UnishKuri
Web-career.jpg
সময় না পেলে সময় দেব কী করে?
প্রথমবার দাড়ি-গোঁফ বেরনোটা সমস্ত ছেলের কাছেই খুব স্পেশ্যাল একটা ঘটনা। ওদের দেখা পাওয়া গিয়েছে মানেই যেন খুব বড় হয়ে গিয়েছে ছেলেরা। অন্তত আমরা ছেলেরা তো তেমনটাই ভাবি। বয়স ১৮ পেরলে সাবালকত্বের স্বীকৃতি, সে তো দেয় আইন-কানুন-সমাজ। সৌভাগ্যক্রমে তার আগে দাড়ি-গোঁফ বেরলেই ব্যস! আর কে পায়! দৌড়ে-দৌড়ে দোকান থেকে প্রথমবার নিজের জন্য আলাদা রেজ়র কিনে আনা যায়। বাবা কিংবা দাদার কাছে শিখে নিতে হয়, কীভাবে ধাপে-ধাপে দাড়ি-গোঁফটা কেটে ফেলতে হয়। যত কাটা হবে, ততই নাকি আরও বেশি করে ভুরভুর করে বেরিয়ে আসবে তারা! প্রথম-প্রথম সারা মুখ ভরতি করে দাড়ি বেরয় না। উঠতি বয়সের ছেলেদের তাই ভীষণ আগ্রহ থাকে ঘন-ঘন শেভিংয়ে! আরে বাবা, দাড়ি নিয়ে কায়দাটা করার জন্য আগে ভাল করে দাড়ি গজানোটা তো দরকার, নাকি? বারবার শেভ না করে অতএব উপায় কী!
                

সবার আগে বাপু তোমায় বলি, বিশেষ দিনগুলোকে ‘বিশেষ’ তো আর এমনি-এমনি বলা হয় না। ওই দিনগুলো লোকে আর-পাঁচটা দিনের চেয়ে আলাদা ভাবে কাটাবে, সেটাই কাম্য। কাজেই এমন সব দিনে পার্টনার যদি একটু অ্যাটেনশন চেয়েই থাকে, তাতে ভীষণ অন্যায্য কিছু তো দেখছি না ভায়া। তবে…

তবে একথাও সত্যি যে এক-দুটো দিন বিশেষভাবে উদযাপন করতে যদি না-ও পারে কেউ, তা নিয়ে বারবার রাগ-অভিমান করাটাও কি ঠিক হচ্ছে? ইচ্ছে না থাকতেও যদি স্পেশ্যাল দিনে পার্টনারকে নিজের মুখ দেখাতে তুমি অপারগ হও বারবার, তা হলে তাকে বুঝিয়ে বলো—

১) ইচ্ছে করে  যে তুমি ব্যাপারটা করছ না, সেকথাটা সবার আগে বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। স্বপক্ষে অকাট্য যুক্তি এক্ষেত্রে তোমাকেই সাজাতে হবে।

২) একান্তই যদি তার সঙ্গে সেই দিনটায় দেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তা হলে চেষ্টা করো… নাহ! স্রেফ চেষ্টা করলেই হবে না, একেবারে মেক সিয়োর করতে হবে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার আগে বা পরে কোনও একটা দিন তার সঙ্গে আলাদা করে সময় কাটানো।

৩) পার্টনারকে বোঝাতে হবে বলছি বটে, কিন্তু সেটা নিছক তর্কাতর্কি দিয়ে না বোঝালেও চলে। চুপিচুপি একটা গিফ্‌ট-টিফ্‌ট কিনে একদিন হঠাৎ করেই তাকে চমকে দাও না কেন। খুব দামি কিছু নয় না-ই বা হল। কিন্তু যে কোনও সাধারণ দিনকেও যে নিজেদের ইচ্ছে মতো স্পেশ্যাল করে নেওয়া যায়, সেই মেসেজটা সে পাবে। নিঃশব্দেই।

৪) শুধু পার্টনারকে বোঝানোই নয়। পাশাপাশি নিজেকেও বোঝাও যে একটা সম্পর্কে থাকতে গেলে যে ন্যূনতম দায়িত্বগুলো নিতে হয়, তার মধ্যে এগুলোও পড়ে। ফলে ‘পারছি না’ বলে দুম করে হাত তুলে দিলে চলবে না। শেষমেশ পার ছাই না পার, তার আগে নিজের একশো শতাংশ দিয়ে চেষ্টাটা সত্যিই করছ তো?

৫) ঝগড়া-ঝামেলায় তো কোনও সমাধান হওয়ার কথা নয়। তার চেয়ে বরং সে তোমাকে চার্জ করার আগে তুমি নিজেই মেনে নাও যে তুমি একজন অত্যন্ত অখাদ্য ধরনের প্রেমিক। আর যদি নিজেই তা মানতে না পার, তা হলে এই বেলা নিজেকে একটু পালটানোর চেষ্টা করলেই হয়। ঠিক কিনা?

 

অচ্যুত দাস