UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg
কলকাতার ছেলে। ইতিমধ্যেই গান গেয়ে ফেলেছেন হিন্দি, তামিল, তেলুগু ছবিতে। ‘Happy Ending’ ছবির ‘haseena tu kameena mein’ গানটা মনে আছে? সেটা গেয়েছিলেন ইনিই। কলকাতার লেক গার্ডেন্সের এই ছেলেটির নাম রাহুল পান্ডে। সেন্ট জ়েভিয়ার্সের এই গুণী প্রাক্তনীর সঙ্গে কথা বললেন অচ্যুত দাস।


আমি শুনেছি তুমি ট্র্যাডিশনালি ট্রেন্‌ড গায়ক নও। Is that true?
হ্যাঁ, আসলে আমার পরিবারের কেউ কখনও মিউজ়িক শেখেননি। যেমনটা ছোটবেলায় প্রায় সব বাচ্চাই গায়, অন্যের গান শুনে, আমিও তেমনভাবেই গান গাইতাম। আমার মা পুরনো দিনের গান শুনতে খুব ভালবাসতেন। সেই শুনে-শুনেই আমি গাইতাম। অনেক পরে, ক্লাস টেনের পরীক্ষার পর যখন আমি ছোটখাটো শো করতে শুরু করলাম, সেই শো-গুলো খুব হিট হত ঠিকই, কিন্তু আমি অনুষ্ঠানের ভিডিয়োগুলো দেখে বুঝতে পারতাম যে আমি ভাল গাই ঠিকই, কিন্তু maybe I am not the best। গান নিয়েই এগোব ঠিক করেছিলাম, তাই ভাবলাম না-শিখে বেশিদূর এগনো যাবে না। মোনালি ঠাকুরের সঙ্গে আমি একই কলেজে পড়তাম। ও-ই আমাকে সাজেস্ট করে, যাদবপুরে পণ্ডিত জগদীশ প্রসাদজির কাছে শিখতে। আমি সেসময় লেক গার্ডেন্স থেকে ওঁর কাছে যেতাম। উনিই আমার প্রথম গুরু। আজ আর উনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু ওঁর মতো কিংবদন্তির কাছে গান শেখাটা আমি ভীষণ সৌভাগ্য বলে মনে করি আজও।

শুরুর সেই শেখার দিন থেকে শুরু করে মুম্বইয়ের গানের জগতে চলে এলে কীভাবে?
তোমাকে যেমনটা বললাম যে আমার পরিবারের কেউ কোনওদিন গানের জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যে কারণে আমাকে কেউ হাতে ধরে কাজ পাইয়ে দিতে পারেননি। I had no clue যে কীভাবে এগোব। তারপর তো মুম্বই গেলাম, এমবিএ শেষ করার পর আবার মিসেস শ্রুতিকা ভট্টাচার্যর কাছে শিখতে শুরু করলাম। উনি সারেগামা-র মতো বেশ অনেকগুলো রিয়্যালিটি শো-তে প্রতিযোগীদের ট্রেনিং দিতেন। ইত্যবসরে আমি একটা চাকরিতেও ঢুকে পড়েছিলাম। কিন্তু সকাল আটটা থেকে রাত দশটা চাকরির পর আর গানের জন্য সময় দিতে পারতাম না। তাই চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে আমি গজেন্দ্র সিংহর প্রোডাকশন ‘সাঁইবাবা টেলিফিল্মস’-এ যোগ দিই। ওখানে ওঁর একটা ইনস্টিটিউট ছিল, ‘সারেগামাপা অ্যাকাডেমি’, যেখানে প্রখ্যাত শিল্পীরা গান শেখাতেন। ওখানেই আমি ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করি। কিন্তু আমি কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই ওঁদের ক্লাসে বসে পড়তাম। সেখান থেকেও অনেক কিছু শিখেছি।

তারপর? প্রথম ব্রেকটা এল কীভাবে?
চাকরিটা ছেড়ে দেওয়ার পর আমি বিভিন্ন সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে দেখা করতাম। এইসময় আমার এক বন্ধু, ওর সঙ্গে সচিন-জিগরের আলাপ ছিল, ও-ই ওঁদেরকে আমার নাম সাজেস্ট করে। প্রথমে সচিন আমার গলা শোনে এবং ওঁর খুব পছন্দ হয়। তখনও জানতাম না কাজ পাব কিনা, কিন্তু সচিন সেদিন যেভাবে আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন, সেটাই খুব বড় ব্যাপার ছিল। তারপর পাক্কা একবছর পর ওঁরাই আমাকে ফোন করে একটা স্ক্র্যাচ গাইতে ডাকেন। আমি কিছুই জানতাম না, কোন সিনেমার জন্য, কোন অভিনেতার জন্য আমি গান গাইব। ওঁদের কাছে গিয়ে শুনলাম অমিতাভ ভট্টাচার্যর লেখা গান। আমি ওঁর লেখার খুব বড় ফ্যান। কাজেই সুযোগটা পেয়ে অসম্ভব খুশি হয়েছিলাম! তারও ছ’-সাতমাস পর সচিনের কাছ থেকে মেসেজ পাই, ‘হ্যাপি এন্ডিং নামের একটা ছবিতে সইফ আলি খানের জন্য আমার গানটা সবার পছন্দ হয়েছে।’ ব্যাপারটা আমার আজও ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়!

তারপর সুরয পাঞ্চোলির ‘হিরো’ ছবিতে গান গাইলে, তাই তো?
ওটাও সচিন-জিগরের কম্পোজ়িশন ছিল। একইরকম ভাবে সবকিছু এগোতে থাকে। কিন্তু এবারে আমি স্ক্র্যাচ গাইছিলাম আর সঙ্গে-সঙ্গে ওরা গানটাকে ডেভলপ করছিল। সেটা করতে গিয়ে শাল্মলী খোলগড়ে-র সঙ্গে আলাপ হয় আর খুব কাছ থেকে দেখে শেখার সুযোগ পাই যে মিউজ়িক কম্পোজ়িশনের কাজটা ঠিক কেমনভাবে হয়।

গান গাওয়া আর শো করা ছাড়া মুম্বইতে এই মুহূর্তে আর কী করছ তুমি?
প্লেব্যাক আর শো ছাড়াও আমি অ্যাড ফিল্মের জন্য জিঙ্গল বানাই। তা ছাড়া আমার মিউজ়িক প্রোডাকশন আছে, যদিও সেটা এখনও পর্যন্ত শুধুই আমার নিজের গান তৈরির জন্যই ব্যবহৃত হয়। এ বাদে আমার নিজের একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে, যেখানে আমি পুরনো গান আপলোড করেছি অনেকগুলো।

আর তোমার যে ফেসবুক পেজ কিংবা নিজস্ব ওয়েবসাইট, এগুলোও কি তুমি নিজেই হ্যান্ডল করো?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। ওগুলোর পিছনেও সময় দিতে হয়।

সামনে কী-কী কাজ করছ?
এই তো সবে একটা সিঙ্গল বেরিয়েছে আমার, ‘আ চলেঁ’। জ়ি মিউজ়িক থেকে গানটা রিলিজ়ড হয়েছে। কলকাতা বেসড কম্পোজ়ার মনীশ সিএইচ গানটা কম্পোজ় করেছেন। দু’বছর আগে কলকাতায় গিয়ে আমি ওঁর কিছু গান শুনি, যেগুলো আমার খুব ভাল লেগেছিল। তখনই ওঁকে বলেছিলাম, একসঙ্গে যদি কোনও কাজ করা যায়। সেইমতো ও আমাকে একটা গান কম্পোজ় করে পাঠায়। তারপর তো ধাপে-ধাপে গানটা, তারপর তার ভিডিয়ো শুট, সবই হল। ফাইনালি ওটা আমরা জ়ি মিউজ়িককে দেখালাম এবং ওঁদেরও পছন্দ হল।

এযাবৎ কেমন রেসপন্স এই নতুন গানটার?
এদেশে সাধারণত ফিল্ম মিউজ়িক প্রচণ্ড হিট হয়, কিন্তু নন-ফিল্ম গানের কদর আগের চেয়ে অনেক কমে গিয়েছে। কিন্তু জ়ি মিউজ়িক খুব ভাল ভাবে গানটা প্রোমোট করেছে। আর গানটা সত্যিই খুব মিষ্টি। যে কারণে ভীষণ ভাল রেসপন্স পাচ্ছি আমরা। সর্বত্র গানটা চলছে, লোকে শুনছেন, বারবার শুনতে চাইছেন। আর তুমি যে জানতে চাইছিলে, সামনে কী-কী কাজ করছি, সেটা তো এক্ষুনি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। গান তো গেয়েছি বেশ অনেকগুলোই, কিন্তু সেটা যে শেষমেশ কোন ছবিতে থাকবে, তা কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

বলিউড গানের জগতে তোমার ফেভারিট কারা?
সবার আগে তো সচিন-জিগরের নাম নেব। Apart from being brilliant composers, ওঁরাই আমাকে প্রথম ব্রেকটা দিয়েছিলেন। তা ছাড়া রহমান স্যারের গান আমি খুব ছোট থেকে শুনি। এখনও আমি মাঝে-মাঝেই ভাবি, প্রথমবার যখন রহমান স্যারের সঙ্গে দেখা হবে, ঠিক কতটা এক্সাইটেড লাগবে আমার! আর সমসাময়িক গায়কদের মধ্যে আতিফ আসলামের গান আমার ভীষণ ভাল লাগে।

হিন্দি, তামিল, তেলুগু, সবেতেই গান গেয়ে ফেলেছ। বাংলায় গাইবে না?
তামিল, তেলুগু তো আমি ভাষাটা না বুঝেই স্রেফ ল্যাঙ্গোয়েজ ইনস্ট্রাকটরের নির্দেশ মেনে গেয়েছি। সেখানে বাংলা তো আমার অক্ষরে-অক্ষরে চেনা একটা ভাষা। কলকাতাতেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তাই বাংলায় গান গাওয়ার সুযোগ পেলেই যে আমি ঝাঁপিয়ে পড়ব, তাতে আর আশ্চর্য কী! কলকাতা পারফর্মিং আর্টের আঁতুড়ঘর, আমিও সেখানকারই ছেলে। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই আমার খুব ইচ্ছে করে বাংলায় গান গাইতে।

মুম্বইতে তোমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব কারা?
বিদিতা বাগ নামে এক অভিনেত্রী আছেন, যিনি বাংলা এবং হিন্দি, দু’জায়গাতেই খুব ভাল কাজ করছেন, উনি আমার খুব ক্লোজ় বন্ধু। আমার একেবারে শুরুর দিকের দিনগুলো থেকেই উনি নানা সময়ে নানা ভাবে আমার পাশে থেকেছেন, কম্পোজ়ারদের কাছে আমার নাম সাজেস্ট করেছেন।

যারা তোমারই মতো ছোট থেকে গানের তালিম নেয়নি, অথচ গান গেয়ে নাম করতে চায়, তাদের কী পরামর্শ দেবে?
যদি নিজের কাজে ফোকাস্ড থাকতে পার, তা হলে একদিন সাফল্য আসবেই আসবে। আমি তো ছোট থেকে গান শিখিনি, যে কারণে আমি এমনকী এখনও যখনই সুযোগ পাই, শিখতে থাকি। শেখার কোনও শেষ নেই, তাই গাওয়ার ইচ্ছে থাকলে তোমাকে শিখে যেতে হবে আজীবন। শুরুতে শেখা হয়নি বলে আর কোনওদিনই হবে না, এমনটা কিন্তু নয়। আমি যেটুকু যা গান গেয়েছি এখনও অবধি, তার পিছনে আমার একটা বিশ্বাস আছে। যদি ভীষণ পরিশ্রম করো, তা হলে সৌভাগ্য ঠিকই তোমার কাছে আসবে। ‘কপাল’ তাঁদেরই ভাল হয়, যাঁরা তার জন্য ভীষণ এফর্ট দিয়েছেন। ওই এফর্টটুকু যদি কেউ দিতে পারে, নিশ্চয়ই একদিন সাফল্য আসবে।

More Interviews

cc

কলকাতায় ক‌্যাটরিনা কাইফ আর সিদ্ধার্থ মলহোত্র! ‘বার বার দেখো’র প্রমোশনে এসে এই তারকা জুটি এবং ছবির পরিচালক নিত‌্য মেহরা-র কথায়-কথায় উঠে এলো বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং কথা… সাক্ষী ছিল ১৯ ২০!

cc

নিজের প্রথম বলিউড ছবি, হৃতিক রোশনের বিপরীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা, মিস ইন্ডিয়া থেকে মহেঞ্জো দাড়ো অবধি যাত্রা, সমস্ত কিছু নিয়ে পুজা হেগড়ে কথা বললেন শ্রাবন্তী চক্রবর্তীর সঙ্গে।

cc

‘ঈগলের চোখ’ ছবিতে নামীদামী অভিনেতাদের পাশাপাশি একটি নতুন মুখও আমরা দেখতে পেয়েছি,যে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। মিষ্টি সেই মেয়েটির নাম রিয়া বণিক। বাংলা বিভিন্ন পত্রপত্রিকার পাতা, এবং বিশেষ করে ‘১৯ ২০’-র পাতা উল্টোলেই যাকে এতদিন আমরা মডেল হিসেবে দেখে এসেছি। মডেলিং থেকে অভিনয়, এই নতুন পথটা রিয়ার জন্য কেমন ছিল সেই গল্পই শুনে নিলেন মৌমিতা সরকার।

cc

“‘ক্ষত’র মতো ছবি ইদানীংকালের বাংলা সিনেমায় হয়নি” ‘প্রাক্তন’ ছবি দুরন্ত জনপ্রিয়তার সঙ্গে-সঙ্গেই মুক্তি পাচ্ছে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘ক্ষত’, দু’টিতেই প্রধান চরিত্রে তিনি… ছোটপরদায় মানুষ রোজ চুম্বকের টানে দেখছেন তাঁর ‘মহানায়ক’, সব মিলিয়ে তিনিই এখন টক অফ দ্য ইন্ডাস্ট্রি। (Prosenjit Chatterjee) প্রসেনজিত্‌ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সব কিছু নিয়েই কথা বললেন সুবর্ণ বসু

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 >