UnishKuri
Web-career.jpg

নিখোঁজ হল ভারতীয় যুদ্ধবিমান

গতকাল অসমের তেজপুর বিমানঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০এমকেআই। ফাইটার জেটটিতে পাইলট ছিলেন দু’জন। ভারত-চিন সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চল থেকেই বিমানটি নিখোঁজ হওয়ায় সতর্ক করা হয়েছে আশপাশের সমস্ত অঞ্চলের প্রশাসনকে। শুরু হয়েছে জোরদার তল্লাশি। বায়ুসেনার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রুটিন প্রশিক্ষণের জন্য আকাশে উড়েছিল বিমানটি, ওড়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই সেটি রেডারের সীমার বাইরে চলে যায়। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে ওই যুদ্ধবিমানের বেতার-সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকেই বিমানটি নিখোঁজ। সম্প্রতি চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কিছু ঠান্ডা চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। বেজিংয়ের কার্যকলাপ যে ভারতের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ, তাও বলা যাচ্ছে না কোনওভাবেই। স্পষ্ট কোনও প্রমাণ পাওয়া গেলেই, এই ঘটনাকে চিনের কোনও অন্তর্ঘাত হিসেবেই সন্দেহ করছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষাদপ্তরের ইনেকেই।

পেমেন্টস-ব্যাঙ্ক চালু করল পেটিএম

২৩ মে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই পেমেন্টস ব্যাঙ্ক চালু করল পেটিএম। তাঁদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা জমা রাখার শর্ত থাকছে না, অনলাইন লেনদেনেও বাড়তি ‘ফি’ লাগবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার যে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন পেটিএম-এর বিজয়শেখর শর্মা, তার সূচনা হল গতকাল। পেমেন্টস ব্যাঙ্ক-এর সিইও রেণু সাত্তি জানান, ২০২০-র মধ্যে ৫০ কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছনোই তাঁদের লক্ষ্য।
প্রথম পর্যায়ে পেটিএম তাদের কর্মী ও সহযোগীদের জন্য এই পরিষেবা চালু করবে। পেটিএম-এর বর্তমান গ্রাহকেরা সংস্থার ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন জানাতে পারবেন। প্রথম বছরে ৩১টি শাখা ও ৩ হাজারটি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র খুলবে তারা। তবে এয়ারটেল (৭.২৫%) ও ডাক বিভাগের (৫.৫০%) চেয়ে পেটিএমের সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদের হার কম, ৪%। পেটিএম তাদের বর্তমান ব্যবসায়ী গ্রাহকদের জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্টও চালু করবে।
বর্তমান গ্রাহকদের ওয়ালেটে টাকা ভরা থাকলে তা নতুন পরিকাঠামোতেও তাঁর মোবাইল-ওয়ালেটে থেকে যাবে। তবে যদি কারও ওয়ালেটে কোনও টাকা না-থাকে এবং গত ছ’মাস সেই ওয়ালেট তিনি ব্যবহার না-করে থাকেন, তা হলে তাঁর ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন করে তাঁকে আবার ওয়ালেট-অ্যাকাউন্ট (ব্যাঙ্ক নয়) খুলতে হবে।

নতুন সামরিক অস্ত্র পেল ভারত

১৯৮০-র দশকে শেষ বার হাউইৎজার কিনেছিল ভারত। সেই শেষ, তার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ভারতীয় সেনার জন্য আর কোনও হাউইৎজার কেনেনি ভারত সরকার। প্রায় গত দু’দশক ধরেই ভারতীয় সেনা তার আর্টিলারি বাহিনীর জন্য আধুনিক এবং কম ওজনের হাউইৎজার চাইছিল। কারণ যে সংখ্যক বফর্স কামান ভারতের হাতে রয়েছে, তাতে পাকিস্তান ও চিন সীমান্ত-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা একসঙ্গে মেটানো সম্ভব নয়। বেজিংয়ের কার্যকলাপ এবং শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আঁতাতে উপমহাদেশে তৈরি হয়েছে অস্বস্তির বাতাবরণ। ১৪৫টি এম-৭৭৭ হাউইৎজার কেনার জন্য আমেরিকার সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল ভারত। তার মধ্যে প্রথম দু’টি কামান এসে পৌঁছল ভারতে। বৃহস্পতিবার সকালে চার্টার্ড বিমানে করে আলট্রা-লাইট হাউইৎজার দু’টি ভারতে আনা হয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য অত্যাধুনিক হাউইৎজার দু’টিকে পোখরান টেস্ট রেঞ্জে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। তাই চিন সীমান্তের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন ছিল আধুনিক ও হালকা হাউৎজারের। সেই প্রয়োজনীয়তা এত দিনে মিটতে চলেছে। পোখরান টেস্ট রেঞ্জে এই দু’টি হাউইৎজারের বিশদ পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর বাকিগুলি ভারতে আনার কাজ শুরু হবে।

প্রথম শ্রেণি থেকে বাংলা আবশ্যিক

স্কুল যে-বোর্ডেরই হোক না কেন, প্রথম শ্রেণি থেকে সব ছাত্রছাত্রীদের জন্য বাংলা ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক হয়ে গেল। স্কুলের ভাষা-মাধ্যম যা-ই হোক, অন্যতম ভাষা হিসেবে বাংলা রাখতেই হবে। প্রচলন করার কথা উঠছে ‘তিনভাষা নীতি’। সব পড়ুয়াকে যে-কোনও তিনটি ভাষা পড়তে হবে। রাজ্যসরকারের শিক্ষামন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এই নীতি অনুসরণ করা হবে।
নবান্ন সূত্রের খবর, সব স্কুলে বাংলা আবশ্যিক করার জন্য প্রয়োজনে আইন বদল করার কথাও ভেবেছে রাজ্য সরকার। শহর এবং জেলায় বেশ কয়েকবছর ধরেই দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলোয় ছাত্রসংখ্যা ক্রমশ কমছে, পাশাপাশি প্রবণতা বাড়ছে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি হওয়ার। এমনকী সেখানেও স্বচ্ছন্দে বাংলা ভাষাকে ব্রাত্য করে রেখে সকলে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বেছে নিচ্ছে হিন্দি। এই ব্যবস্থার প্রতিকারের প্রয়োজনেই দরকারে বদলানো হবে আইনও। শিক্ষামন্ত্রী এ দিন জানান, সব ছাত্রছাত্রীরই পড়াশোনার জন্য নিজস্ব ভাষা নির্বাচনের অধিকার আছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ভাষা বাছাইয়েরও অধিকার আছে। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষার্থী প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু, গুরমুখি, নেপালি ইত্যাদি পড়তে পারবে। তবে তিন ভাষার মধ্যে একটি বাংলা নিতেই হবে।’’
বাস্তব সমস্যাও আছে। স্কুলে ৫০ হাজার শিক্ষক-পদ খালি। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে বাংলা ছাড়াও ইংরেজি মাধ্যমের নীতি নিলে কী ভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে শিক্ষা শিবিরেই।