UnishKuri
web-to-new-banner.jpg
Career Counselling

রেডিয়ো জকি হতে চাও?

অনন্য সেন্স অফ হিউমার আর প্রতিভা থাকলে এই পেশায় আসতে পার তুমিও। কীভাবে, জানাচ্ছে ১৯ ২০

প্রাক-টিভি আর ইন্টারনেট যুগে খবরের কাগজ আর খাতা-কলমের বাইরে রেডিয়োই ছিল মানুষের ঘরে-বসে-বিনোদন-এর একমাত্র মাধ্যম। আমাদের জীবনে টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের এন্ট্রির পর রেডিয়ো তার আবেদন খানিকটা হারাল বটে, তবে খুব শিগগিরিই একাধিক বেসরকারি সংস্থা এফএম রেডিয়ো চালু করে তার হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনলেন অনেকখানিই। সেই থেকে আজও, চড়াই-উৎরাই থাকলেও, রেডিয়ো তার স্বাভাবিক জৌলুস কখনওই হারায়নি বিশেষ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলাই যায়, গানবাজনা যাদের প্যাশন, সেইসব ছেলে-মেয়েদের পক্ষে এই মুহূর্তে রেডিয়ো জকিইয়িংয়ের মতো এক্সাইটিং, প্রমিসিং এবং চ্যালেঞ্জিং কেরিয়ার খুব কমই আছে।

কাজটা কী?
রেডিয়ো জকি (সংক্ষেপে আর জে)-রা মূলত রেডিয়োয় সঙ্গীতানুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শ্রোতারা যাতে গান শুনে এবং সঞ্চালকের বক্তব্য শুনে অনুষ্ঠানটা উপভোগ করেন, সেই পুরো দায়িত্বই থাকে একজন আর জে-র কাঁধে। রেডিয়ো মানে যেহেতু পুরোটাই কানে শোনা সংক্রান্ত ব্যাপার-স্যাপার, এই পেশায় তাই তোমার পরিচিতি (যদি কখনও হয়, তা হলে) হবে তোমার গলার স্বরে। অনুষ্ঠান পরিচালনার মধ্যে থাকে শ্রোতাদের অনুরোধ শুনে সেইমতো গান শোনানো, অতিথিদের ইন্টারভিউ নেওয়া, কনটেস্ট ম্যানেজ করা, গান সম্পর্কে শ্রোতাদের তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়া ও সেদিনের ট্র্যাফিক সম্পর্কে তাদের অবহিত করার মতো একগুচ্ছ কাজ। এই পেশায় মাথা ঠান্ডা রেখে অত্যন্ত সপ্রতিভ হয়ে কাজ করার ক্ষমতা তো চাই-ই চাই, উপরন্তু প্রয়োজন প্রচণ্ড খাটুনি করার মানসিকতা। এ তো গেল রেডিয়ো জকির পেশায় পা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় গুণগুলোর কথা। তার পাশাপাশি এই পেশায় যদি নাম করতে চাও, সেক্ষেত্রে কিন্তু দরকার নিজস্ব স্বতন্ত্র ও অনন্য স্টাইল অফ কমিউনিকেশন। আদর্শ রেডিয়ো জকি সে-ই, যার সঙ্গে সত্যি-সত্যিই ‘কথায় পেরে ওঠা মুশকিল’। তা বলে শ্রোতাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও কি অন্যকে বলার সুযোগ না দিয়ে আর জে একাই বলে যাবে যা বলার? উত্তরটা, বলাই বাহুল্য, ‘না’! রেডিয়ো জকিকে তাই শ্রোতা বুঝে সেইমতো হতে হবে ব্যালেন্সড।

কী যোগ্যতা চাই?

এই পেশায় পুঁথিগত লেখাপড়ার চেয়ে অনেক বেশি কদর করা হয় আর জে হিসেবে প্রার্থীর প্রতিভার। তবে, প্রথাগত শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়া হলেও একখানা গ্র্যাজুয়েশন কিংবা অন্তত উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডিটুকুও না পেরলে কিন্তু কাজ পাওয়া চাপের।
একজন রেডিয়ো জকির পক্ষে সবচেয়ে জরুরি হল বিভিন্ন অকেশন অনুযায়ী কণ্ঠস্বর ও বাচনভঙ্গি পালটে-পালটে ফেলা। তা বাদে একজন আর জে-র উচ্চারণ স্পষ্ট হওয়া উচিত, যে ভাষায় সে কথা বলছে, তার উপর তার যথেষ্ট দখল এবং অনর্গল কথা বলে যেতে পারার ক্ষমতা, চাই এসবও।
রেডিয়ো এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একজন আর জে-কে সাত থেকে সত্তর, যে কারও সঙ্গেই ইন্টার‌্যাক্ট করতে হতে পারে। এই কথাটা মাথায় রেখে ইন্ডিভিজুয়াল শ্রোতার সঙ্গে আর জে-কে মিশতে হয় এক্কেবারে আলাদা-আলাদা রকম ভাবে। সফল ও বিখ্যাত আর জে মানেই তার সেন্স অফ হিউমার হওয়া চাই সবার সেরা। এবাদে রেডিয়ো জকিকে হতে হয় ঠান্ডা মাথার। উলটোদিকের শ্রোতার কাছ থেকে যত প্ররোচনাই আসুক, মেজাজ হারিয়ে একবার বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেই আর জে হিসেবে তোমার গ্রহণযোগ্যতাও মানুষের মনে কমতে বাধ্য!

কী ধরনের কাজ পাওয়া যায়?
যে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব কোনও রেডিয়ো জকিকে দেওয়া হচ্ছে, তার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে রেডিয়ো জকিকে নিজেকে পালটে-পালটে, ভেঙেচুরে আবার নতুন করে সাজাতে হয়। কোনও এক রেডিয়ো জকির নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান মানুষের কতটা পছন্দ হবে, তা কিন্তু প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে একান্তভাবে সেই আর জে-র দক্ষতার উপর।
আশপাশের দিন-দুনিয়ায় কোথায় কী হচ্ছে, রাজনীতি থেকে খেলাধুলো, বিনোদন থেকে বিজ্ঞাপন, সবটা সম্পর্কেই একজন আর জে-কে হতে হয় ওয়াকিবহাল। আর জে-র একটা গুরুদায়িত্ব যেহেতু শ্রোতাদের জন্য গান বাজানো, তাই মিউজ়িক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এবং কম্পিউটারেও তাদের হতে হয় স্বচ্ছন্দ।

কাজটা পাব কী করে?
আর জে হিসেবে কাজ পাওয়া যেতে পারে এ আই আর (অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো) থেকে শুরু করে দেশজোড়া আরও একাধিক রেডিয়ো স্টেশনের যে কোনওটিতেই। কাজ পেতে হলে আবেদন করার উপায় দুটো। হয় রেডিয়ো স্টেশনের ডাকে অডিশনে গিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, নইলে যোগাযোগ করতে রেডিয়ো সফ্‌টওয়্যার প্রোডিউসার কোম্পানির সঙ্গে। অনেক রেডিয়ো স্টেশনেরই নিজস্ব ওয়েবসাইটে রিক্রুটমেন্টের নিজস্ব পরিসর থাকে। আবেদন করা যায় সেখানে গিয়েও। একবার কাজে ঢুকে পড়ার পর দু’-তিনবছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে পারলে তারপর টেলিভিশন এবং রেডিয়োর বিজ্ঞাপনে ডাবিং করে দু’ পয়সা উপার্জন করা যায়। তা বাদে আর জে-র কাজ করতে-করতে কথাবার্তায় যত তুমি চোস্ত হবে, বিভিন্ন লাইভ শো-এ অ্যাঙ্করিংয়ের সুযোগও ততই ছুটে-ছুটে আসবে তোমার সামনে।

ব্যস, এই। আর কী। রেডিয়ো জকিইয়িং নিয়ে লেখাপড়া করা যেতেই পারে চাইলে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে নানারকম ছোট-বড় কোর্স করানো হয়। সেসবের খোঁজ এই লেখায় থাকল না এই কারণেই যে, আর জে হতে চাইলে ওই কোর্সগুলো কখনওই বাধ্যতামূলক নয়। একান্তই যদি তোমার প্রতিভা থাকে আর থাকে সফল আর জে হওয়ার জন্য অসম্ভব জেদ, তা হলেই এই পেশায় তোমার যুগপৎ এন্ট্রি ও উন্নতি কেউ ঠেকায় সাধ্যি কী!


কাজের ধরন

একটা বিয়েবাড়ির এ টু জ়েড আয়োজন এবং দেখাশোনার দায়িত্বে থাকে ওয়েডিং প্ল্যানাররা। বিয়েবাড়ির খুঁটিনাটি আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে শুরু করে বর-কনের সাজসজ্জা, বিয়েবাড়ির যাবতীয় কেনাকাটার পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন, সবকিছুই সামলাতে হয় তাঁদের। অনেকসময় বিয়ের তারিখ পর্যন্ত ঠিক করতে হতে পারে ওয়েডিং প্ল্যানারদের। সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট যে মতেই বিয়ে করতে চান না কেন সেই অনুযায়ী পুরোহিত, ফাদার বা কাজিসাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করাও তাঁদেরই দায়িত্ব। ক্লায়েন্টের ক্ষমতা অনুযায়ী বিয়ের বাজেট তৈরি করাও একটা গুরুদায়িত্ব। নিমন্ত্রিতদের লিস্ট তৈরি করা, নেমন্তন্নের কার্ড ছাপানো, একে-একে নেমন্তন্নপর্ব সেরে ফেলার জন্য সঠিক যানবাহনের ব্যবস্থা করা, সবই থাকে ওয়েডিং প্ল্যানারদের জিম্মায়। বিয়েবাড়ির ভেনু ঠিক করে সময় মতো বুকিং সেরে ফেলাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। ক্যাটারারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লায়েন্টের পছন্দ অনুসারে মেনু ঠিক করা, ফোটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, ডেকরেটর, মিউজ়িক ব্যান্ড ইত্যাদির ব্যবস্থাও সব পাকা করে রাখতে হয় ওয়েডিং প্ল্যানারদের। পাশাপাশি বিয়েবাড়ির অতিথিদের জন্য যাতায়াতের সুব্যবস্থা করা, বিয়ের দিন যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়তে হয় তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে বসার জায়গা আর জলের ব্যবস্থা রাখার মত ছোটখাটো তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপরেও নজর রাখতে হয় তাঁদের। বিয়ের দিন বর-কনে তো বটেই, তাঁদের পরিবারের লোকজনেরাও চায় নিজেদের সেরা রূপে সকলের সামনে আসতে। সেইমতো তাঁদের জন্য ড্রেস এবং অ্যাকসেসরিজ় শপিং করা এবং বিউটিশিয়ানকে অ্যাপয়েন্ট করার কাজও করে থাকেন প্ল্যানাররা। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যেটা জরুরি তা হল রেজিস্ট্রেশন। বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে ম্যারেজ রেজিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং কোর্টে নোটিস দেওয়া, সবই সামলাতে হয় ওয়েডিং প্ল্যানারদের।

প্রয়োজনীয় দক্ষতা
ওয়েডিং প্ল্যানিংয়ের পেশা খুব ইন্টারেস্টিং। তবে এ পেশার ক্ষেত্রে কোনও গতে বাঁধা ছক নেই। বেশিরভাগ কাজটাই নিজের সৃজনশীলতার উপর নির্ভর করে করতে হয়। তাই বলা যায় এক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভিটি ইজ় দ্য কি ওয়ার্ড! ক্লায়েন্টের পরিবারের পছন্দ-অপছন্দ চট করে ধরে ফেলার ক্ষমতা থাকাটা বেশ জরুরি। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়ে কাজ করলে কাজটা আরও ভাল করে করা যায়। ভারতের যে কোনও প্রদেশেই বিয়ে মানে একটা বিরাট উৎসব। এই উত্সবে সকলকে সামিল করে অনুষ্ঠানটিকে মাতিয়ে রাখার দায়িত্ব থাকে ওয়েডিং প্ল্যানারদের হাতেই। অনেকসময় অনেক কম বাজেটের মধ্যেও কাজ করতে হয় তাঁদের। তার মধ্যেও নিজেদের আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে বিয়েবাড়িটা হিট করে দেওয়ার মধ্যেই ফুটে ওঠে তাদের দক্ষতা। অর্গানাইজ়েশনাল স্কিল এই পেশার ক্ষেত্রে খুব দরকার। কোন মাকের্টে কোন জিনিস সহজে পাওয়া যায়, এই বিষয়ে একটা জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। নিজেকে সঠিকভাবে মাকের্ট করা এ পেশার মূলমন্ত্র। আর প্রফেশনালিজ়ম এ পেশার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
এই পেশায় আসতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে বেশি দরকার পেশাগত দক্ষতার। যে কোনও বয়স বা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই এই পেশায় আসা যায়। বিয়ের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান সে বিষয়ে একটা স্বাভাবিক জ্ঞান থাকা দরকার। তবে এই পেশায় বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ডিল করতে হয় আর তার মধ্যে বেশিরভাগই হাই প্রোফাইল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তাই ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পাশ করা থাকলেই হবে। বিভিন্ন ধর্মের নিয়ম-কানুন আর বাকি সূক্ষ্ম বিষয়গুলির ব্যাপারে একটা সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। প্রথমে কোনও ট্রেনিং নিয়ে নিলে বা অন্ততপক্ষে কোনও নামী প্ল্যানারের অধীনে অ্যাসিস্ট করলে কাজের দক্ষতা আর অভিজ্ঞতা দুই-ই বাড়ে।

কাজের সুযোগ
কিছুদিন আগে অবধিও বাড়িতে বিয়ের উত্সব লাগলে কাকা, জ্যাঠারাই হাতে হাত মিলিয়ে সব আয়োজন করত। তবে এখন হাতে সময় কম আর ব্যস্ততাও বেশি। তবে গ্র্যান্ড ওয়েডিংয়ের স্বপ্ন অনেকেই দেখে। আর তাঁদের এই স্বপ্ন সত্যি করতে মাঠে নেমেছেন ওয়েডিং প্ল্যানাররা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়েডিং প্ল্যানিং এখন এক হিট কেরিয়ার। ভারতে তথা পশ্চিমবঙ্গেও ইদানীং এই পেশার জনপ্রিয়তা লক্ষণীয় হারে বেড়েছে। বেশ কিছু ওয়েডিং প্ল্যানার সংস্থাও গড়ে উঠেছে সাম্প্রতিক কালে। সেখানে কাজের সুযোগ তো অবশ্যই আছে পাশাপাশি চাইলে নিজে স্বনির্ভরভাবেও কাজ যায়। ভাল কাজ পাওয়ার জন্য ভাল পোর্টফোলিয়ো থাকা প্রয়োজন। নিজের আগের কাজের কিছু ছবি দিয়ে তৈরি করতে হয় এই পোর্টফোলিয়ো। এটা ক্যাটালগ হিসেবে কাজ করে। ক্লায়েন্টরা বেশিরভাগ সময়ে এই পোর্টফোলিয়ো দেখেই ওয়েডিং প্ল্যানার নিবার্চন করেন। এছাড়া ওয়েডিং প্ল্যানিং ছাড়াও ব্রাইডাল কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করতে পারেন তারা।

বেতন
ওয়েডিং প্ল্যানিং কেরিয়ারের ক্ষেত্রে কোনও বাঁধাধরা আয়ের অঙ্ক ধরে রাখা যায় না। বেশ কয়েকটা ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে তোমার পকেট কতটা ভরবে… এই পেশার ক্ষেত্রে একবার প্রতিষ্ঠা এবং নাম করতে পারলে রেট কার্ডেও পরিবর্তন আসে। তারপর নিজের টিমে কত জনকে নিয়োগ করছ তার উপরও নির্ভর করছে তোমার কতটা আয় হচ্ছে। তবে মোটামুটি বছরে দশ-বারোটা বিয়ে সুসম্পন্ন করতে পারলে কয়েকলাখ টাকা অবধি লাভ করা যায়। কোনও ওয়েডিং প্ল্যানিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে শুরুতে মাসিক ৫০০০-১০,০০০ টাকা অবধি আয় করা যায়। পরবর্তীকালে সেটা ২৫,০০০ থেকে প্রায় ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। সংস্থার রেপুটেশনের উপরও অনেকটা নির্ভর করে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়
ইভেন্টওয়ালা অ্যাকাডেমি অফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং
৫০৫, অফিস ১১, বি-উইং, এমসিসিআইএ ট্রেড টাওয়ার,
আইসিসি কমপ্লেক্স, সেনাপতি রোড , পুনে-৪১১০১৬

বন্ধন
সাপের্নটাইন লেন, লেবুতলা
বউ বাজার, কলকাতা
ফোন:(০৩৩)২৩২১-৫৯২৬

কলেজ অফ ইভেন্টস অ্যান্ড মিডিয়া(কোয়েম)
১১, প্রভাত রোড, ইরান্ডওয়েন, পুনে-৪১১০০৪
ই-মেল:[email protected]
ওয়েবসাইট: www.coemindia.com

………
………..
………..
……..
…….
………
……….
………..
……….


ভাল দিক-খারাপ দিক

যাঁরা প্রাইভেট ডিটেকটিভ নন, তাঁরা কাজের সূত্রে ছুটি তো পানই, সেইসঙ্গে জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমা, রিটায়ারমেন্ট ও পেনশন প্ল্যান, সবরকম সুবিধেই পেয়ে থাকেন। এই পেশায় যাঁরা আছেন, চিরকালই সমাজে সম্মান পেয়ে এসেছেন ভীষণরকম। তবে যেহেতু খুন-জখম-অপরাধ নিয়ে কারবার, তাই আঘাত পাওয়া এবং অবাঞ্ছিত দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার একটা আশঙ্কা এই পেশায় থেকে যায় সবসময়ই। অনেকসময়ই গোয়েন্দারা হুমকি পেয়ে থাকেন। তা বাদেও কাজের সূত্রে যে ধরনের ঘটনার তাঁরা মুখোমুখি হন, অনেকসময় অনেকদিনের জন্য তার একটা বিশ্রী এবং বিরক্তিকর ছাপ থেকে যায় মনে। একবার হাতে কোনও কেস নিলে তার সমাধান না হওয়া অবধি গোয়েন্দারা তা থেকে বেরতে পারেন না ইচ্ছে থাকলেও। তা সে উইকএন্ডই হোক কিংবা অন্য কোনও ছুটির দিন।

প্রতিযোগিতা কেমন?
প্রতিযোগিতার সেভাবে কোনও আশঙ্কা এই মুহূর্তে তো নেই। মানুষের সমাজ কোনওদিনই অপরাধমুক্ত থাকতে পারে না, যে কারণে অপরাধের রহস্যভেদ করতে পারেন যাঁরা, তাঁদের চাহিদাও থেকে যাবে চিরকাল। উপরন্তু ইন্টারনেটের বাড়বাড়ন্তের সঙ্গে-সঙ্গেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপরাধের ঘটনাও গিয়েছে বেড়ে। আস্তে-আস্তে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সবটাই ইন্টারনেট সর্বস্ব হয়ে পড়ছে, সেইসঙ্গেই বাড়ছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গোয়েন্দার প্রয়োজন।

কাজের বাজার কেমন?
কেউ বলেন সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের সমাজে অপরাধের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কেউ আবার বলেন, অপরাধ হয়তো একইরকম ছিল, সংবাদমাধ্যমের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছে বলেই এখন আরও বেশি-বেশি করে আমরা তার খবর পাই। ঘটনা যাই হোক না কেন, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এই দেশে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন ও ডিটেকটিভ সার্ভিসের চাহিদা কিন্তু দিন-দিন বেড়েই চলেছে। সিকিয়োরিটি নিয়ে মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়ছে ক্রমশই। ফলত দেশ জুড়ে ডিটেকটিভ এবং সিকিয়োরিটি এজেন্সিগুলো চলছে রমরমিয়ে। নানারকম ঝুঁকি আছে সত্যি, তা সত্ত্বেও বুদ্ধি খাটিয়ে একটা রহস্যের সমাধান করতে পারার যে তৃপ্তি, শুধু সেটুকুর লোভেই হাসতে-হাসতে চলে আসা যায় এই পেশায়। রিটায়ার্ড পুলিশরা তো আছেনই, পাশাপাশি এই আমাদের বয়সীদের কাছেও অপরাধের বিরুদ্ধে নিজের মতো করে লড়াই করার জন্য এর চেয়ে থ্রিলিং পেশা খুব কমই হতে পারে।


কেরিয়ার হিসেবে কেমন?

নিজের সঙ্গে এক বা একাধিক পোষ্য জন্তু রাখার মানুষের স্বভাব হালের কোনও ‘আদিখ্যেতা’ নয়। বরং সেই গুহামানবদের আমল থেকেই এই জিনিসে মানুষ অভ্যস্ত। আজও প্রতি দশটি বাড়ির অন্তত চারটেয় পোষা কুকুর, বিড়াল অথবা পাখি কিংবা নিদেনপক্ষে অ্যাকোয়ারিয়ামে রং-বেরংয়ের মাছ খুঁজে পাওয়া একেবারেই শক্ত কাজ নয়। দিন-দুনিয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে-সঙ্গে পোষ্যদের যত্ন নিয়েও মানুষ দিন-দিন হয়ে উঠছে আরওই সচেতন। ঠিক-ঠিক সময়ে তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ানো, ওষুধ খাওয়ানো, তারা অসুস্থ হলে চিকিত্সা করানো, সমস্ত দিকেই আম আদমি খেয়াল রাখছে পুঙ্খানুপুঙ্খ। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভেটিরিনারি সায়েন্সেসে অভিজ্ঞ মানুষজনের চাহিদা লাফিয়ে-লাফিয়ে বাড়ছে। পশু-পাখির বড়-বড় পোলট্রি-ফার্মের সংখ্যাও দিন-দিন বাড়ছে বই কমছে না। জীবজন্তুর প্রতি সামান্য প্রেম থাকলেও তাই এই চাকরি এই মুহূর্তে যথেষ্ট লোভনীয়।

কাজটা কী?
† চিড়িয়াখানা, ডেয়ারি, পোলট্রি, গোটারি এবং অন্যান্য পশুখামারের জন্তু ও গৃহপালিত পশুপাখি, এককথায় প্রাণিসম্পদের হেল্থকেয়ার সংক্রান্ত যে-কোনও ধরনের কাজ ও গবেষণা।
† পশুপাখিদের স্বাস্থ্যসমস্যার ডায়াগনোসিস করা, তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে টীকাকরণ, বিভিন্ন ক্ষত ড্রেসআপ করা, সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নির্মূল করা, সার্জারি ইত্যাদি।
† প্রাণিসম্পদের প্রিভেনটিভ কেয়ার।
† স্বাভাবিকভাবে এবং প্রয়োজনে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ বাড়ানো।
† পশুপাখিবাহিত রোগ, বিশেষত যেগুলি মানুষের পক্ষেও সংক্রামক, তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নির্মূল করা।
† খাদ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত কাজ। প্রাণিসম্পদ সমৃদ্ধ করার যেসব নিয়মকানুন আছে, তা সঠিকভাবে পালন করার উদ্দেশ্য নিয়ে তদারকি করা।
† বিভিন্ন বায়োলজিকাল, কেমিক্যাল, এগ্রিকালচারাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণামূলক কাজকর্মের ক্ষেত্রে ভেটিরিনারি বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
† বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বা ওয়াইল্ডলাইফ কনজ়ারভেশন বিষয়ক কর্মসূচীতেও পশুচিকিত্সকদের অংশগ্রহণ করতে হয়।
† ভেটিরিনারি অ্যাসিস্ট্যান্ট বা টেকনিশিয়ানদেরও বিভিন্ন ভেটিরিনারি হাসপাতালে পশুচিকিত্সকদের সহকারীর ভূমিকায় চাকরি দেওয়া হয়।
† লাইভস্টক (পশুসম্পত্তি) ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে কাজ পাওয়া যায়।
† বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতারও সুযোগ থাকে।

দক্ষিণা কেমন পাওয়া যাবে?
ভারতবর্ষে সরকারি বা বেসরকারি স্তরে ভেটিরিনারি নিয়ে কাজ করে মাসে ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০,০০০ টাকা অবধিও উপার্জন করা সম্ভব। পারিশ্রমিকের পরিমাণ, বলাই বাহুল্য, কাজের ধরনের সঙ্গে-সঙ্গে পালটে-পালটে যায় আর পাঁচটা চাকরির মতোই।

পরীক্ষা কী দিতে হবে?
যে কোনও ভেটিরিনারি কলেজে চার বছরের ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্সে ভর্তির প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হল পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং ইংরেজি নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অথবা পাশ করে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ইভিইটিএস (EVETS) নামে একটি পরীক্ষা হয়, যাতে জীববিদ্যা, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার উপর এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে। জীববিদ্যার উপর প্রশ্নের পরিমাণ বাকি দু’টি বিষয়ের চেয়ে বেশি হয়। এই পরীক্ষায় র‌্যাঙ্কের উপর নির্ভর করে কাউন্সেলিং হয় এবং তারপর পশ্চিমবঙ্গের ভেটিরিনারি কলেজগুলিতে ভর্তি নেওয়া হয়। এছাড়া সর্বভারতীয় স্তরে এআইপিভিটি (AIPVT) নামে অন্য একটি পরীক্ষাও হয়। দেশের সমস্ত ভেটিরিনারি কলেজ এই পরীক্ষা থেকে ১৫ শতাংশ আসনে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি নেয়। দু’টি পরীক্ষারই বিজ্ঞপ্তি প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয় আর পরীক্ষা হয় মে-জুন মাসে। এই কোর্সে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর কেউ ভেটিরিনারি স্পেশালিস্ট হতে চাইলে আলাদা ট্রেনিং কোর্স, ইন্টার্নশিপ করার পাশাপাশি নানা পরীক্ষায় বসতে হয়।

পড়ব কোথায়?

পশ্চিমবঙ্গে
১. অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেল্‌থ
১১০ চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, কলকাতা- ৭০০০৭৩
২. ওয়েস্টবেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ অ্যানিম্যাল অ্যান্ড ফিশারি সায়েন্সেস
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
৬৮ ক্ষুদিরাম বোস সরণি, নদীয়া
৩. বেঙ্গল ভেটিরিনারি কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল
বেলগাছিয়া রোড, বেলগাছিয়া
কলকাতা- ৭০০০৩৭
(বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনের কাছে)

পশ্চিমবঙ্গের বাইরে
১. ভেটিরিনারি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া
‘A’ উইং, সেকেন্ড ফ্লোর, অগস্ট ক্রান্তি ভবন
ভিকাজি কামা প্লেস, নয়াদিল্লি-১১০০৬৬
২. কলেজ অফ ভেটিরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাজ়ব্যান্ড্রি
মথুরা- ২১১০০২
৩. কলেজ অফ ভেটিরিনারি রিসার্চ
পন্থনগর, নৈনিতাল- ২৬৩১৪৫
৪. দ্য অফিস অফ দ্য ডেকান কলেজ অফ ভেটিরিনারি সায়েন্সেস
গুয়াহাটি, অসম
৫. কলেজ অফ ভেটিরিনারি সায়েন্সেস
খানাপাড়া, গুয়াহাটি, অসম
৬. বোম্বে ভেটিরিনারি সায়েন্সেস কলেজ
পারেল, মুম্বই-৪০০০১২
৭. পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ ভেটিরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস (PGIVAS)
আকোলা, মহারাষ্ট্র
৮. পি জি ইনস্টিটিউট, পঞ্জাবরাও কৃষি বিদ্যাপীঠ
আকোলা- ৪৪৪০০১, মহারাষ্ট্র
৯. কলেজ অফ ভেটিরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস
বিকানির- ৩৩৩৪০০১, রাজস্থান
১০. কলেজ অফ ভেটিরিনারি সায়েন্সেস
রাজেন্দ্রনগর, হায়দরাবাদ-৫০০০৩০, অন্ধ্রপ্রদেশ
১১. কলেজ অফ ভেটিরিনারি সায়েন্সেস
তিরুপতি-৫১৭৫০২
১২. ভেটিরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি
ভেপেরি হাই রোড, চেন্নাই-৬০০০০৭, তামিলনাড়ু
১৩. ভেটিরিনারি কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট
নামাখাই-৬৩৭০০২, তামিলনাড়ু
১৪. কলেজ অফ ভেটিরিনারি সায়েন্সেস
হিসার, হরিয়ানা
১৫. কেরল স্টেট ভেটিরিনারি কাউন্সিল
তিরুঅনন্তপুরম, কেরল