোর কোয়ালিটি দেখে নেবে। জুতোর চামড়া খারাপ হলে দুর্গন্ধ বেরয়। জুতো পরার আগে সবসময় সুগন্ধযুক্ত পাউডার বা ডিও মেখে নেবে। জুতোর সঙ্গে-সঙ্গে একটা নতুন মোজাও কিনে রাখবে। কারণ পুরনো মোজা পরলে তাতে কিন্তু বিশ্রী গন্ধ বেরবে।

পায়জামা, পাঞ্জাবি পরলে তার সঙ্গে কোলাপুরি জুতো পরলেই দেখতে ভাল লাগে। কোলাপুরি পরার ইচ্ছে না থাকলে হালকা কোনও রংয়ের কিটো পরতে পারো।

 ওয়েডিং ফোটো 

আমরা অনেকেই এমনভাবে ফোটো তুলি যাতে, আমাদের শাড়ি, গয়না, সাজ সব যেন পারফেক্ট আসে ছবিতে। আর সেখানেই ফোটোটা খারাপ হয়ে যায়। তাই ছবি তোলা মানেই কিন্তু সটান হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়া নয়। বরং কয়েকটা টুকরো টিপ্‌স মাথায় রেখে নিজের ভাল ছবির অ্যাঙ্গেলটা বুঝতে শেখো।

side-story-img03

নিজের মুখের কোনদিকটা ছবিতে ভাল আসে, সেটা আগে ছবি তুলে দেখে রাখো। বিয়েবাড়িতে গিয়ে ছবি তোলার সময়, মুখের সেই দিকটা ক্যামেরার দিকে রেখে অ্যাঙ্গেল নিয়ে ছবি তোলো।

সোজা দাঁড়িয়ে ছবি তোলার চেয়ে একটু বেঁকে কোণাকুণি দাঁড়ালে ছবিতে অনেক রোগা লাগে।

গ্রুপ ফোটো তোলার সময় মনে রাখবে সকলের কেমিস্ট্রিটাই কিন্তু ছবির আসল সাবজেক্ট। তাই সকলে মিলে লাইন দিয়ে না দাঁড়িয়ে, কয়েকজন সামনে বসে পড়তে পার। এমনকী এক কাত হয়ে হাতে মাথা দিয়ে আধশোয়া পজ়িশনও কোনও ছেলে কিন্তু আরামসে নিয়ে নিতে পারে। মেয়েরা পাউট করে বা জিভ ভেঙচে নানারকম কিউট পোজ় ট্রাই করতে পার, এতে আলাদা করে তোমায় কেমন লাগবে জানি না, তবে ছবিটা কিন্তু ঘ্যামা হবে।

অনেকেই ছবি তোলার সময় দাঁত চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। হয়তো সামনের দাঁত একটু উঁচু বা ঠোঁটের শেপ একটু বাঁকা বা দাঁতের মাঝে একটু গ্যাপ। ব্যস! সঙ্গে-সঙ্গে ক্যামেরা ক্লিক করার দু’সেকেন্ড আগে হলেও প্রাণপণে ঠোঁট চিপে ধরলে আর সেখানেই পুরো ছবিটা নষ্ট হয়ে গেল। সবসময় ক্যামেরার সামনে নিজেকে প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা করো। হাসলে মোটা দেখাক, বাজে দেখাক… ইত্যাদি যা-ই তোমার মনে হোক না কেন, ক্যামেরার সামনে হাসি ইজ় মাস্ট। হালকা হাসতে পার, প্রাণ খুলেও হাসতে পার, কিন্তু হাসতে হবে। নিজেই নিজের দু’টো সেলফি তুলে দেখে নাও, না হাসলে নাকি হাসলে বেশি ভাল দেখায়। হাসি সবসময় ছবিতে প্রাণ এনে দেয়। ফলে ছবি আপনা থেকেই জীবন্ত হয়ে ওঠে।

এবার যদি মনে হয় তোমায় হাসলে ভাল দেখায় না। তাহলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্মাইল করে দেখে নাও, ঠিক কতটা হাসলে তোমায় ভাল দেখায়। মাপটা মনে রেখে কয়েকবার অভ্যেস করে নাও। ক্যামেরার সামনে পোজ় দেওয়ার সময় সেই হাসিটা ঠোঁটে লাগিয়ে নাও। সে চিজ়জ়জ়জ়!

তৈলাক্ত ত্বক হলে দেখবে ছবিতে মুখের বিভিন্ন জায়গা বিশেষত টি-জ়োন অত্যন্ত বেশি চকচক করে এবং ছবিটা নষ্ট করে দেয়। তাই যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা টিসু পেপার হাতে রাখবে। ছবি তোলার আগে মুখের তেলটা আস্তে-আস্তে ড্যাব করে তুলে নিতে হবে।
এবার হল আলোর পালা। তোমার ক্যামেরা বা মোবাইলে ফ্ল্যাশ থাকুন ছাই না থাকুক, কোনও চাপ নেই। বিয়েবাড়িতে অনেক আলো থাকে। তাই ছবি তোলার সময় সেই আলোটা নিজের মুখে যাতে থাকে, সেদিকে খেয়াল রেখো।

মুখের কাছে ক্যামেরা এনে সেলফি তোলার বৃথা চেষ্টা কোরো না। আলু-কুমড়োর মতো ঢাউস ফুলো-ফুলো মুখ মোট্টেও ভাল দেখায় না। তার চেয়ে সেলফি স্টিক ব্যবহার করে বা হাতটা যথাসম্ভব দূরে রেখে সেলফি তোলো।

ফোটো তোলার সময় অনেকে এমনভাবে শাড়ি বা ওড়নাটা নেয়, যাতে আরও মোটা দেখায়। তাই ছবি তোলার আগে কোনদিক ক্যামেরার দিকে থাকলে রোগা লাগবে, সুন্দর দেখাবে সেটা মাথায় রাখতে হবে।

লাস্ট বাট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপ্‌স হল, বিয়েবাড়িতে গিয়েই তাড়াতাড়ি যা ছবি তোলার তুলে ফেলবে। যত দেরি করবে, তত কিন্তু মেকআপ, হেয়ার আস্তে-আস্তে নষ্ট হতে থাকবে। তাই আফটার মেকআপ বিয়েবাড়িতে পৌঁছেই ভাল করে ছবি তুলে নেবে।

 নাচো-গাও, ধুম মাচাও!  

বিয়েবাড়ি বললেই প্রথমেই মাথায় কী আসে? হুল্লোড় আর ফাটাফাটি মস্তি। তাই তো? বিয়েবাড়ি মাতিয়ে তোলা বা আসর জমিয়ে তোলার দায়িত্বটি কিন্তু থাকে উনিশ-কুড়িদের কাঁধেই! বিয়েবাড়িতে আলাদা-আলাদা অনেকগুলো ফাংশন থাকে। যেমন আজ বাঙালি বিয়ের ক্ষেত্রেও আজকাল মেহেন্দি বা গায়ে হলুদের মতো অনুষ্ঠানও বেশ ধুমধাম করে পালন করা হয়। সেই সব অনুষ্ঠানের জৌলুস আরও বাড়াতে কোন-কোন গান বাজানো চাই-ই-চাই, আইডিয়া নেই নিশ্চয়ই? তা হলে তোমার হাতের মুঠোয় রাখো এই ‘ওয়েডিং পারফেক্ট প্লেলিস্ট’…

মেহেন্দি: বলিউড স্টাইলে মেহেন্দির অনুষ্ঠানটি মাতিয়ে তুলতে ‘মেহেন্দি’ যে সব সংস স্টেজ কাঁপাচ্ছে, তারা হল:

মেহেন্দি নি মেহেন্দি (হর্ষদীপ কৌর-এর গাওয়া), মেহেন্দি হ্যায় রচনেওয়ালি (ফিল্ম: জ়ুবেদা), আর হ্যঁা, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’র ‘মেহেন্দি লগা কে রাখনা’ গানটি যেন মিস করলে চলবে না।

সঙ্গীত: বাঙালি বিয়েতেও আজকাল অবাঙালিদের এই ট্রেন্ড বেশ আপন করে নিচ্ছে লোকজন। বিশেষ করে সঙ্গীতের জন্য হোক বা এমনি বিয়ের আসর কাঁপাতে এই গানগুলো রেখো তোমার সংগ্রহে… ‘নবরাই মাঝি’ (ইংলিশ ভিংলিশ), ‘মাহি ভে’ (কাল হো না হো), ‘গল মিঠি মিঠি বোল’ (আয়েশা), ‘সসুরাল গেন্দা ফুল’ (দিল্লি ৬), ‘কজরা মহাব্বত ওয়ালা’ (তনু ওয়েড্‌স মনু), ‘লন্ডন থুমকডা’ (কুইন), ‘চিটিয়া কলাইয়া’ (রয়), ‘বন্নো তেরা সোয়াগ্যার’(তনু ওয়েড্‌স মনু রিটার্নস)
বরযাত্রী: বলিউড সিনেমার মতো ‘বারাত’ কনসেপ্টটা আমাদের নেই থাকলেই বা ক্ষতি কী? ‘বরযাত্রী’ কনসেপ্টটাই বা কম কীসের? বরযাত্রীদের মাতিয়ে তুলতে ‘ফট্টে তক নাচনা’ (ডলি কি ডোলি), ইসকি-উসকি (টু স্টেট্‌স), অভি তো পার্টি শুরু হুই হ্যায় (খুবসুরত), রাধা (স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার), লোচা-এ-উলফত (টু স্টেট্‌স) মতো গান তো রয়েইছে।

বরযাত্রী: বলিউড সিনেমার মতো ‘বারাত’ কনসেপ্টটা আমাদের নেই থাকলেই বা ক্ষতি কী? ‘বরযাত্রী’ কনসেপ্টটাই বা কম কীসের? বরযাত্রীদের মাতিয়ে তুলতে ‘ফট্টে তক নাচনা’ (ডলি কি ডোলি), ইসকি-উসকি (টু স্টেট্‌স), অভি তো পার্টি শুরু হুই হ্যায় (খুবসুরত), রাধা (স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার), লোচা-এ-উলফত (টু স্টেট্‌স) মতো গান তো রয়েইছে।

 প্রেম @ বিয়েবাড়ি 

বিয়ে বাড়ি মানেই হালকা ঝারি, বাসরঘরে প্রেম… এমন গল্প তো আকছার শোনা যায়। কে বলতে পারে, সামনের বিয়েবাড়িটিতেই গিয়েই তুমি দেখা পেয়ে গেলে তোমার স্বপ্নের রাজপুত্র বা রাজকন্যের! তবে কী করে যে মুহুর্তে বোঝাবে তাকে আর বুঝতে পারছ না! চিন্তা কীসের পাশে যখন আছে ১৯ ২০…

side-story-img004

অ্যাটেনশন ভাল তবে সারাক্ষণ যদি তার পিছনে ঘুর-ঘুর করতে বা ঝারি মারতে থাকো, তা হলে সে কিন্তু তোমায় কেস খাইয়ে দিতে পারে। তাই একটু সামলে ভায়া। প্রথমে একটু-আধটু জুসের গ্লাস এগিয়ে দাও বা জাস্ট সাধারণ হাই-হ্যালো দিয়ে শুরু করো। যা করবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

নেক্সট স্টেপ হল একসঙ্গে হ্যাঙ্গআউট করা। বিয়েবাড়িতে একটু চেষ্টা করলে এমন সুযোগ পাওয়া কঠিন নয়। সেখানেই বন্ধুত্বটা এককাঠি বাড়িয়ে নাও। ছেলেদের বলব, সবসময় ‘বি আ জেন্টেলম্যান’। মেয়েরাও ‘ডোন্ট রাশ’। ‘তার’ যেন কখনই না মনে হয় তুমি তাকে খুব করে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছ।

তার সঙ্গে কয়েকটা মুহুর্ত আলাদা করে কাটাও। সিচুয়েশন অনুযায়ী, একটু বুদ্ধি খাটিয়ে তোমাকেই সেই সুযোগটা বের করে নিতে হবে। সে বরের জুতো লুকোনোর ছুতোয়েই হোক না কেন। কপাল জোরে এমন সুযোগ পেয়ে গেলে কৌশলে তার সঙ্গে নাম্বার একচেঞ্জ করে নাও। এমনটা না হলে তার প্রোফাইল নেমটা জেনে নিয়ে ফেসবুকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দাও।

বিয়েবাড়ির আসরে এই বেসিক সেটিংটা হয়ে গেলে, তাকে আরও ভাল করে জেনে-বুঝে নিয়ে বাকি প্রেমপর্বটা নিজের দায়িত্বেই বিন্দাস এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

 ‘বাসর’-এর আসর… 

এই অনুষ্ঠানের পালা বিয়ের সব অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর। তাই মোটের উপর সবাই একটু ক্লান্তই থাকে। সেই ক্লান্ত পরিবেশকে চনমনে করে তোলার দায়িত্বও তো উনিশ-কুড়িদেরই। আর যেহেতু বড়দের প্রবেশ এখানে নিষিদ্ধ, তাই স্বাধীনতা অনেক বেশি! একে অপরের পিছনে লাগা থেকে শুরু করে প্রেমে পড়া বা নতুন কনেকশন সবই হতে পারে এই আসরে। বাসরের আসর মানেই দেদার খুনসুটি করার ফ্রি লাইসেন্স তো রয়েছেই।

বাসরঘরের মজার খেলা: প্রথমে যারা-যারা আছে, সকলকে দু’দলে ভাগ করে নাও। বর পক্ষ এবং কনে পক্ষ। তারপর মজার-মজার গেম্‌স খেলতে পার। যেমন, ‘বলো তো কি ভাবছি’। নামটা শুনে অবাক লাগল তো? আসলে খেলাটা হল, এক পক্ষের প্রতিনিধি কোনও একটা জিনিসের নাম মনে-মনে ভেবে অপর পক্ষকে একটা ক্লু দেবে। সেই পক্ষ প্রতিনিধিকে ১০টা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারবে যা দিয়ে তারা আসল শব্দটি ধরে ফেলতে পারবে, তবে সেই প্রতিনিধি উত্তরে শুধু ‘হ্যঁা’, ‘না’ ছাড়া কিছু বলতে পারবে না। এছাড়া,‘পাসিং দ্য পিলো’ বা ‘ট্রুথ অ্যান্ড ডেয়ার’ তো রয়েইছেই। তাছাড়া, ‘ফেক প্রোপোজ়াল’ গেমটিও খেলতে পার। যেখানে তোমার পছন্দের কন্যেটিকে খেলার ছলেই প্রপোজ় করবে। যদি সে ইমপ্রেস হয় সে তোমাকে একটা গোলাপ ফুল দেবে। গেমটি খুব মজার কত লাভস্টোরি শুরু করার কৃতিত্ব রয়েছে এর মাথায়।

বাসরঘরের প্লেলিস্ট: নিজেদের গান গাওয়া তো রয়েছেই। তাছাড়া, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজ়িক হিসেবে বা ডান্স করার জন্য সফ্‌ট মিউজ়িকেরই বেশি দর থাকে চিরকাল। সেক্ষেত্রে, ‘তুম সে হি’ (জব উই মেট), ‘পহ্‌লি নজর মে’ (রেস), ‘ম্যায় বারি যাওয়া’ (তেরে নাল লভ হো গ্যায়া), জ়হনসিব (হসি তো ফসি), তুম হি হো (আশিকি ২), মস্ত মগন (টু স্টেট্‌স) এর মতো বেশ দারুণ কিছু অপশন রয়েছে।

উপহার 

এটা কিন্তু বেশ চাপের জিনিস। বন্ধুর পছন্দ, তোমার পছন্দ, তার সঙ্গে পকেটের রেস্ত সবকিছু মিললে তবে গিয়ে একটা মনের মতো উপহার পাওয়া যায়। তাই গিফ্ট কেনার সময়, যার বিয়ে, তার পছন্দ সবসময় মাথায় রাখবে। যদি বন্ধুবান্ধবের বিয়ে হয় তাহলে তো জিজ্ঞেস করে নেওয়াই যায় যে কী দেবে। তাছাড়া নানারকম ইউনিক আইডিয়া থাকল তোমাদের জন্য

কাছের বন্ধু হলে বিয়েতে ভাল লঁজারি দিতে পার। বিয়ের সময় এরকম জিনিস খুব ইচ্ছে হয় ভাল দেখে কেনার। কিন্তু ভাল লঁজারির দামও ভাল হয়। তাই কাছের বন্ধুরা মিলে একটা দারুণ দেখে লঁজারি গিফ্ট করলে কিন্তু হবু দম্পতি বেশ খুশিই হবে।
অনেকজন বন্ধু মিলে যদি গিফ্ট দাও তাহলে টাকা তুলে অনেক রকম আইটেমই কিনতে পার। ভাল বেডকভার, ডিনার সেট থেকে শুরু করে আরও সুন্দর-সুন্দর গিফ্ট পেয়ে যাবে।

বন্ধুরা মেলে ভীষণ সুন্দর ভাল কোনও হোটেলে লাক্সারি সুইট বুক করে দিতে পার বা হনিমুন ডেস্টিনেশনের টিকিট গিফ্ট করা যেতে পারে।

যাদের বিয়ে তারা যদি ঘুরতে যেতে ভালবাসে, তাহলে একটা ভাল দেখে ট্রলি ব্যাগও থাকতে পারে লিস্টিতে।

এ ছাড়া শাড়ি, জুয়েলরি, ব্লেজ়ার, ইলেকট্রনিক আইটেম্‌স, কসমেটিক্স সেট ইত্যাদি তো থাকছেই হাতে। ইচ্ছেমতো যে-কোনও একটা পছন্দ করে কিনে ফেললেই হল।
তবে যার গিফ্ট কিনছ, তার পছন্দটা অবশ্যই মাথায় রেখো, কারণ এই উপহারটা সেই ভবিষ্যতে ব্যবহার করবে। শুধু গিফ্ট কিনলেই হল না, সেটাকে ভাল করে র্যাপ করার কথা ভুলো না কিন্তু। গিফ্টের উপরে সুন্দর একটা কার্ড সেঁটে তাতে দু’চার লাইন লিখে দিলে ব্যাপারটা এক্কেবারে জমে যাবে।

 বিয়েবাড়ির ব্যাগে মাস্ট হ্যাভ্স 

টিসু পেপার, চিরুনি, একটা ছোট কমপ্যাক্ট, লিপস্টিক, ছোট্ট একটা আয়না, কিছু পরিমাণ টাকা, রুমাল, ডিও, মাউথফ্রেশনার, কয়েকটা সেফ্টপপিন আর হেয়ার ক্লিপ, একটা ছোট আঠার টিউব আর যে রংয়ের টিপ পরবে, সেই টিপের একটা পাতা। মনে রাখবে, ব্যাগে যা-ই নেবে, সেটা যেন ছোট আকারের হয়।

 খুচরো টিপ্‌স 

বিয়েবাড়িতে তো লাফাতে-লাফাতে চলে গেলে, কিন্তু ফিরবে কী করে? তাই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আগে কথা বলে জেনে নাও, তোমার বাড়ির দিকে কারা ফিরবে। কারণ বিয়েবাড়িতে গেলে বেশ রাত হয়েই যায়। সেজেগুজে একা অত রাতে বাড়ি ফেরা কিন্তু একেবারেই নিরাপদ নয়। তাই কোনও বিয়েবাড়িতে যদি একা যেতে হয়, তাহলে গিয়েই তাড়াতাড়ি খেয়ে বেরিয়ে পড়বে। ফ্যামিলির সঙ্গে গেলে তো কোনও কথাই নেই।

শীতকালে বিয়েবাড়ির নেমন্তন্ন প্রচুর আসে। এদিকে সেজেগুজে সোয়েটার, শাল নেবে কে? ব্যস! শীতবস্ত্র ছাড়াই চলে গেলুম বিয়েবাড়িতে। সেখানে হি-হি করে কাঁপতে থাকব তবু ভাল, গায়ে শীতের পোশাক দেব না। কিন্তু বস, স্টাইলের মূলমন্ত্র হল কমফর্ট। যদি শীতে কাঁপতে থাকো, সেখানেই তোমার স্টাইল কোশেন্ট ধপাধপ পড়তে থাকবে। তাই শীতকালে বিয়েবাড়ি হলে ড্রেসের চেয়ে জোর দাও শীতবস্ত্রে। ভাল উইন্টার জ্যাকেট বা পশমের শাল রাখো ওয়ার্ডরোবে। তারপর বিয়েবাড়িতে অবশ্যই সেগুলোই ফ্যাশনেব্‌লভাবে ক্যারি করো। শীতের বিয়েবাড়িতে জিন্‌স ও ভাল জ্যাকেট পরেও চলে যেতে পার। বিয়েবাড়ি মানেই শাড়ি, সালোয়ারই পরতে হবে, এমন কোনও নিয়ম কিন্তু কেউ লিখে রাখেনি। নিজেই তাই দায়িত্ব নিয়ে একটু অন্যরকম সাজে নতুন ট্রেন্ড সেট করতে পার।
একটা ব্যাগ নিশ্চয়ই সঙ্গে থাকবে মেয়েদের। তাই ব্যাগটা কিন্তু একটু ট্রেন্ডি আর মানানসই হতে হবে। বিয়ের আসরেও সেজেগুজে অফিসব্যাগে পিঠে নিয়ে হাজির হলে চলবে না। পোশাকের রংয়ের সঙ্গে ম্যাচ করে ভাল দেখে একটা ব্যাগ কিনে ফেলো। এই নিয়ে আর বেশি জ্ঞান দিতে পারলুম না। একটা ভাল ব্যাগ ভালই কিনতে পারবে তোমরা, সে ভরসা আছে।

বিয়েবাড়ির পরদিনই হয়তো অফিসের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট বা কারও চাকরির পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে, যেদিন বিয়ের নেমন্তন্ন, তার আগেই সবকিছু গুছিয়ে নেবে। তাহলে বিয়ের দিন গুছিয়ে হুল্লোড় করতে পারবে, কোনও টেনশন হবে না।

এইসময়টা বিয়েবাড়ি, পার্টি, পিকনিক লেগেই থাকে আমাদের। তাই খাওয়াদাওয়াটা কিন্তু বুঝে কোরো। বিয়েবাড়িতে সব আইটেম খেতে যেয়ো না। অন্ততপক্ষে প্রথমেই কচুরি বা বাটার নান জাতীয় আইটেমটা বাদ দিতে পার। শেষপাতে মিষ্টিও যদি খেতে ইচ্ছে করে, সব মিষ্টিই না হয় অর্ধেক করে টেস্ট করো। কিন্তু পুরোটা খেতে যেয়ো না।

বিয়েবাড়ি মানেই প্রচুর মজা আর আনন্দ। তাই বিয়েবাড়ির আনন্দ যাতে এতটুকুও মাঠে মারা না যায়, তাই আগে থেকে এই টিপ্‌স পড়ে মাথায় রেখো। টুকটাক প্রচুর জ্ঞান দেওয়া হল, এবার বস নিজেরা সামলাও।