UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg
নিজের গল্পে প্রথম ছবি পরিচালনা করলেন অভিনেতা সমীর সোনি। ছবির নাম ‘মাই বার্থডে সং’, ছবিটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার। সেই ছবিটি নিয়েই তিনি কথা বললেন ১৯ ২০-র সঙ্গে।

interview

ছবি পরিচালনা করার স্বপ্ন কি বরাবরই ছিল?
ডিরেকশন দেওয়ার কোনও ইচ্ছে, স্বপ্ন বা পরিকল্পনা আমার ছিল না। আমি অভিনেতা হিসেবে যথেষ্ট খুশি ছিলাম। শুধু আমার লেখা এই গল্পটা অনেক দিন ধরেই আমার মাথায় ছিল। বন্ধুদের বলেছিলাম, তাদের ভাল লেগেছিল। কিন্তু বন্ধুরা তো ভাল বলেই! তাই আমি করন জোহরের সঙ্গে দেখা করি। করন জোহর আমার স্টোরি আর স্ক্রিপ্ট শুনেই বলেন, ‘‘গল্পটা খুব ভাল এবং ছবি করলে তোমারই পরিচালনা করা উচিত।’’ আমি তো অবাক হয়ে যাই! আমার তো পরিচালনার কাজে কোনও অভিজ্ঞতাই নেই! কোনওদিন কোনও পরিচালককে অ্যাসিস্টও করিনি! কিন্তু করন বলেছিল, ‘‘তুমি যখন আমায় গল্পটা শুনিয়েছ, এমনভাবে ন্যারেট করেছ, ছবিটা সিন বাই সিন আমার চোখের সামনে ফুটে উঠেছে! তুমি নিশ্চয়ই ডিরেক্ট করতে পারবে, আর সবচেয়ে বড় অ্যাডভান্টেজ হল, গল্পটা তো তোমার নিজের, তা হলে কেন পারবে না!’’
তখন আমি আমার বন্ধু সঞ্জয় সুরির সঙ্গে কথা বলি। অদ্ভুত কো-ইনসিডেন্ট সেও শুনে বলে, ডিরেকশনটা তোমারই দেওয়া উচিত। আমিও সঙ্গে-সঙ্গে তাকে বলি, তা হলে কি তুমি অ্যাকটিং করবে? ও তখন রাজি হয়ে যায়। সঞ্জয় আমার অনেক দিনের বন্ধু। ওর কথায় আমার কনফিডেন্স বাড়ে। তখন আমরাই আমাদের কো-প্রডাকশনে ছবিটা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিই।


মাই বার্থডে সং-এর গল্পটা কী? কীভাবে ভাবনাচিন্তা করেছেন স্টোরিলাইন ডেভেলপ করার জন্য?
আমি বরাবরই এমন ছবি ভালবাসি, যা মানুষকে চিন্তাভাবনার উপাদান দেবে, যা নিয়ে মানুষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। এই ছবিটার ক্ষেত্রে আমি স্টোরিলাইন ডেভেলপ করেছি একটা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু থেকে শুরু করে একের পর এক ঘটনার পর্যায় তৈরি করে। ‘মাই বার্থডে সং’-এর ব্যাপারে সংক্ষেপে বলতে পারি, একজন মানুষ রাতের ঘুমের মধ্যে একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দ্যাখে, যার শেষটা খুবই ভয়ানক। আশ্চর্যের ঘটনা হল, পরদিন থেকে যেন একটু একটু করে স্বপ্নটা সত্যি হতে শুরু করে। এখন স্বপ্নটা কি আগাম কোনও সতর্কবার্তা? নাকি স্বপ্নটার শেষটা বাস্তবে শুধরে নিলে এড়ানো যাবে দুর্ঘটনা? এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বই দর্শককে টেনে রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।
টিভিতে ‘পরিচয়’ ধারাবাহিকে আপনার অভিনীত কুনাল চোপড়ার চরিত্রটির কথা মানুষ এখনও বলেন। ছোটপরদার সেভাবে আর দেখা যাচ্ছে না কেন?
কুনাল চোপড়া সকলের ভাল লেগেছিল কারণ চরিত্রটা ছিল দারুণ এক্সাইটিং। আমি বিশ্বাস করি যে চরিত্রটা আমাকে উদ্দীপিত করতে পেরেছে, সেটা দর্শকদেরও উদ্দীপিত করতে পারবে। তাই সেই হিসেবেই আমি চরিত্র নির্বাচন করি। পরবর্তী সময়ে যদি সেরকম কোনও চরিত্রের অফার আসে, নিশ্চয়ই করব।


পরিচালক হিসেবে ছোটপরদার জন্য কিছু প্ল্যান আছে কি?
পরিচালক হিসেবে ছোটপরদার জন্য তেমন কিছু ভাবিনি, যেটা ভেবেছি, তা হল আর-একটি থ্রিলার প্লট। এখনই সেটা নিয়ে কিছু বলব না, শুধু বলব প্লট খুব কমপ্লিকেটেড হবে, যা মানুষের ভাবনাচিন্তার রসদ জোগাবে, মানুষকে প্রতিমুহূর্তে কাহিনির নতুন মোড় ভাবতে বাধ্য করবে। আমি মনে করি, সবসময় পরের কাজটা যেন আগের কাজের চেয়ে বেশি ভাল হয় অথবা একেবারেই অন্যরকম হয়। দেখা যাক, কতটা কী করতে পারি।


নোরা ফতেহিকে প্রথম বড় রোলে বড় পর্দায় দেখা যাবে আপনার পরিচালনাতেই। স্টার পারফর্মারদের নিয়ে সেফ খেলার রাস্তায় হাঁটলেন না কেন?
দেখুন, এই ছবি পরিচালনা হিসেবে আমার প্রথম, ডিরেক্টর অফ ফোটোগ্রাফি শুভম কেসরার প্রথম ছবি, লিরিসিস্ট নীতীন অজয়ের প্রথম ছবি, ছবির এডিটর সন্দীপ শেঠির এটা দ্বিতীয় কাজ। ছবির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা তাদেরই সঙ্গে রেখেছি, যাদের চিন্তাভাবনা এবং ওযেভলেংথ ছবির জন্য সঠিক হবে। আমরা ছবির গল্প এবং আমাদের কাজের ধরন অনুযায়ী ক্রু বেছেছি। কোনটা ভাল হবে, সেটার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছি কোনটা উপযুক্ত হবে, সেটাকে। নোরা ফতেহিকে যে চরিত্র দেওয়া হয়েছে, তার জন্য ওকেই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে, সেই কারণেই। গানের ক্ষেত্রেও আমরা ভাল সুর, ভাল কথা, শুনতে ভাল এসব কিছু ভাবিনি, শুধু মাথায় ছিল কোনটা ছবির জন্য উপযুক্ত হবে, সেটুকুই।


‘মাই বার্থ ডে’ সং ছবিতে রীতিমত অডিশন দিয়ে নায়িকার ভূমিকায় নির্বাচিত হয়েছেন নোরা ফতেহি। তিনিই এ ছবির অন্যতম আকর্ষণ। তিনিও কথা বলেছেন ১৯ ২০-র সঙ্গে।


এটাই কি তা হলে আপনার বলিউডে বড় পরদার প্রথম বিগ ব্রেক?
হ্যাঁ, তা বলা যেতে পারে। বলিউডে এর আগেও ‘রোর : টাইগার অফ সুন্দর বন‌্স’ বা ‘ক্রেজ়ি কুক্কড় ফ্যামিলি’-তে কাজ করেছি। তবে মাই বার্থডে সং-এর এই রোলটা অনেক বেশি ইমপর্ট্যান্ট।


মাই বার্থ ডে সং এ কীভাবে সুযোগ পেলেন?
আমার চরিত্রটার জন্য অডিশন হয়েছিল। অডিশনে আমাকে সিলেক্ট করা হয়েছিল। তারপর স্ক্রিন টেস্ট হয়। সকলের ভাল লাগে। আমাকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়।


আপনার চরিত্রটার নাম কী? চরিত্রটা সম্বন্ধে কিছু বলুন।
আমার চরিত্রের নাম স্যান্ডি। তাকে ছবির নায়কের সঙ্গে একটা একস্ট্রাম্যারিটাল সম্পর্কে দেখা গিয়েছে ছবির ট্রেলারে। সে বিষয়ে তার বেশি এখনই কিছু বলতে পারব না। তবে ক্যারেকটারটার কথা বলতে পারি, সে খুব ইন্টেলেকচুয়াল, ইনোসেন্ট কিন্তু আবার সিডাকটিভ। আমি নিজে যেমন কানাডা থেকে এসে অন্য দেশে থাকছি, মানসিকভাবে খুব শক্ত এবং স্বাবলম্বী, চরিত্রটাও যেন অনেকটা সেরকমই। চরিত্রটার মধ্যে একটা টাফনেসও আছে। অনেক কোয়ালিটি আমি রিলেটও করতে পেরেছি এই চরিত্রটার সঙ্গে। আর বাকিটা তো অভিনয়।


ছোটপরদায় আপনি বেশ কিছু কাজ করেছেন, বিগ বস-ও আপনাকে অনেকটা পরিচিতি পেতে সাহায্য করেছে। এবার কি ছোটপরদা থেকে বিদায় নেবেন?
না, না একেবারেই নয়। বিদায় নেওয়া তো নয়ই, বরং আমি এই মুহূর্তে দুটো প্ল্যাটফর্মেই সমানভাবে কাজ করতে চাই। তবে কেমন অফার আসে, সেটা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেব।


১৯ ২০-র পাঠকদের জন্য কোনও মেসেজ?
সবাইকে বলব, আমাদের ছবিটা নিশ্চয়ই দেখো! তোমাদের সাপোর্ট এই মুহূর্তে আমাদের খুব-খুব দরকার! আমি শিয়োর, এই ছবিটা তোমাদের খুব ভাল লাগবে।


সুবর্ণ বসু

More Interviews

cc

ইন্দ্ররঙ প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসবে নিজের নাটক ‘কিষন ভার্সাস কনহইয়া’ নিয়ে এসেছিলেন হিন্দি ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। নাটক শুরুর একটু আগে তিনি কথা বললেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। নাটক, ধর্ম আর রাজনীতি— সবটা নিয়েই তাঁর বক্তব্য শুনতে সেখানে উপস্থিত ছিল ১৯ ২০-ও।

cc

মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর-এর জীবনের উপর তৈরি ছবি ‘সচিন: আ বিলিয়ন ড্রিমস’ মুক্তি পেতে চলেছে ২৬ মে। তার আগে সচিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে পেল ১৯ ২০…

cc

কলকাতায় ক‌্যাটরিনা কাইফ আর সিদ্ধার্থ মলহোত্র! ‘বার বার দেখো’র প্রমোশনে এসে এই তারকা জুটি এবং ছবির পরিচালক নিত‌্য মেহরা-র কথায়-কথায় উঠে এলো বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং কথা… সাক্ষী ছিল ১৯ ২০!

cc

নিজের প্রথম বলিউড ছবি, হৃতিক রোশনের বিপরীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা, মিস ইন্ডিয়া থেকে মহেঞ্জো দাড়ো অবধি যাত্রা, সমস্ত কিছু নিয়ে পুজা হেগড়ে কথা বললেন শ্রাবন্তী চক্রবর্তীর সঙ্গে।