UnishKuri
Web3.jpg
Career Counselling
 
আমার বয়স ১৫ বছর। আমার সমস্যা হল আমার স্কিনটোন। পুরো বডির তুলনায় আমার মুখ এবং হাতের রং অনেকটাই বেশি গাঢ়। ইদানীং এই ব্যাপারটা আমার কনফিডেন্স লেভেলের উপর অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে। এই সমস্যা সমাধানের কি কোনও উপায় রয়েছে? আমাকে একটু গাইড করলে খুব উপকৃত হয়।

রিমা ঘোষাল, ই মেল মারফত

প্রথমেই বলি বাজারে অনেকরকম স্কিন লাইটনিং প্রোডাক্ট পাওয়া যায় যা, রাতারাতি তোমার কমপ্লেকশনে পরিবর্তন এনে দেওয়ার দাবি করে। এই সব গুজবে একদম কান দেবে না। এই সমস্যার থেকে এক্কেবারে রাতারাতি সমাধান পাওয়ার কথা দেওয়া একটু মুশকিলই বটে। তবে কিছু ঘরোয়া টোটকা তোমাকে সমাধান দিতে পারে কিন্তু তার জন্য একটু ধৈর্য ধরতে হবে। চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে কয়েক চামচ দুধ মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে সেটা হাতে ও মুখে লাগাতে পার নিয়মিত, উপকার পাবে। এছাড়া টোম্যাটো পেস্ট, শসা পেস্ট, পাতিলেবুর রস, এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো, এক চামচ বেসম এবং পরিমাণমত পাউডার দুধ মিশিয়ে একটা প্যাক তৈরি করে নেবে। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দেবে। ফেস মাস্ক শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নেবে। এই প্যাক ব্যবহার করলে নিশ্চই উপকার পাবে।

HOMEMADE DANDRUFF TREATMENT

চুল নিয়ে সমস্যার কথা আলোচনা করতে বসলে যে সমস্যার কথা ভাবলেই আমাদের মাথার অবশিষ্ট চুলগুলোও ঝরে যাওয়ার উপক্রম হয় সেটা হল খুসকি। চুলের স্ক্যাল্প শুষ্ক হোক বা তৈলাক্ত, যে কোনও ধরনের স্ক্যাল্পেই খুসকির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এবং এই খুসকির সমস্যা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছে গেলে সেখান থেকে চুলের আরও হাজারটা সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন চুল পড়া, রুক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্থ চুল, চুলের স্ক্যাল্পে চুলকানি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি খুসকির সমস্যা থাকলে সেখান থেকে মুখে ব্রণর সমস্যাও হতে পারে। তাই চুল নিয়ে নানা রকম সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমেই দেখতে হবে তোমার চুলে খুসকি আছে কিনা? আর খুসকি থাকলে তার সমাধানের ঝটপট ব্যবস্থাও করতে হবে। তাই চুলে খুসকির সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে তোমাদের জন্য রইল শস্তায় পুষ্টিকর কয়েকটা ঘরোয়া উপায়।

নিম পাতা: খুসকির হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলে নিম পাতার কোনও তুলনাই হয় না। নিম পাতার মধ্যে আছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ। এটি সহজেই চুলের স্ক্যাল্পে তৈরি হওয়া ইনফেকশনকে দূর করে খুসকির সমাধান করে। কিছুটা নিম পাতা নিয়ে সেটা জলে ভাল করে ফুটিয়ে নেবে। এর পর ফোটানো জল ছেঁকে নিয়ে সেটা ঠান্ডা করে নেবে। স্নানের সময় এই নিম পাতা ফোটানো জল দিয়ে চুল ধুয়ে নেবে। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন করলে সহজেই উপকার পাবে।

নারকেল তেল ও পাতিলেবুর রস: নারকেল তেলের মধ্যেও আছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণ এবং নারকেল তেল ড্রাই স্ক্যাল্পকে ময়শ্চারাই‌জ় করতেও সাহায্য করে ফলে স্ক্যাল্প চুলকানির সমস্যাও চলে যায়। নারকেল তেলের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে সেটা দিয়ে স্ক্যাল্পে ২০ মিনিট ভাল করে মাসাজ করবে। মাসাজ করার পর ১৫-২০মিনিট রেখে ভাল করে চুল ধুয়ে নেবে। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে তিন দিন করলে সুফল পাবে।

বেকিং সোডা:
সকলের বাড়ির রান্নাঘরেই বেকিং সোডা থাকে। এটাকে কাজে লাগিয়ে সহজেই খুসকি দূর করতে পার। কারণ বেকিং সোডা এক্সফোলিয়েশনে সাহায্য করে ফলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন চলে যায়। এছাড়া স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালেন্সও বজায় রাখতে সাহায্য করে বেকিং সোডা। স্নানের সময় চুল ভিজিয়ে নিয়ে কিছুটা বেকিং সোডা স্ক্যাল্পে ঘষে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে নেবে। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে দু’দিন করতেই পার।

অলিভ অয়েল: খুসকির সমস্যা দূর করতে অলিভ অয়েল খুবই উপকারী। একটি পাত্রে অলিভ অয়েল নিয়ে সেটা একটু গরম করে নেবে। এর পর এই ঈষদুষ্ণ অলিভ অয়েল স্ক্যাল্পে ও চুলে ভাল করে লাগিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে কিছুক্ষণ মাসাজ করে নেবে। মাসাজ করার পর একটা ঈষদুষ্ণ গরম জলে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে পুরো চুল বেঁধে রাখবে। এইভাবে ৪৫ মিনিট রাখার পর চুল শ্যাম্পু করে নিয়ে কন্ডিশনার লাগিয়ে নেবে। এতে যেমন খুসকি দূর হবে তেমনই চুল হয়ে সফ্‌ট-সফ্‌ট।
খুসকি দূর করার চটজলদি কয়েকটা উপয়া তো তোমাদের জানা হয়ে গেল। তাই আর দুঃশ্চিন্তা না করে কালকে থেকেই ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগানো শুরু করে দাও দেখি!