UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg
আমি যে সমস্যাটা শেয়ার করতে চাই, সেটা মনের। সমস্যাটা আমার মায়ের। আমার বাবা গত ২৫ বছর ধরে টিউশন পড়ান বাড়িতে গিয়ে-গিয়ে। কিন্তু গত দু’ বছর ধরে তিনি বাড়িতে পড়াচ্ছেন। বাবার একটা রেপুটেশন আছে। পাড়ার অনেকেই তাঁর স্টুডেন্ট। গত বছর একটি বিবাহিত মেয়ে বাবার কাছে পড়তে আসে। এ বছর মার্চে সে লাস্ট পড়ে চলে যায়। এরপর থেকে আমার মায়ের মনে হতে থাকে, ওই মেয়েটির সঙ্গে বাবার কোনও সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। এই নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি হচ্ছে। আজ পর্যন্ত বাবার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। কারওর সাহসও হয়নি। বাবার সম্পর্কে কেউ কোনও খারাপ কথাও বলেনি। আমার প্রশ্ন, মায়ের মনে এটা কি শুধুই সন্দেহ, নাকি কোনও সত্যি আছে? আমি সত্যি, ব্যাপারটা নিয়ে খুব কনফিউজ়ড। আমি কাউন্সেলিংয়ের কথা বলেছিলাম, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। প্লিজ় হেল্‌প মি!

রাহি দাস, ই মেল মারফত

তোমার বাবা যেহেতু দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সম্মানের সঙ্গে শিক্ষকতা করছেন, হঠাত্‌ করে এত দুর্বল হয়ে পড়ার চান্স বোধ হয় বেশ কম। প্রথমে মায়ের মনের অবস্থা বুঝিয়ে, বাবাকেই এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করো। আশা করা যায়, উনি তোমাকে সঠিক উত্তরই দেবেন। তোমার মায়ের বয়স জানাওনি। মহিলাদের অনেকসময় ৩৫-৫৫ বছরের মধ্যে ‘মিড লাইফ ক্রাইসিস’ হয়, যখন মনে হয়, তাদের সৌন্দর্য কমে যাচ্ছে, যৌবন চলে যাচ্ছে। এই সময় মন কখনও-কখনও সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ে। ভালবাসার পুরুষটি বোধ হয় অন্য কাউকে চায়, এই ভাবনাও আসে। কিন্তু আসলে তো আমরা সৌন্দর্যকে ভালবাসি না, ভালবাসি ব্যক্তিত্বকে, এটা বুঝতে হবে। তবে এই ধরনের সন্দেহ প্রবণতা অনেকসময় মনের অসুখে পরিণত হয়, যাকে বলে ‘delusional disorder’। এই রকম অসুখে মানুষ ‘delusion’ বা ‘false belief’-এ আক্রান্ত হয়। ফলে তারা ভাবতে শুরু করেন যে, তারা যা মনে করছেন, সেটাই ঠিক। এবং তার জন্য তারা প্রমাণ সংগ্রহ করতেও প্রস্তুত থাকেন নানাভাবে। এরকম হলে কিন্তু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোনোও মেন্টাল হেল্‌থ প্রফেশনালের সঙ্গে যোগাযোগ করো।

আমার বয়স ২৫ বছর। বয়ফ্রেন্ডের ২৯। প্রায় ছ’ বছরের উপরে আমাদের সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে খুব ভাল বোঝাপড়া রয়েছে। বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। বছর দু’য়েক আগে আমার একটা সাইকোলজিক্যাল সমস্যা হয় এবং বছরখানেক ধরে সায়কায়াট্রিক ট্রিটমেন্ট চলে। সে সময় ও আমাকে ভীষণভাবে মেন্টাল সাপোর্ট দেয়। যদিও আমাদের বাড়িতে এই রিলেশনের কথা জানে, কিন্তু ওর বাড়িতে তা জানে না। আমরা এখনও নিজের পায়ে দাঁড়াইনি। আমরা চাকরি পেয়ে বিয়ে করব বলে ঠিক করেছি। সম্প্রতি একটা সমস্যা হয়েছে। আমার বয়ফ্রেন্ড মাঝে-মাঝে আমাকে জানিয়ে আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অপারেট করে। কিন্তু কিছুদিন আগে ওর কিছু ছবি আপলোড করব বলে, পাসওয়র্ড নিয়ে ওর অ্যাকাউন্ট খুলে চ্যাট চেক করে দেখি, ও অন্য একটি মেয়েকে প্রপোজ় করেছে। এমনকী, বেশ অনেকদিন ধরে সেক্সুয়াল চ্যাটও করেছে। আবার মজার ছলে মেয়েটির ফ্ল্যাটেও যাওয়ার কথা বলেছে, যখন কেউ থাকবে না। মেয়েটিকে কেরিয়ার নিয়েও অনেক অ্যাডভাইস দিয়েছে, মোবাইল নাম্বারও দিয়েছে (অন্য নাম্বার যেটা আমি জানি না)। কিন্তু চ্যাটে ডেটিংয়ের কোনও কথা লেখা ছিল না। পুরো ব্যাপারটা জানতে পেরে খুব ভেঙে পড়ি। ওকে ব্যাপারটা জানালে ও বলে, ওরা দু’জন বন্ধুর সঙ্গে মিলে মেয়েটির সঙ্গে ফ্লার্ট করছিল। এর জন্য ও আমার কাছে ক্ষমা চায়। সঙ্গে এও বলে, ব্যাপারটা লুকোতে চাইলে ও চ্যাটগুলো ডিলিট করে দিতে পারত। কিন্তু ও সেটা করেনি। এবং মেয়েটির সঙ্গে আর যোগাযোগও করেনি। এই পুরো ঘটনাটা আমি মন থেকে মেনে নিতে পারিনি, ওর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিই। আজকাল আমি কোনও কিছুতে মন দিতে পারছি না, খুব ডিপ্রেসড থাকি। এদিকে ও আমাকে বলেছে, আমি ক্ষমা না করলে ও সুইসাইড করবে। আমার কী করা উচিত? ওকে কি আর একবার সুযোগ দেওয়া উচিত?

সোনালি চ্যাটার্জি, দমদম

তোমার চিঠি পড়ে বুঝতে পারছি যে, বয়ফ্রেন্ডের ব্যবহারে তুমি স্বাভাবিকভাবেই খুব আপসেট। আসলে আজকাল ইন্টারনেট ও সোশ্যাল নেটওয়র্কের জন্য সেক্স টক এবং সুপারফিশিয়াল সম্পর্ক খুবই সহজ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই কোনও কিছু না ভেবে এসবের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। কোনও কাজ করার আগে, তার ফলাফল কী হতে পারে, তা অবশ্যই ভাবা উচিত। কিন্তু অনেকেরই এই ‘impulse dyscontrol’ সমস্যা থাকে। তোমার বয়ফ্রেন্ডকে ক্ষমা করবে কি না, তা নির্ভর করছে তোমাদের বোঝাপড়ার উপর, ও সুইসাইড করতে চায়, তার জন্য নয়। বয়ফ্রেন্ডকে আর একটা সুযোগ দেওয়ার আগে ওকে বুঝিয়ে বলো, এ ধরনের সেক্সুয়াল সম্পর্কে নিজের সম্মান নষ্ট হয়। এরকম সম্পর্ক কোনও না কোনওদিন ঠিক জানাজানি হয়ে যায়, তখন কিন্তু স্টেব্‌ল রিলেশনশিপই সবচেয়ে আঘাত পায়। তুমি যেহেতু ওকে ভালবাস, তাই ওর সম্মানের সঙ্গে তোমার সম্মানও জড়িয়ে আছে এবং সে জন্যও তুমি এত কষ্ট পাচ্ছ। তাই বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে চাইলে, প্রথমে তোমার বক্তব্য ওকে বুঝিয়ে বলবে। তবে পরবর্তী সময়ে কিন্তু বারবার এই ঘটনা তুলে ওকে বিরক্ত কোরো না। ওকে সুযোগ দিলে মন খুলে দাও। পজ়িটিভ চিন্তা করবে। আর তোমাদের সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য যেন টাল না খায়, সে খেয়ালও রাখবে।