UnishKuri
Web-career.jpg
আস্‌লি মর্দ কি সেই, যে দাড়ি রাখে?
প্রথমবার দাড়ি-গোঁফ বেরনোটা সমস্ত ছেলের কাছেই খুব স্পেশ্যাল একটা ঘটনা। ওদের দেখা পাওয়া গিয়েছে মানেই যেন খুব বড় হয়ে গিয়েছে ছেলেরা। অন্তত আমরা ছেলেরা তো তেমনটাই ভাবি। বয়স ১৮ পেরলে সাবালকত্বের স্বীকৃতি, সে তো দেয় আইন-কানুন-সমাজ। সৌভাগ্যক্রমে তার আগে দাড়ি-গোঁফ বেরলেই ব্যস! আর কে পায়! দৌড়ে-দৌড়ে দোকান থেকে প্রথমবার নিজের জন্য আলাদা রেজ়র কিনে আনা যায়। বাবা কিংবা দাদার কাছে শিখে নিতে হয়, কীভাবে ধাপে-ধাপে দাড়ি-গোঁফটা কেটে ফেলতে হয়। যত কাটা হবে, ততই নাকি আরও বেশি করে ভুরভুর করে বেরিয়ে আসবে তারা! প্রথম-প্রথম সারা মুখ ভরতি করে দাড়ি বেরয় না। উঠতি বয়সের ছেলেদের তাই ভীষণ আগ্রহ থাকে ঘন-ঘন শেভিংয়ে! আরে বাবা, দাড়ি নিয়ে কায়দাটা করার জন্য আগে ভাল করে দাড়ি গজানোটা তো দরকার, নাকি? বারবার শেভ না করে অতএব উপায় কী!
                

কিন্তু সব কথার শেষ কথা এই যে, এত যে দাড়ি-গোঁফের বাহার, সেসব কার জন্য? কীসের জন্য? কেন? বিজ্ঞান ঘাড় নেড়ে বলতেই পারে, আসলে ত্বক থেকে তেল বেরিয়ে যাওয়ার দরকার হয়, চুল তো রেচন পদার্থ (excretory matter) বই অন্য কিছু নয় ইত্যাদি। কিন্তু রেচন পদার্থকে নিয়ে যে বাহারটা করা হয়, তার কী প্রয়োজন বাওয়া? কখনও দাড়ি-গোঁফকে দীর্ঘদিন ধরে পুষে, কখনও আবার ক্লিন শেভ করে তাকে একেবারে উড়িয়েই দিয়ে, কখনও আবার ট্রিমারের সাহায্যে ইচ্ছেমতো খানিকটা রেখে-খানিকটা কেটে… টপ করে স্বীকার করে ফেললেই তো হয় বাপধন, এসবই আসলে করতে হয় অপোজ়িট সেক্সের চোখে নিজেকে আকর্ষক করে তুলতে চেয়ে। তাই নয় কি? কিন্ত সেই অপোজ়িট সেক্স আসলে কী চায়? মুখ ভরতি দাড়ি? নাকি ফ্রেঞ্চ কাট? নাকি একেবারে চাঁছাপোঁছা সমতল জমি?

এর সঠিক উত্তর কোনও ছেলেরই জানা নেই। যেসব ছেলেরা প্রেম করে কিংবা বিয়ে করে ফেলেছে, তারা তবু প্রেমিকা অথবা বউয়ের পরামর্শ অনুযায়ী দাড়ি-গোঁফের কমা-বাড়া করে থাকে, একা-বোকা সিঙ্গলদের কিন্তু সত্যিই জানা নেই, ঠিক কেমন ছাঁটে ‘তিনি’ খুশি হবেন। কোনও-কোনও মেয়ে দাড়ি-গোঁফকে নেহাত জঙ্গল মনে করে নাক সিঁটকোয়, কেউ আবার মনে করে একটু দাড়ি না থাকলে সে-ছেলে ছেলেই নয়। কী বিড়ম্বনা বলো দেখি বেচারি ছেলেদের!

দাড়ি-গোঁফ অতএব রাখা উচিত নিজের মুখের আকৃতি অনুযায়ী। প্রেমিকা নিতান্তই তোমার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে দাড়ির ছাঁট ঠিক না করে দিলে রাখো না নিজের ইচ্ছে মতো যা খুশি। দাড়ি যদি রাখতেই হয়, নিয়মিত তার পরিচর্যাও কিন্তু জরুরি। দাড়ির চোটে তার তলায় ঢেকে থাকা ত্বকের কথা ভুলে গেলে তো চলবে না। মুখ ভর্তি দাড়ি রাখলে অতএব সময় করে তাতে সাবান-শ্যাম্পু দেওয়ার কথা মনে রেখো। আর-একটা কথাও এই প্রসঙ্গে বলে রাখা জরুরি। ঘন দাড়ি বেরনোর আশায় বারবার, বারবার শেভ করার আগে একটা কথা মাথায় রেখো, ঘন-ঘন শেভিংয়ের ফলে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বক। দাড়ির ধারালো ভাবও যায় বেড়ে। দিনে দু’বার করে শেভ করে মুখভরতি ঘন দাড়ি নিয়ে মামনিকে খুশি তো করে ফেললে, এদিকে আবেগঘন হয়ে সে তোমাকে চুমু খেতে গিয়ে দাড়ির খোঁচায় তার গাল-টাল কেটেকুটে একসা— সেটা খুব একটা ভাল ব্যাপার হবে কি? ভেবে দেখার মতো বিষয় কিন্তু…