UnishKuri
Web-career.jpg

যানবাহনের বিপ্লব গোলাপি অটো

অসমের বঙ্গাইগাঁওয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে গোলাপি অটো। নতুন রংয়ের এই অটোর বৈশিষ্ট্য হল পুরুষ ড্রাইভারের বদলে গোলাপি অটো চালাবেন কেবলমাত্র মহিলারাই। তাতে সওয়ারও হবেন কেবলমাত্র শিশু ও মহিলারা। তবে অসমের আগেই গোলাপি অটোরিকশার চাকা ঘুরেছে দিল্লি, সুরাত, মুম্বই, ঝাড়খণ্ড এবং ওডিশার রাস্তায়। তবে সম্প্রতি বঙ্গাইগাঁওতে এই পরিষেবা চালু হল। ন্যাশনাল আর্বান লাইভলিহুড মিশনের অধীন সিটি মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (সিএমএমইউ) এই পরিষেবা চালু করল শহরে। প্রথমিকভাবে নিযুক্ত করা হয়েছে ১৩ জন মহিলা চালককে। পরিষেবা চালুর আগে থেকে প্রতিদিন ঘণ্টাদুয়েক, পরে দৈনিক চার ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের।
সিএমএমইউ-এর আধিকারিক কুসুমবর চৌধুরী জানিয়েছেন, আপাতত সকাল থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত এই গোলাপি অটো চলবে। এই উদ্যোগে সমর্থন মিলেছে বঙ্গাইগাঁও অটো ইউনিয়নের। কুসুমবর জানিয়েছেন, এই চালকদের জন্য থাকছে একটি হেল্পলাইন নম্বরও। যাতে আপদেবিপদে পুলিশ ও অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। কুসুমবরের দাবি, “অটো চালিয়ে মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন এই মহিলারা।”

লোকের বাড়ি কাজ করে কিংবা দিনমজুর স্বামীর সীমিত আয়ে কোনওক্রমে সংসার চালানো এইসব মহিলা এখন নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন।

বিদায় নিতে চলেছে শতাব্দী ও রাজধানী এক্সপ্রেস

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ বাজেট। গতবছরের মতো একই সঙ্গে ওই দিনই অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি পেশ করবেন আগামী আর্থিক বছরের রেল বাজেট। আর তাতেই সম্ভবত বন্ধ হয়ে যাবে শতাব্দী এক্সপ্রেসের পথ চলা। ভারতীয় রেল অনেক আগে থেকেই দেশের অন্যতম দুই জনপ্রিয় এবং দ্রুতগামী ট্রেন শতাব্দী ও রাজধানী এক্সপ্রেস বন্ধ করে সেই জায়গায় দু’টি নতুন ট্রেন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। আর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই শতাব্দী এক্সপ্রেসের জায়গায় চলে আসবে ট্রেন-১৮। আর ২০২০ সালের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে ট্রেন-২০। আর তখনই রাজধানী এক্সপ্রেস যাত্রা বন্ধ করবে। রেলমন্ত্রক থেকে দাবি করা হচ্ছে, শতাব্দীর পরিবর্তে যে ট্রেন-১৮ চলবে এবং রাজধানীর পরিবর্তে যে ট্রেন-২০ চলবে তার গতিও হবে বেশি। সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেন দু’টি ২০ শতাংশ কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছবে।
ট্রেন-১৮ জুন মাসের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে বলে খবর। অটোমেটিক প্লাগ ডোর, ট্রেনের ভিতরের আলো, জানলা, শৌচাগার সবই হবে অধুনিক মানের। ট্রেনের বডি তৈরি হবে স্টেনলেস স্টিলের। শতাব্দী এক্সপ্রেসের তুলনায় গড় গতি বেশি হবে। একই ভাবে বিশ্বমানের প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রেন-২০ চালু হবে ২০২০ সালে। সেই ট্রেনের বডি তৈরি হবে অ্যালমুনিয়ামে। গড় গতি হবে ঘণ্টায় ১৭৬ কিলোমিটার।

সফলভাবে উৎক্ষিপ্ত হল অগ্নি ৫

আজ সকাল ন’টা ৫৪ মিনিটে পরমাণু অস্ত্রবহনকারী ভূমি থেকে ভূমি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল ভারত। অগ্নি সিরিজের ৫০০০ কিমি পাল্লার সর্বাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করা হল ওড়িশার উপকূলের টেস্ট রেঞ্জ থেকে। এই পরীক্ষার সাফল্যে ভারতের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত সক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তি আরও জোরদার প্রতিপন্ন হল। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত রাডার, ট্রাকিং সিস্টেম ও রেঞ্চ স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ান সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেছে। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৯ মিনিট আকাশে ছিল এবং এই সময়ের মধ্যে ৪,৯০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়েছে।
অগ্নি সিরিজের সর্বাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রে বাড়তি নেভিগেশন সিস্টেম থাকায়, তা নির্ভূলভাবে লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এমনকী, সর্বাধিক উচ্চতায় পৌঁছনোর পর লক্ষ্যবস্তুর দিকে মাধ্যকর্ষণ শক্তির প্রভাবে আরও বেশি দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছতে সক্ষম। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, অগ্নি সিরিজের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫ এর প্রথম পরীক্ষামূলক সফল উৎক্ষেপণ হয়েছিল ২০১২-র ১৯ এপ্রিল। এরপর ২০১৩-র ১৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়, ২০১৫-র ৩১ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ২০১৬-র ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ পরীক্ষামূলক সফল উৎক্ষেপণ হয়েছিল।

পরিবেশবান্ধব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন অ্যান্টিবায়োটিক

সামান্য কারণে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেলে একসময় ওই সব ওষুধে আর কাজই হয় না— এটা পরীক্ষিত সত্য। কারণ শরীরে ওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধী শক্তি তৈরি হয়ে যায়। আবার মানুষের শরীরে অকেজো ওই অ্যান্টিবায়োটিক শরীর থেকে বেরিয়ে মিশে যাচ্ছে প্রকৃতিতে। জল এবং কৃষিজাত দ্রব্যের মাধ্যমে সেগুলো ঢুকে পড়ছে এমন সব মানুষের শরীরে, যাঁদের ওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনই নেই। ফলে জটিল হয়ে পড়ছে ওই সব মানুষের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাঁদের শরীরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে ওই ওষুধ। এই সমস্যার মোকাবিলায় এবার এমন এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে জীবাণুরা কখনওই প্রতিরোধের পাঁচিল গড়ে তুলতে পারবে না। যে-রোগের জন্য সেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া হবে, প্রতিহত হবে না তার নিরাময়। শুধু তা-ই নয়, ওই নতুন প্রজাতির অ্যান্টিবায়োটিকের যে-বাড়তি অংশ রোগীর শরীর থেকে বেরোবে, তা সহজেই প্রকৃতিতে মিশে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে জল আর কৃষিজাত দ্রব্যের সঙ্গে মিশে তারা সুস্থ মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর দেহে ঢুকে বিপত্তি ঘটাতে পারবে না। বৃহস্পতিবার বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ১০১তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এসে এই আশার কথাই শোনালেন নোবেলজয়ী রসায়নবিদ আডা ইয়োনাথ।
বিশ্ব জুড়ে নতুন প্রজাতির অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ওই নোবেলজয়ী রসায়নবিদ। বর্তমান গবেষণা বলছে, এমন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা জরুরি, যা থেকে আর কখনও প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়া তৈরিই হবে না। এবং তা অবশ্যই হবে পরিবেশবান্ধব বা ইকোফ্রেন্ডলি প্রকৃতির। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাকাওয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পরিবেশবান্ধব অ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান দিয়েছেন। তাঁদের গবেষণাপত্র রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির জার্নালে বেরিয়েছে।