UnishKuri
web-to-new-banner.jpg
Career Counselling

ফিল্ম মেকিং
মারাত্মক প্যাশন ছাড়া এই পেশায় নাম করা সম্ভব নয় কোনওমতেই। খুঁটিনাটি খোঁজ দিচ্ছে ১৯ ২০

গণমাধ্যম সংক্রান্ত যা-যা কেরিয়ার অপশন হতে পারে, তার মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্রপূর্ণ এবং সৃজনশীল অপশন বোধহয় এই ফিল্মমেকিং। সিনেমা মানে কিন্তু শুধুমাত্র বিনোদন নয়, সেইসঙ্গে জুড়ে থাকে আরও হাজারটা টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি দিক। দেশ-বিদেশের সাংস্কৃতিক গণ্ডি মুছে দিতে পারে সিনেমাই। ফিল্মমেকিং কেরিয়ারে ফিচার ফিল্ম বানানোর পাশাপাশি, ডকুমেন্টারি, নিউজ় রিল, প্রোমোশনাল ফিল্মস, টিভি কমার্শিয়াল্‌স, মিউজ়িক ভিডিয়োজ় ইত্যাদি হাজারও জিনিস শেখার এবং পরবর্তী জীবনে সেই নিয়ে কাজ করার অপশন থাকে। এই পেশায় নানা বিষয়ে স্কিল্‌ড মানুষজনের সঙ্গে দল বেঁধে কাজ করার ব্যাপার থাকে। ছবি যে ধরনেরই হোক, এই দলগত প্রচেষ্টাটা কিন্তু ফিল্মমেকিংয়ের ক্ষেত্রে মস্ত প্রয়োজনীয় একটা ফ্যাক্টর। মনে রাখতে হবে, ফিল্মমেকিং মানে কিন্তু প্রথম কাজ থেকেই নাম-যশ-খ্যাতির হাতছানি নয়, বরং এই পেশায় সবচেয়ে বেশি করে প্রয়োজন তীব্র প্যাশনের। এইধরনের কাজে সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ক্যাপা কি আছে তোমার? আছে, ফিল্মমেকিংয়ের খুঁটিনাটির প্রতি ফাটাফাটি প্যাশন? তাহলে জেনে নাও কীভাবে এগোবে এই পথে…

আরও একটু গৌরচন্দ্রিকা
ফিল্মমেকিং কেরিয়ারের বিভিন্ন শাখার মধ্যে আছে অভিনয়, পরিচালনা, প্রযোজনা, চিত্রনাট্য লেখা, সিনেমাটোগ্রাফি, সাউন্ড রেকর্ডিং, ভিজ়ুয়াল মিক্সিং, এডিটিং ইত্যাদি আরও অনেককিছু। একজন চলচ্চিত্রনির্মাতাকে ছবি বানানোর সময় এই সমস্ত দিকগুলোর উপর নজর রাখতে হয়, ঠিক যেমনভাবে জাহাজের ক্যাপ্টেন নজরে রাখেন জাহাজচালনার কাজে তাঁর অধীনস্থ সমস্ত দপ্তর।

কাজটা কেমন?

ভারতের মতো দেশ, যেখানে প্রতিবছর বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় প্রচুর সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে ফিল্মমেকিংয়ের পেশায় কাজের সুযোগ কিন্তু প্রচুর। গোড়াতেই সঞ্জয় লীলা বনশালির সিনেমার মতো সেট বানিয়ে এনে কোনও প্রযোজক তোমার পায়ে পড়ে ‘একটা সিনেমা পরিচালনা করে দিন দাদা!’ বলে হাউমাউ কাঁদবেন না, সেটা নিশ্চয়ই আমার বলার অপেক্ষা রাখে না? যে কোনও পেশার মতোই এখানেও এক্কেবারে তলা থেকে শুরু করে উপরে ওঠার মানসিকতা রাখতে হবে তোমাকে। এদেশে প্রতিবছর প্রচুর ছবি বানানো হচ্ছে যে বললাম, এই কথাটা অবিশ্বাস করার আগে মনে রাখতে হবে, ‘ছবি’ বলতে কিন্তু স্রেফ সিনেমাহলে মুক্তি পাচ্ছে এরকম সিনেমাগুলোর কথাই বলছি না। বরং এক্কেবারে গোড়ায় যে নানারকমের ছবির কথা বলেছিলাম, বলছি তার সবগুলোর কথাই।

ফিল্ম প্রোডাকশন
এই শাখায় থাকতে হলে একটা ছবির ম্যানেজমেন্টের খুঁটিনাটি সামলাতে হয়। কীরকম? যেমন ধরো, অর্থনৈতিক দিকগুলো, ফান্ডিং, বিভিন্ন কনট্র্যাক্ট সাইন করা, লোকজন, যন্ত্রপাতি কিংবা লোকলস্কর ভাড়া করে আনা, আর্টিস্টদের সঙ্গে দরদাম করা, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সারদের সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি দিক, যেমন কপিরাইট কিংবা লিগাল রাইটের ব্যবস্থা করা, ইনশিয়োরেন্সের ব্যবস্থা, বাজেট নির্ধারণ করা, পাবলিক রিলেশন এবং পাবলিসিটির দেখভাল করা, বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ, ম্যানেজমেন্ট সামলানো, লোকেশন দেখা, কাজের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলা, মিটিং প্ল্যান করা, ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা ইত্যাদি এরকম হাজারটা কাজ!

ফিল্ম ডিরেকশন
ফিল্মমেকিংয়ের সমস্ত সৃজনশীল দিকগুলোর সুতোই পরিচালকের হাতে। তিনি যেমন-যেমন সুতো ছাড়বেন, টানবেন, প্যাঁচ কষবেন, বাদবাকি টিম সেইমতো তালে তাল মিলিয়ে কাজ করবে, তবেই না তৈরি হবে ভাল ছবি! ছবির স্ক্রিপ্ট, চরিত্রায়ণ, লোকেশন, ক্যামেরা, সাউন্ড, শুটিং শিডিউল নির্ধারণ, কলাকুশলীদের নিয়ে রিহার্স করা ও তাঁদের পরিচালনা, মেকআপের সাতসতেরো, সবটাই প্রাথমিকভাবে পরিচালক ও তাঁর নিজস্ব টিম ঠিক করেন। স্ক্রিপ্টের দায়িত্বে যিনি বা যাঁরা থাকেন, চিত্রনাট্য লিখে ফেলার পাশাপাশি তাঁদের কাজ থাকে খুঁটিনাটি হাজারটা এটা-সেটা দিয়ে চিত্রনাট্য সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা সেরে রাখার। ক্যামেরার টিমের দায়িত্বে থাকে একটা ছবির সমস্তটার ভিজ়ুয়ালাইজ়েশন, ফিল্মিং, লাইটিং, কোন ‘টেক’-এর পর কোন ‘টেক’ নেওয়া হচ্ছে, তার ট্র্যাক রাখা, লগ শিডিউল মেইনটেন করার মতো কাজগুলো। সাউন্ড ডিপার্টমেন্টের কাঁধে থাকে সমস্তরকম সাউন্ড এফেক্ট, মিউজ়িক, মিক্সিং, রেকর্ডিং, ডাবিংয়ের মতো কাজগুলো।

কী বুঝলাম?
একটা ছবি তৈরি করা যে নিছক মুখের কথা নয়, বরং তার পিছনে থাকে প্রযোজক, পরিচালক, লেখক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিনেমাটোগ্রাফার, ক্যামেরাম্যান, সাউন্ড রেকর্ডিস্ট, সাউন্ড মিক্সার, কাস্টিং ডিরেক্টর, আর্ট ডিরেক্টর, মিউজ়িক ডিরেক্টর, লিরিসিস্ট, কোরিয়োগ্রাফার, স্টান্ট ডিরেক্টর, স্পেশ্যাল ম্যানেজার, কস্টিউম ডিজ়াইনার, চিফ হেয়ার স্টাইল ডিজ়াইনার, মেকআপ ডিরেক্টর, এডিটরের মতো প্রায় শ’দেড়েক-দু’য়েক মানুষের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম, সেকথাটা নিশ্চয়ই বোঝা গিয়েছে এতক্ষণে? যে কারণেই শুরুতে বারবার টিমওয়র্কের কথাটা বলছিলাম। একটা ছবি তৈরির সময় পছন্দমতো যে ডিপার্টমেন্টেই তুমি থাকো না কেন, ‘দশে মিলি করি কাজ’-এর বিশ্বাসে তুমি বিশ্বাসী না হলে এ লাইনে ভাই… হেঁ হেঁ… মুশকিলই আছে!

শিক্ষাগত যোগ্যতা
টেকনিক্যাল বিভিন্ন কোর্সের জন্য এই যোগ্যতা হল উচ্চমাধ্যমিক স্তর অবধি লেখাপড়া। অন্যান্য কোর্সে ভর্তির পরীক্ষায় বসার জন্য সবার প্রথমেই গ্র্যাজুয়েশন চাই। তারপর ভর্তির পরীক্ষায় অ্যাপটিটিউড টেস্ট ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যাচাই করা হবে তোমার প্রতিভা। তোমার পছন্দের ইনস্টিটিউশন ও পছন্দের কোর্সের উপর নির্ভর করবে তোমার কোর্সের সময়সীমা কতটা হবে। স্পেশ্যালাইজ়েশন করতে পার প্রোডাকশন, ডিরেকশন, এডিটিং, সিনেমাটোগ্রাফি, ফিল্ম প্রসেসিং, অ্যানিমেশন, অ্যাক্টিং, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকআপ, ফোটোগ্রাফি ইত্যাদি নানা শাখার যে কোনওটায়। স্পেশ্যালাইজ়েশনের প্রায় প্রতি শাখাতেই ডিপ্লোমা, পোস্ট ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট কোর্সও করার সুযোগ আছে।

দক্ষিণা কীরকম?
চায়না ফোন জানো তো? কপালে থাকলে সে ফোন দু’বছরও হেসেখেলে চলে যেতে পারে, না থাকলে দু’দিনে খারাপও হয়ে যেতে পারে। এই পেশাতেও তেমনি অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়ার উপর নির্ভর করবে তোমার আয়ের পরিমাপ। নেহাতই সোনাবাঁধানো ভাগ্য নিয়ে কাজে না নামলে এক্কেবারে গোড়াতেই কেউ তোমাকে মাসপ্রতি লক্ষ টাকা অফার করবে, এতটা আশা করাটা বোকামি। এই পেশায় নাম ও দাম, দুই অর্জন করাই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। পাঁচটা কাজ করার পর একটা কাজে হয়তো তোমার নাম হল, একটু ভাল আয় হতে শুরু করল, ব্যস। পরের তিনটে কাজই লোকে আবার নিল না। আবার তুমি ব্যাকফুটে। গোড়া থেকে শুরু আবার। এই লেখার এক্কেবারে শুরুর দিকে এইজন্যই বলেছিলাম, ছবি করতে হলে কাজটার প্রতি প্যাশন না থাকলে কিন্তু মুশকিল। কাজটাকে দরদ দিয়ে, নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসলে, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে লেগে থাকলে তবেই নাম, যশ; দেখা পাবে সবেরই।

পড়ব কোথায়?

# ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই), ল কলেজ রোড, পুনে

# জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া : এ জে কিদওয়াই মাস কমিউনিকেশন সেন্টার, মৌলানা মহম্মদ আলি জওহর মার্গ, নিউ দিল্লি

# সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, ই এম বাইপাস রোড, পঞ্চসায়র, কলকাতা

# কলকাতা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, কলকাতা

# এশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টিভি, ফিল্ম সিটি, নয়ডা, উত্তরপ্রদেশ

# জ়েভিয়ার ইনস্টিটিউট অফ কমিউনিকেশন, সেন্ট জ়েভিয়ার্স কলেজ, মুম্বই

# ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ তামিলনাড়ু, চেন্নাই

নামী এই প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও আরও অজস্র সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে দেশজুড়ে, ফিল্মমেকিং শেখার জন্য। ভারতবর্ষে প্রতিবছর পূর্বে বাংলা, পশ্চিমে মুম্বই ও দক্ষিণে চেন্নাই মিলিয়ে প্রায় হাজারের কাছাকাছি সিনেমা তৈরি হয়। উত্সাহ, উদ্দীপনা আর উদ্যমে ভর করে তাই নেমে পড়তেই পার এই পেশায় নাম কামাতে। পথ বন্ধুর হলেও কাজটার প্রতি ভালবাসা থাকলে রুক্ষ জমিতেই একদিন ফলবে সুমিষ্ট ফল, শুধু এই বিশ্বাসটুকু রাখতে হবে নিজের উপর। ব্যস।


লেখাপড়া কদ্দুর কী প্রয়োজন

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মের স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য অ্যাপ্লাই করা যায়। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন স্তরে ভর্তির জন্য যে কোনও বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন থাকলেই চলে। তবে কোনও-কোনও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব এন্ট্র্যান্স টেস্ট ও তত্‌পরবর্তী ইন্টারভিউ নিয়ে তবেই ভর্তি নেয়। মাতৃভাষা ছাড়া অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। পাবলিক রিলেশন বা অ্যাডভার্টাইসিংয়ে ডিপ্লোমা করে নিতে পারলে আরওই ভাল। এই শেষোক্ত কোয়ালিফিকেশনগুলো করেসপনডেন্স কোর্সের মাধ্যমেও করে ফেলা যায়। সার্টিফিকেশন কোর্সের জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন সেই ১০+২। ডিরেক্টোরেট অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অফ টুরিজ়মের অফিসারদের নেওয়া হয় রাজ্য/কেন্দ্রীয় সরকারের সিভিল/অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস থেকে। সরকারি সংস্থায় কাজ পেতে হলে অতি অবশ্যই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মে ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। সরকারি টুরিজ়ম ডিপার্টমেন্টে ইনফরমেশন অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ পেতে হলে স্টাফ সিলেকশন কমিশন আয়োজিত কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় উতরোতে হয়। এই পদের জন্য গ্র্যাজুয়েশন থাকা মাস্ট। সেইসঙ্গে চাই ইংরেজিতে দক্ষতা, ভারতীয় ইতিহাস, কলা ও স্থাপত্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানগম্যি।

তা বাদে আর যা-যা দরকার
শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি এই পেশায় আসার জন্য আর যে যে জিনিসগুলো চাই, তার মধ্যে কমিউনিকেশন এবং প্রেজ়েন্টেশন স্কিলের কথা সবার আগে উল্লেখ করতে হয়। একটু ছটফটে স্বভাব, বন্ধুভাবাপন্ন ব্যক্তিত্ব, মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে মেশার ক্ষমতা, কথাবার্তায় চোস্ত হওয়া, নানা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারার মতো গুণ এই পেশায় তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে অনেকদূর। নিত্যনতুন ফেসিলিটি ও সার্ভিস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে পারলে তো আরওই ভাল। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বা ম্যানেজরিয়াল লেভেলে কাজ করতে হলে আবার অরগ্যানাইজ়িং এবিলিটি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, সমস্যায় পড়লে মাথা ঠান্ডা রেখে সমাধান খোঁজার ধৈর্য, দল হিসেবে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন এই গুণগুলো।

কাজটা কেমন? বাজার কেমন?
বিস্তীর্ণ একটা ক্ষেত্র হওয়ার দরুন টুরিজ়ম সেক্টরে কাজের সুযোগ ফাটাফাটি। উপরন্তু এখনও অবধি এই পেশায় ভিড়ভাট্টা তেমন বেশি না হওয়ায় চাকরির বাজারও গরমাগরম। চাকরি আছে পাবলিক ও প্রাইভেট, দুই সেক্টরেই। পাবলিক সেক্টরে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্টোরেট ও ডিপার্টমেন্ট অফ টুরিজ়মে এবং রাজ্য সরকারের অধীনে অফিসার, ইনফরমেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, টুরিস্ট গাইডের মতো নানা পদে কাজ আছে। প্রশিক্ষিত টুরিজ়ম প্রফেশনালদের জন্য কাজ আছে প্রাইভেট সেক্টরে বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সি, টুর অপারেটর, এয়ারলাইন, হোটেল, ট্রান্সপোর্ট ও কার্গো কোম্পানিতে। বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের দেশে বিদেশি টুরিস্টের সংখ্যা বছর-বছর বাড়ছে। যেহেতু কেরিয়ার অপশন হিসেবে এই পেশায় এখনও লোকজনের আগ্রহ কম, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ম্যানেজারের সংখ্যাও তাই এই জগতে এই মুহূর্তে খুব বেশি নয়। অন্যের অধীনে কাজে ঢুকে হুড়মুড়িয়ে উন্নতির সুযোগ ছাড়াও নিজস্ব ব্যবসা ফেঁদে বসার ব্যবস্থাও এই পেশায় আছে বিলক্ষণ।

দক্ষিণা কেমন?
ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ইন্ডাস্ট্রির চাকরিতে সন্তোষজনক বেতন ছাড়াও এমপ্লয়ি ও তার পরিবারের লোকজনের আজীবন ফ্রি-তে এদিক-ওদিক ঘোরার সুযোগ থাকে। এই জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যালারির পরিমাণও আলাদা-আলাদা। তবে বিদেশি এয়ারলাইন কিংবা বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণত স্যালারির পরিমাণ একটু বেশিই।

তবে যাওয়ার আগে
অন্যরকম কাজ করার কথা ভাবলে যাদের পেট গুড়গুড় করে না, ঘুরে বেড়ানোয় যাদের আছে প্রবল আগ্রহ, নতুন-নতুন মানুষজনের সঙ্গে আলাপ পরিচয় বাড়াতে, তাদের ভালমন্দের খেয়াল রাখতে (অবশ্যই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে!) যাদের আপত্তি নেই, তারা হাসতে-হাসতে চলে আসতে পার এই পেশায়। পশ্চিমবঙ্গে ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ম্যানেজমেন্টের ভবিষ্যত্‌ সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নন্দন গুপ্ত জানাচ্ছেন, “আমাদের দেশে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ম্যানেজমেন্টের স্কোপ এই মুহূর্তে ভীষণ ভাল। এই রাজ্যে এখনও এমন অনেক জায়গা আছে, যেগুলো আজ অবধি কখনও এক্সপ্লোর করাই হয়নি। আবার অনেক এমন নতুন জায়গাও বেরিয়েছে, যেখানে বাইরে থেকে টুরিস্টরা আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশ্বের এমন অনেক দেশ আছে, যাদের মূল সোর্স অফ ইনকামই হল এই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম। আমাদের রাজ্যেও এরকম অনেক সুন্দর-সুন্দর জায়গা আছে, কিন্তু অনেকদিন পর্যন্ত সেই জায়গাগুলোয় ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মের জন্য আদর্শ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না, ভাল হোটেল ছিল না, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। এখন কিন্তু সেই ছবিটা অনেকটাই পালটে গিয়েছে। যার ফলে আগামী কয়েক বছরে এরাজ্যে টুরিস্টের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়বে বই কমবে না। গতানুগতিক পথে না হেঁটে যারা নিজেরা ঘুরতে বেড়াতে ভালবাসে, তাদের তো অতি অবশ্যই এই পেশায় আসা উচিত। এই পেশায় এসে তারা টুর গাইড হতে পারে, হোটেল কিংবা ট্রেন ও প্লেন বা হোটেল বুকিং এজেন্সিতে কাজ করতে পারে। আমাদের এখানে বহুদিন ধরে এই একটা ক্ষেত্রে প্রফেশন্যালিজ়মের খুব অভাব ছিল। ট্র্যাভেল সংক্রান্ত স্থানীয় ওয়েবসাইটগুলো ঠিকঠাক মেইন্‌টেইন্‌ড হত না। বিভিন্ন জায়গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্যকভাবে তুলে ধরার কোনও দায় ছিল না। এই জায়গাগুলোয় ইতিমধ্যেই ভাল কাজ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভাল শোকেসিংয়ের সুযোগ আছে। যে কারণে বহু লোকের কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার জায়গাটা আছে। ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মে আমাদের ইনস্টিটিউটে চার বছরের কোর্স। চারবছরের শেষে প্রশিক্ষিত পড়ুয়াদের জন্য কাজের অভাব এই মুহূর্তে তো নেই-ই, ভবিষ্যতেও সেরকম কোনও আশঙ্কা নেই। বরং সম্ভাবনা আছে কাজের সুযোগ আরওই বাড়ার।”

পড়বে কোথায়?
অন্য রাজ্যগুলোর কথা বাদ দিয়ে শুধু আমাদের রাজ্যের কতগুলো ইনস্টিটিউট, যেখানে এই বিষয়টি পড়ানো হয়, তাদের নাম দিলাম নীচে—

স্বামী বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ মডার্ন সায়েন্স
সোনারপুর, কলকাতা

ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডি
মুকুন্দপুর, কলকাতা

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট
কলকাতা

আইআইএএস স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট
দার্জিলিং এবং কলকাতা

ইনস্টিটিউট অফ হোটেল অ্যান্ড রেস্তরাঁ ম্যানেজমেন্ট
কলকাতা

দুর্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
বর্ধমান

গোল্ডেন ইনস্টিটিউট অফ হসপিট্যালিটি ম্যানেজমেন্ট
হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর


কী যোগ্যতা চাই?

এই পেশায় পুঁথিগত লেখাপড়ার চেয়ে অনেক বেশি কদর করা হয় আর জে হিসেবে প্রার্থীর প্রতিভার। তবে, প্রথাগত শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়া হলেও একখানা গ্র্যাজুয়েশন কিংবা অন্তত উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডিটুকুও না পেরলে কিন্তু কাজ পাওয়া চাপের।
একজন রেডিয়ো জকির পক্ষে সবচেয়ে জরুরি হল বিভিন্ন অকেশন অনুযায়ী কণ্ঠস্বর ও বাচনভঙ্গি পালটে-পালটে ফেলা। তা বাদে একজন আর জে-র উচ্চারণ স্পষ্ট হওয়া উচিত, যে ভাষায় সে কথা বলছে, তার উপর তার যথেষ্ট দখল এবং অনর্গল কথা বলে যেতে পারার ক্ষমতা, চাই এসবও।
রেডিয়ো এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একজন আর জে-কে সাত থেকে সত্তর, যে কারও সঙ্গেই ইন্টার‌্যাক্ট করতে হতে পারে। এই কথাটা মাথায় রেখে ইন্ডিভিজুয়াল শ্রোতার সঙ্গে আর জে-কে মিশতে হয় এক্কেবারে আলাদা-আলাদা রকম ভাবে। সফল ও বিখ্যাত আর জে মানেই তার সেন্স অফ হিউমার হওয়া চাই সবার সেরা। এবাদে রেডিয়ো জকিকে হতে হয় ঠান্ডা মাথার। উলটোদিকের শ্রোতার কাছ থেকে যত প্ররোচনাই আসুক, মেজাজ হারিয়ে একবার বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেই আর জে হিসেবে তোমার গ্রহণযোগ্যতাও মানুষের মনে কমতে বাধ্য!

কী ধরনের কাজ পাওয়া যায়?
যে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব কোনও রেডিয়ো জকিকে দেওয়া হচ্ছে, তার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে রেডিয়ো জকিকে নিজেকে পালটে-পালটে, ভেঙেচুরে আবার নতুন করে সাজাতে হয়। কোনও এক রেডিয়ো জকির নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান মানুষের কতটা পছন্দ হবে, তা কিন্তু প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে একান্তভাবে সেই আর জে-র দক্ষতার উপর।
আশপাশের দিন-দুনিয়ায় কোথায় কী হচ্ছে, রাজনীতি থেকে খেলাধুলো, বিনোদন থেকে বিজ্ঞাপন, সবটা সম্পর্কেই একজন আর জে-কে হতে হয় ওয়াকিবহাল। আর জে-র একটা গুরুদায়িত্ব যেহেতু শ্রোতাদের জন্য গান বাজানো, তাই মিউজ়িক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এবং কম্পিউটারেও তাদের হতে হয় স্বচ্ছন্দ।

কাজটা পাব কী করে?
আর জে হিসেবে কাজ পাওয়া যেতে পারে এ আই আর (অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো) থেকে শুরু করে দেশজোড়া আরও একাধিক রেডিয়ো স্টেশনের যে কোনওটিতেই। কাজ পেতে হলে আবেদন করার উপায় দুটো। হয় রেডিয়ো স্টেশনের ডাকে অডিশনে গিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, নইলে যোগাযোগ করতে রেডিয়ো সফ্‌টওয়্যার প্রোডিউসার কোম্পানির সঙ্গে। অনেক রেডিয়ো স্টেশনেরই নিজস্ব ওয়েবসাইটে রিক্রুটমেন্টের নিজস্ব পরিসর থাকে। আবেদন করা যায় সেখানে গিয়েও। একবার কাজে ঢুকে পড়ার পর দু’-তিনবছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে পারলে তারপর টেলিভিশন এবং রেডিয়োর বিজ্ঞাপনে ডাবিং করে দু’ পয়সা উপার্জন করা যায়। তা বাদে আর জে-র কাজ করতে-করতে কথাবার্তায় যত তুমি চোস্ত হবে, বিভিন্ন লাইভ শো-এ অ্যাঙ্করিংয়ের সুযোগও ততই ছুটে-ছুটে আসবে তোমার সামনে।

ব্যস, এই। আর কী। রেডিয়ো জকিইয়িং নিয়ে লেখাপড়া করা যেতেই পারে চাইলে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে নানারকম ছোট-বড় কোর্স করানো হয়। সেসবের খোঁজ এই লেখায় থাকল না এই কারণেই যে, আর জে হতে চাইলে ওই কোর্সগুলো কখনওই বাধ্যতামূলক নয়। একান্তই যদি তোমার প্রতিভা থাকে আর থাকে সফল আর জে হওয়ার জন্য অসম্ভব জেদ, তা হলেই এই পেশায় তোমার যুগপৎ এন্ট্রি ও উন্নতি কেউ ঠেকায় সাধ্যি কী!


কাজের ধরন

একটা বিয়েবাড়ির এ টু জ়েড আয়োজন এবং দেখাশোনার দায়িত্বে থাকে ওয়েডিং প্ল্যানাররা। বিয়েবাড়ির খুঁটিনাটি আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে শুরু করে বর-কনের সাজসজ্জা, বিয়েবাড়ির যাবতীয় কেনাকাটার পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়ন, সবকিছুই সামলাতে হয় তাঁদের। অনেকসময় বিয়ের তারিখ পর্যন্ত ঠিক করতে হতে পারে ওয়েডিং প্ল্যানারদের। সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট যে মতেই বিয়ে করতে চান না কেন সেই অনুযায়ী পুরোহিত, ফাদার বা কাজিসাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করাও তাঁদেরই দায়িত্ব। ক্লায়েন্টের ক্ষমতা অনুযায়ী বিয়ের বাজেট তৈরি করাও একটা গুরুদায়িত্ব। নিমন্ত্রিতদের লিস্ট তৈরি করা, নেমন্তন্নের কার্ড ছাপানো, একে-একে নেমন্তন্নপর্ব সেরে ফেলার জন্য সঠিক যানবাহনের ব্যবস্থা করা, সবই থাকে ওয়েডিং প্ল্যানারদের জিম্মায়। বিয়েবাড়ির ভেনু ঠিক করে সময় মতো বুকিং সেরে ফেলাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট। ক্যাটারারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লায়েন্টের পছন্দ অনুসারে মেনু ঠিক করা, ফোটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, ডেকরেটর, মিউজ়িক ব্যান্ড ইত্যাদির ব্যবস্থাও সব পাকা করে রাখতে হয় ওয়েডিং প্ল্যানারদের। পাশাপাশি বিয়েবাড়ির অতিথিদের জন্য যাতায়াতের সুব্যবস্থা করা, বিয়ের দিন যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়তে হয় তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে বসার জায়গা আর জলের ব্যবস্থা রাখার মত ছোটখাটো তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির উপরেও নজর রাখতে হয় তাঁদের। বিয়ের দিন বর-কনে তো বটেই, তাঁদের পরিবারের লোকজনেরাও চায় নিজেদের সেরা রূপে সকলের সামনে আসতে। সেইমতো তাঁদের জন্য ড্রেস এবং অ্যাকসেসরিজ় শপিং করা এবং বিউটিশিয়ানকে অ্যাপয়েন্ট করার কাজও করে থাকেন প্ল্যানাররা। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যেটা জরুরি তা হল রেজিস্ট্রেশন। বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে ম্যারেজ রেজিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং কোর্টে নোটিস দেওয়া, সবই সামলাতে হয় ওয়েডিং প্ল্যানারদের।

প্রয়োজনীয় দক্ষতা
ওয়েডিং প্ল্যানিংয়ের পেশা খুব ইন্টারেস্টিং। তবে এ পেশার ক্ষেত্রে কোনও গতে বাঁধা ছক নেই। বেশিরভাগ কাজটাই নিজের সৃজনশীলতার উপর নির্ভর করে করতে হয়। তাই বলা যায় এক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভিটি ইজ় দ্য কি ওয়ার্ড! ক্লায়েন্টের পরিবারের পছন্দ-অপছন্দ চট করে ধরে ফেলার ক্ষমতা থাকাটা বেশ জরুরি। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়ে কাজ করলে কাজটা আরও ভাল করে করা যায়। ভারতের যে কোনও প্রদেশেই বিয়ে মানে একটা বিরাট উৎসব। এই উত্সবে সকলকে সামিল করে অনুষ্ঠানটিকে মাতিয়ে রাখার দায়িত্ব থাকে ওয়েডিং প্ল্যানারদের হাতেই। অনেকসময় অনেক কম বাজেটের মধ্যেও কাজ করতে হয় তাঁদের। তার মধ্যেও নিজেদের আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে বিয়েবাড়িটা হিট করে দেওয়ার মধ্যেই ফুটে ওঠে তাদের দক্ষতা। অর্গানাইজ়েশনাল স্কিল এই পেশার ক্ষেত্রে খুব দরকার। কোন মাকের্টে কোন জিনিস সহজে পাওয়া যায়, এই বিষয়ে একটা জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। নিজেকে সঠিকভাবে মাকের্ট করা এ পেশার মূলমন্ত্র। আর প্রফেশনালিজ়ম এ পেশার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।

প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
এই পেশায় আসতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে বেশি দরকার পেশাগত দক্ষতার। যে কোনও বয়স বা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই এই পেশায় আসা যায়। বিয়ের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান সে বিষয়ে একটা স্বাভাবিক জ্ঞান থাকা দরকার। তবে এই পেশায় বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ডিল করতে হয় আর তার মধ্যে বেশিরভাগই হাই প্রোফাইল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি তাই ন্যূনতম উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পাশ করা থাকলেই হবে। বিভিন্ন ধর্মের নিয়ম-কানুন আর বাকি সূক্ষ্ম বিষয়গুলির ব্যাপারে একটা সুস্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। প্রথমে কোনও ট্রেনিং নিয়ে নিলে বা অন্ততপক্ষে কোনও নামী প্ল্যানারের অধীনে অ্যাসিস্ট করলে কাজের দক্ষতা আর অভিজ্ঞতা দুই-ই বাড়ে।

কাজের সুযোগ
কিছুদিন আগে অবধিও বাড়িতে বিয়ের উত্সব লাগলে কাকা, জ্যাঠারাই হাতে হাত মিলিয়ে সব আয়োজন করত। তবে এখন হাতে সময় কম আর ব্যস্ততাও বেশি। তবে গ্র্যান্ড ওয়েডিংয়ের স্বপ্ন অনেকেই দেখে। আর তাঁদের এই স্বপ্ন সত্যি করতে মাঠে নেমেছেন ওয়েডিং প্ল্যানাররা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়েডিং প্ল্যানিং এখন এক হিট কেরিয়ার। ভারতে তথা পশ্চিমবঙ্গেও ইদানীং এই পেশার জনপ্রিয়তা লক্ষণীয় হারে বেড়েছে। বেশ কিছু ওয়েডিং প্ল্যানার সংস্থাও গড়ে উঠেছে সাম্প্রতিক কালে। সেখানে কাজের সুযোগ তো অবশ্যই আছে পাশাপাশি চাইলে নিজে স্বনির্ভরভাবেও কাজ যায়। ভাল কাজ পাওয়ার জন্য ভাল পোর্টফোলিয়ো থাকা প্রয়োজন। নিজের আগের কাজের কিছু ছবি দিয়ে তৈরি করতে হয় এই পোর্টফোলিয়ো। এটা ক্যাটালগ হিসেবে কাজ করে। ক্লায়েন্টরা বেশিরভাগ সময়ে এই পোর্টফোলিয়ো দেখেই ওয়েডিং প্ল্যানার নিবার্চন করেন। এছাড়া ওয়েডিং প্ল্যানিং ছাড়াও ব্রাইডাল কনসালট্যান্ট হিসেবেও কাজ করতে পারেন তারা।

বেতন
ওয়েডিং প্ল্যানিং কেরিয়ারের ক্ষেত্রে কোনও বাঁধাধরা আয়ের অঙ্ক ধরে রাখা যায় না। বেশ কয়েকটা ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে তোমার পকেট কতটা ভরবে… এই পেশার ক্ষেত্রে একবার প্রতিষ্ঠা এবং নাম করতে পারলে রেট কার্ডেও পরিবর্তন আসে। তারপর নিজের টিমে কত জনকে নিয়োগ করছ তার উপরও নির্ভর করছে তোমার কতটা আয় হচ্ছে। তবে মোটামুটি বছরে দশ-বারোটা বিয়ে সুসম্পন্ন করতে পারলে কয়েকলাখ টাকা অবধি লাভ করা যায়। কোনও ওয়েডিং প্ল্যানিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলে শুরুতে মাসিক ৫০০০-১০,০০০ টাকা অবধি আয় করা যায়। পরবর্তীকালে সেটা ২৫,০০০ থেকে প্রায় ৪৫,০০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। সংস্থার রেপুটেশনের উপরও অনেকটা নির্ভর করে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়
ইভেন্টওয়ালা অ্যাকাডেমি অফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং
৫০৫, অফিস ১১, বি-উইং, এমসিসিআইএ ট্রেড টাওয়ার,
আইসিসি কমপ্লেক্স, সেনাপতি রোড , পুনে-৪১১০১৬

বন্ধন
সাপের্নটাইন লেন, লেবুতলা
বউ বাজার, কলকাতা
ফোন:(০৩৩)২৩২১-৫৯২৬

কলেজ অফ ইভেন্টস অ্যান্ড মিডিয়া(কোয়েম)
১১, প্রভাত রোড, ইরান্ডওয়েন, পুনে-৪১১০০৪
ই-মেল:[email protected]
ওয়েবসাইট: www.coemindia.com

………
………..
………..
……..
…….
………
……….
………..
……….