UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg
বিয়ের আগে সেক্স : উচিত না অনুচিত?

উচিত-অনুচিত বিধান দেওয়া কোনওদিনই ১৯ ২০-র স্বভাবে নেই। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি, যে বিদেশের অনুকরণ করার একটা প্রবণতা আমাদের মধ্যে আছে, যা সবসময় ভাল না-ও হতে পারে। বিদেশে সেক্স করাটাকে বাথরুমে যাওয়ার চেয়ে খুব বেশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় না। এমনকী আমাদের দেশেও তরুণপ্রজন্মের অধিকাংশ বেস্টসেলার লেখক প্রিম্যারিটাল সেক্স ছাড়া গল্প বলতেই শেখেননি। তা হলে এই সময়ে দাঁড়িয়ে নতুন করে কী-ই বা বলা যায়? শুধু বলতে পারি, মানুষের জীবনের প্রথম যৌনতা ভীষণ একান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা, সেটা যখন-তখন, যার-তার সঙ্গে, ভাল করে কিছু না জেনে শেয়ার করে ফেলা বোধ হয় ঠিক নয়। শরীর তার নিজের ধর্মেই আর-একটা শরীরকে চাইবে, কিন্তু তখন মনের চোখ বেঁধে রাখলে চলবে না। মন এবং মস্তিষ্ক নিয়েও যদি শরীরের দাসত্ব করে ফেলি, তা হলে আমরা আর মানুষ কীসে? স্কুল-কলেজে পড়াকালীন জাস্ট ফর ফান বা চেখে দেখার জন্য পরীক্ষামূলক যৌনতা অনেকটা চোরাবালির মতো, একটা পা দিলেই বাকিটা কন্ট্রোল করা যায় না, চোরাবালি তার নিজস্ব ধর্মেই ভিতরে টেনে নেয়।

শেষে একটা কথাই বলতে পারি, দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, সব কিছু জেনে-শুনে, স্বেচ্ছায়, প্রয়োজনমতো সতর্কতা নিয়ে বা না নিয়ে বিয়ের আগে সেক্স করবেন কি না, সেটা সম্পূর্ণ তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু ঠিক সময়ের আগে না জেনে না বুঝে, কোনও সতর্কতা না নিয়ে হুট করে সেক্স করে ফেলা এবং তারপরে ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকা কিন্তু কোনও কাজের কথা নয়। আমি প্রেমিকার ঋতুচক্রের এততম দিনে সেক্স করেছি, প্রেমিকা প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়বে কি না, প্রতিবার সেক্স করার পরই ইমার্জেন্সি পিল খাওয়া যায় কি না এই জাতীয় প্রশ্ন নিয়ে লোকের দরজায়-দরজায় ঘোরার থেকে বিষয়গুলো আগেই জেনে নিলে ভাল হয়।

 

অবাধ যৌনতার খারাপ দিক

অবাধ যৌনতা বা ফ্রি সেক্স  নিয়ে কিছু বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, ফ্রি সেক্স জিনিসটা আমাদের দেশে এখনও সেভাবে চালু হয়নি। আমাদের সমাজের সংস্কার এবং মূল্যবোধই এই কারণে দায়ী। তবে আধুনিক সময়ে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অবাধ যৌনতা বাড়ছে, ফলে তাদের শিকার হতে হচ্ছে নানারকম যৌন রোগেরও। এসটিডি বা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজ়িজ় বলতে প্রধানত আমরা যেগুলো বুঝি, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হল সিফিলিস এবং গনোরিয়া, তার পরে আসে এড্স। অনিয়মিত, যথেচ্ছ এবং যে-কোনও পার্টনারের সঙ্গে যৌনসংসর্গ থেকেই এই রোগগুলো সংক্রামিত হয়।

সিফিলিস এবং গনোরিয়া : এই দুটো রোগেরই উত্‌পত্তি যৌনাঙ্গ থেকে। সিফিলিস ইনফেকশন যৌনাঙ্গ থেকে মুখে, জিভে, চোখে, গলায় এমনকী মস্তিষ্কেও সংক্রামিত হয়ে পড়তে পারে। এতে দেহের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গিয়ে শক্ত-শক্ত উঁচু বোতামের মতো ঘা হয়। এই রোগের সর্বোচ্চ স্টেজে জ্বর, রক্তাল্পতা, লিভার ফাংশন ফেইলিয়োর এবং শরীরের হাড়ে-হাড়ে যন্ত্রণা হয়।

গনোরিয়ার ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ থেকে হলদেটে সবুজ রংয়ের পুঁজ বেরোয়, তলপেটে মোচড় দেওয়া ব্যথা, একই সঙ্গে চোখে কনজাংটিভাইটিস, প্রস্রাবে জ্বালা, গলার গ্ল্যান্ড ফুলে ওঠা ইত্যাদি লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়।

এড্স : সিফিলিস বা গনোরিয়ার তুলনায় এড্স অনেক পরে আবিষ্কৃত একটি ব্যাধি। ১৯৮১ সালে এড্সের ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা গিয়েছিল। এড্স রোগের ভাইরাসের নাম এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস। রক্ত, বীর্য এবং স্ত্রী যৌনাঙ্গে এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি, তাই এইসব জায়গা থেকেই এই রোগ অন্য সুস্থ মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়। সমস্যা হল, এই ভাইরাস কারও দেহে ঢোকার সঙ্গে-সঙ্গে কিন্তু সে এড্স রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে না। ভাইরাস কখনও ছ’বছর কখনও বা দশবছর পরে এড্সের লক্ষণগুলো প্রকাশ করতে শুরু করে। এড্সের সাধারণ লক্ষণগুলো হল,

১. একমাসের বেশি কাশি, ২. সারা শরীরে জ্বালা, ৩. বারবার হারপিস সংক্রমণ, ৪. মুখের ভিতর ঘা, ৫. চামড়ায়, মুখে, ঠোঁটে ফোসকা, ৬. একমাসের উপর টানা পেটখারাপ, ৭. টানা বা অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার জ্বর ইত্যাদি।

তবে মনে রাখতে হবে, একসঙ্গে থাকা, হ্যান্ডশেক করা, জল, খাদ্য, কীটপতঙ্গ বা মল থেকে কিন্তু এড্স রোগ ছড়ায় না।

 

যৌনতা বিষয়ে কয়েকটি কথা
১. যৌনতা কোনও খারাপ, নিষিদ্ধ পাপকাজ নয়। প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্কদের সুস্থজীবনের একটি প্রকাশই হল স্বাভাবিক যৌনতা।

২. হস্তমৈথুন পাপ নয়, তবে একে অভ্যেসে পরিণত করা ঠিক নয়।

৩. শরীরের নিয়মেই শরীরে যৌনতা আসে, কিন্তু শুধু সেটা নিয়েই পড়ে থাকলে চলবে না। অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া বা ভাবনাচিন্তার ফলে শরীর ও মন বেশি তাড়াতাড়ি এই ব্যাপারে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

৪. ভালবাসলেই যৌনসম্পর্কে যেতে হবে, এ ধারণা ভুল। বরং সম্পর্কে সময় দাও, সম্পর্কের মানসিক বন্ধন পোক্ত হওয়া অবধি অপেক্ষা করো, শরীর কোথাও পালিয়ে যাবে না। ভাল জিনিস প্রথমে রেখে, তারপর দেখে এবং শেষে একটু-একটু করে চেখে খেতে হয়, নইলে বুড়ো আঙুল চোষার সময়টা বড্ড তাড়াতাড়ি এসে যাবে যে ভাই!

৫. প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে যে-কোনও প্রাণীর শরীরেই সঠিক সময়ে যৌনতা আসে, সেটা বিস্ময়কর নয়। মাথায় রাখার মতো ঘটনা হল, প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষই যৌনইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কারণ তার মস্তিষ্ক উন্নত এবং ক্রিয়াশীল। তাই যৌনতার স্রোতে লাগামছাড়া হয়ে ভেসে না গিয়ে, নিয়ন্ত্রিত যৌনতার মাধ্যমে যদি জীবনকে আনন্দময় করে তোলা যায়, তা হলে সেটাই হবে মনুষ্যত্বের সঠিক উদ্‌যাপন।

অন্ধকার না হাতড়ে, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে, সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য জেনে তোমাদের জীবন সুন্দর হোক, ১৯ ২০-র সমস্ত বন্ধুদের জন্য আমাদের এই শুভেচ্ছাই রইল!