UnishKuri
Web-career.jpg
ভাল বয়ফ্রেন্ড মানেই কি মোটা মাইনের চাকরি?
এ এক অদ্ভুত স্টিরিওটাইপ। রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের সমানাধিকারের দাবি আমরা যতই মেনে নিই, এই একখান ধারণায় কিন্তু এখনও সেভাবে আঘাত পড়েনি ছেলে-মেয়ে কোনও তরফ থেকেই। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের শেখানো হয়, ‘লেখাপড়া না করলে, ভাল চাকরিবাকরি না পেলে সংসার করবি কী করে? বউ-ছেলেমেয়েকে খাওয়াবি কী?’
                

সেই জায়গায় মেয়েদের শুধু নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলা হয়। একটা সময় পর্যন্ত ছেলেরাই সামলাত বাইরের কাজ, মেয়েদের অলিখিত দায়িত্ব ছিল সংসার সামলানো। আজ সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। পুরুষদের রীতিমতো টেক্কা দিয়ে ঘরে-বাইরে সমানভাবে দাপটের সঙ্গে কাজ করছে মেয়েরাও। তা সত্ত্বেও আজও, ধরেই নেওয়া হয়, বিয়ের বাজারে সুপাত্রের প্রথম ও প্রধান শর্ত, একটি পার্মানেন্ট চাকরি। মেয়েটির চাকরি পার্মানেন্ট হলে অতি উত্তম, কিন্তু তা না হলেও সেরকম দুশ্চিন্তার কিস্যু নেই। আপদে-বিপদে পড়ে মেয়েটির চাকরি চলে যায় যাক, পাত্রের চাকরিটি তো পাকা রে ভাই!

সুশিক্ষিত, আধুনিক চিন্তাভাবনার জেন-ওয়াইয়ের অনেক মেয়ে আজও ভাবে, আমার ভবিষ্যতের লাইফ পার্টনারটি যেন রোজগারে আমার চেয়ে বেশি দাপুটে হয়। যার সঙ্গে সারাজীবন এক ছাদের তলায় কাটাব, তার রোজগার কত, তা দিয়ে সংসার চলবে তো, এই ভাবনাগুলো মাথার মধ্যে আসা ভীষণ স্বাভাবিক, কিন্তু তা বলে ‘ওর রোজগার আমার চেয়ে বেশি তো?’— এ আবার কেমনধারা কথা ভায়া?

তা হলে এই যে এত লেখাপড়া করলাম, এত স্মার্টফোন ঘাঁটলাম, এত ইন্টারনেট করে ফাটিয়ে দিলাম— তবু এরকম পুরনো ধারণাটা মনের মধ্যে বাসা বেঁধে থেকে গেল কী করে? এর একটা কারণ বছরের পর-বছর ধরে চলে আসা অলিখিত অভ্যেস। যা ঢুকে বসে আছে আমাদের রক্তের মধ্যে। তৈরি করে ফেলেছে একটা অবচেতন ধারণা। যে ধারণা বলে, দিনের শেষে সংসারে টাকা-পয়সার চিন্তা পুরুষমানুষের কাঁধে। মেয়েরাও উপার্জন করবে ঠিকই, কিন্তু ওটা যেন দুধ-ভাত। হাতের পাঁচ। হলেও হয়, না হলেও হয়। ‘কী? মেয়েদের চাকরি দুধ-ভাত? হাতের পাঁচ?’ কোনও মেয়েকে এই কথা বলেই দ্যাখো। ঘুষি পাকিয়ে তৎক্ষণাৎ সে মেরে শেষ করবে তোমায়। অথচ সেই মেয়েকেই জিজ্ঞেস করো, তার ভবিষ্যত লাইফ পার্টনারের স্যালারি যদি তার চেয়ে কম হয়, সেটা কি সে মেনে নিতে পারবে? বাজি রেখে বলতে পারি, ১০০ জনে অন্তত ৯৫ জন মেয়ের উত্তরটা নেতিবাচকই হবে।

জেন ওয়াইয়ের যুক্তি-বুদ্ধি কী বলে? এই স্টিরিওটাইপটা কি এবার ভাঙা দরকার নয়? সারাজীবনের জন্য যে আমার পার্টনার হবে, তার স্যালারি আমার চেয়ে বেশিই হোক আর কম, কী যায় আসে তাতে? দু’জনে মিলে চলে গেলেই তো হল, নাকি?

পুরুষমানুষের male ego ভারী বিষম বস্তু। তার তাড়ণায় সে নিজে ভাবলেও ভাবতে পারে, তার জীবনসঙ্গীর চেয়ে তার রোজগার বেশি হতে হবে (যদিও এই ভাবনাটাও যুক্তিগ্রাহ্য নয় একেবারেই)। কিন্তু এই বিষয়টায় সামগ্রিকভাবে ছেলে-মেয়ে দু’দলেরই চিন্তাভাবনাটা এতদিনে কিন্তু পালটানোর সময় এসেছে। তাই নয় কি?

 

অচ্যুত দাস