UnishKuri
Web-entertainment-2.jpg
ইন্দ্ররঙ প্রথম জাতীয় নাট্যোৎসবে নিজের নাটক ‘কিষন ভার্সাস কনহইয়া’ নিয়ে এসেছিলেন হিন্দি ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। নাটক শুরুর একটু আগে তিনি কথা বললেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। নাটক, ধর্ম আর রাজনীতি— সবটা নিয়েই তাঁর বক্তব্য শুনতে সেখানে উপস্থিত ছিল ১৯ ২০-ও।

কলকাতায় এসে এই নাট্যোৎসবে যোগ দিতে পেরে কেমন লাগছে?
যখনই কলকাতায় নাটক করতে আসি, ভীষণ ভাল লাগে। আমি বরাবরই বাংলা থিয়েটারের বিশাল বড় ভক্ত। শম্ভু (মিত্র)-দার সময়টা, উৎপল দত্ত… সেসময় বাংলায় যেসব সিনেমা তৈরি হত, সেগুলোও নিজের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল। কলকাতায় কাজ করতে আসাটা তাই আমার কাছে অনেকটা তীর্থস্থান ভ্রমণের মতো। ইন্দ্ররঙ জাতীয় নাট্যোৎসবের প্রথম সংস্করণেই যে উদ্যোক্তারা আমাকে ডেকেছেন, তাতে আমি খুবই সম্মানিত বোধ করেছি। আর্থার মিলারের লেখা ‘দ্য প্রাইস’ নাটকটা আমার বহুদিন ধরে করার ইচ্ছে ছিল। সেটার কথাও এখানে এসে, এই উৎসবের আহ্বায়ক শ্রী ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলার পরই পাকাপাকি হল। মুম্বই ফিরে গিয়েই ওটার কাজ শুরু করে দেব।

সিনেমার চেয়ে থিয়েটারকেই আপনি বেশি প্রাধান্য দেন সবসময়। এর কারণটা কী?
থিয়েটারে একটা complete satisfaction পাওয়া যায়। সিনেমার ক্ষেত্রে যেটা হয়, আপনি নিজে ভাল অভিনেতা না হলেও পরিচালক নিজের বুদ্ধি দিয়ে আপনাকে বাঁচিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু মঞ্চে আপনাকে অন্য কেউ বাঁচিয়ে দিতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, মঞ্চে কাজ করতে গেলে দারুণ-দারুণ গল্প বলার সুযোগ পাওয়া যায়। আজকাল সেটা কিছু-কিছু হিন্দি ছবিতেও হচ্ছে বটে, তবে থিয়েটারে সেই সুযোগটা অনেক আগে থেকেই ছিল। William Shakespeare থেকে শুরু করে Arthur Miller-এর মতো বড়সড় মাপের লেখা নিয়েও কাজ করার স্বাধীনতাটা থিয়েটারে আছে। উপরন্তু থিয়েটারে দর্শকদের কাছ থেকে instant rejection কিংবা approval পাওয়া যায়। অভিনেতা হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগটা বেশি পাওয়া যায় থিয়েটারেই।

থিয়েটারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন?

অবশ্যই। এই তো মুম্বইতে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখ থিয়েটারের হিতসাধনে অনেক কাজ করেছিলেন। শশী কপূরের কথাই ধরুন না। কোটি-কোটি টাকা অর্থমূল্যের জমি ছিল ভদ্রলোকের কাছে। চাইলেই সেখান থেকে আরও অনেক বেশি কোটি টাকা উপার্জন করতে পারতেন। তা না করে তিনি পৃথ্বী থিয়েটার তৈরি করলেন এবং সারা জীবন সেটাকে আগলে রাখলেন। এই ধরনের লোকদের পাশে যদি সরকার এসে না দাঁড়ায়, তা হলে আর কী করে হবে!

আমাদের এখানে ব্রাত্য বসু বিধায়ক হওয়ার পর থিয়েটারের জন্য সরকারি উদ্যোগে অনেক কিছু করেছেন। আপনিও তো মন্ত্রী। থিয়েটারের জন্য এমন কিছু করার পরিকল্পনা কি আপনারও আছে?
গুজরাতে তো আমি নিয়মিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলি এই নিয়ে। কলকাতায় তো তবু অনেক ভাল-ভাল থিয়েটার আছে। মুম্বইতে দুটো-তিনটের বেশি নেই। দিল্লির লোকজন আবার নাটকের কথা শুনলেই পাশ জোগাড় করার জন্য ছুটবে, কিন্তু পয়সা খরচ করে দেখবে না কেউ! গুজরাতেও অনেক ভাল-ভাল থিয়েটার আছে। থিয়েটার ভাল হলে তবেই লোকে নাটকটা আরও বেশি উপভোগ করতে পারবে। সেই চেষ্টা আমরা সবসময়ই করি। এমনকী গুজরাতে থিয়েটারের অবস্থা এতটাই ভাল যে থিয়েটার করে ওখানকার লোকে মুম্বইতে বাড়ি-গাড়ি কিনছে, এমন উদাহরণও আমি দিতে পারি!

থিয়েটারের উন্নতিতে দর্শকেরও কি কিছু ভূমিকা থেকে যায় বলে আপনার মনে হয়?

এটা অনেকটা ওই মুরগি আগে না ডিম আগে-র মতো একটা প্রশ্ন। কলকাতায় এককালে থিয়েটার ভীষণ উন্নতমানের ছিল। সেসময়ের দর্শকরাও অমনটাই ছিলেন। নতুন আইডিয়াকে সাদরে গ্রহণ করতে পারতেন। ভাল থিয়েটারের জন্য তাই দর্শকের রুচিও উন্নত হওয়াটা জরুরি। আজকাল আর কেউ শুধুই বিনোদনের জন্য থিয়েটার দেখতে আসেন না। বরং সবাই চান, নাটকের শেষে পরদাটা পড়ে যাওয়ার পর তাঁদের মাথার মধ্যে অন্য একটা পরদা খুলে যাক। কিছু একটা চিন্তাভাবনা নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। দর্শককে এই জিনিসটা provide করাটা আমাদের কর্তব্য।

‘কিষন ভার্সাস কনহাইয়া’ নাটকটা থেকেই তো ‘ওহ মাই গ়ড’ ছবিটা তৈরি হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে আপনি ভগবানে বিশ্বাস করেন?
মঞ্চে যা কিছুই আমি বলি, সেটা আমি খুব বিশ্বাস করি। আমার মনে হয় সমাজ হল মন্দির আর সমাজে বাস করছে যে মানুষ, সে হল গিয়ে ভগবান। কোনও একজন superpower যে আছেন, সেটাও অবশ্য আমার মনে হয়। কিন্তু ধর্মে টাকা invest করাটা আমার ভীষণ না পসন্দ। আমার কিছু জৈন বন্ধু আছেন, তাঁরা আগে যত টাকা মন্দির-টন্দিরে দান করতেন, এখন সবটাই দিয়ে দেন বিভিন্ন হাসপাতালে। এবং টাকার সেই পরিমাণটা কিন্তু নেহাত কম নয়। এই নাটকটা দেখার পর গত তিন-চারবছরে ওঁরা বিভিন্ন চ্যারিটি আর হাসপাতালে প্রায় ছ’ থেকে সাত কোটি টাকা দান করেছেন। সেটাই আমাদের নাটকটার সাফল্য।

ধর্ম নিয়েই বা আপনার কী মত? আজকের সমাজে কি ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আছে?
হ্যাঁ, ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার মনে হয়। কিন্তু একই সঙ্গে ধর্মের নামে হানাহানিরও আমি তীব্র নিন্দে করি। ধর্মের নামে যে কোনও মৃত্যুই নিন্দনীয়।

রাজনীতি নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করা যাবে না বলছেন, কিন্তু আপনার কী মনে হয় না, রাজনীতি আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে?
(হাসতে-হাসতে) সে তো আছেই। সকালে পেপার খুললে, কিংবা টিভির নিউজ় চ্যানেল খুললেই রাজনীতির খবর আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু আমি নিজে যেহেতু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি, তাই এরকম একটা নাট্যোৎসবে এসে রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। অন্যসময় আসুন না, আপনার সঙ্গে আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে পারি।

সেনসরশিপ নিয়ে আপনার কী বক্তব্য?
আমার মতে, কোনওরকম সেনসরশিপ থাকা উচিতই নয়।

অচ্যুত দাস

More Interviews

cc

মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর-এর জীবনের উপর তৈরি ছবি ‘সচিন: আ বিলিয়ন ড্রিমস’ মুক্তি পেতে চলেছে ২৬ মে। তার আগে সচিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে পেল ১৯ ২০…

cc

কলকাতায় ক‌্যাটরিনা কাইফ আর সিদ্ধার্থ মলহোত্র! ‘বার বার দেখো’র প্রমোশনে এসে এই তারকা জুটি এবং ছবির পরিচালক নিত‌্য মেহরা-র কথায়-কথায় উঠে এলো বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং কথা… সাক্ষী ছিল ১৯ ২০!

cc

নিজের প্রথম বলিউড ছবি, হৃতিক রোশনের বিপরীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা, মিস ইন্ডিয়া থেকে মহেঞ্জো দাড়ো অবধি যাত্রা, সমস্ত কিছু নিয়ে পুজা হেগড়ে কথা বললেন শ্রাবন্তী চক্রবর্তীর সঙ্গে।

cc

‘ঈগলের চোখ’ ছবিতে নামীদামী অভিনেতাদের পাশাপাশি একটি নতুন মুখও আমরা দেখতে পেয়েছি,যে দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। মিষ্টি সেই মেয়েটির নাম রিয়া বণিক। বাংলা বিভিন্ন পত্রপত্রিকার পাতা, এবং বিশেষ করে ‘১৯ ২০’-র পাতা উল্টোলেই যাকে এতদিন আমরা মডেল হিসেবে দেখে এসেছি। মডেলিং থেকে অভিনয়, এই নতুন পথটা রিয়ার জন্য কেমন ছিল সেই গল্পই শুনে নিলেন মৌমিতা সরকার।

1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 >