UnishKuri
web-to-new-banner.jpg
Career Counselling

ফিটনেস ট্রেনার
ফাস্ট লাইফ আর ফাস্ট ফুডের জীবনে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আজকাল প্রচুর ডিম্যান্ড ফিটনেস ট্রেনারদের। এই অফবিট পেশার খুঁটিনাটি ডিকোড করল ১৯ ২০

ফিটনেস ফ্রিক
‘ফিট বডি মানে হিট বডি’ এটাই কি তোমার লাইফের মোটো? পৃথিবী রসাতলে গেলেও রোজ এক্সারসাইজ় না করলে তো চলেই না, পাশাপাশি কার্ডিও, ওয়েট ট্রেনিং, অ্যাব ক্রাঞ্চেস এই সব বিষয়ে বন্ধুবান্ধবদেরও প্রায়ই ফ্রি অ্যাডভাইস দিয়ে থাকো তুমি? দুটো প্রশ্নের উত্তরই যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তার মানে এই যে, ফিটনেস সম্বন্ধে তোমার বেশ ইন্টারেস্ট আছে। ফিজ়িক্যাল ফিটনেস যদি হয় তোমার প্রিয় বিষয় তা হলে এই নেশাকেই তোমার পেশা বানিয়ে ফেলতেই পারো এখন। সিক্স প্যাক অ্যাবস বা সাইজ় জ়িরোর জ়মানায় ফিটনেস এক্সপার্টদের ডিম্যান্ড বাড়ছে দিন-দিন। শুধু পুজো বা কোনও অনুষ্ঠানের আগে নয়, মানুষ এখন ফিট, হেলদি আর ‘ইন শেপ’ থাকতে চায় সারা বছর জুড়ে। পাশাপাশি মিডিয়ার দৌলতে মানুষের সচেতনতাও এখন অনেকটা বেড়েছে। এখন শুধু অ্যাথলিট বা মডেলরাই নয়, যে-কোনও বয়স ও পেশার মানুষের কাছেই ফিটনেস হয়ে উঠেছে একটি অপরিহার্য বিষয়। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই জগতে তরতর করে বাড়ছে কাজের সুযোগও।

কাজের ধরন

ফিটনেস ট্রেনারদের জব প্রোফাইলটা ইন্টারেস্টিং হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে বেশ চ্যালেঞ্জিংও বটে। ক্লায়েন্টদের প্রয়োজন বা চাহিদা অনুসারে ওয়েট গেন বা ওয়েট লস করানো, শরীরের স্ট্রেংথ আর ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ানো, স্ট্রেস কমানো, অ্যাথলিটদের ফিটনেস লেভেল মেনটেন করা ইত্যাদি তো রয়েছেই। ডাক্তাররা অনেকসময় বিভিন্ন রোগের চিকিত্সা করতে গিয়ে এক্সারসাইজ়ের উপরও অনেকটা নির্ভর করেন। সেক্ষেত্রে অসুস্থদের লাইফস্টাইল ও এক্সারসাইজ়ের পথপ্রর্দশক হয়ে উঠতে হয় তাঁদের। ক্লায়েন্টদের ডায়েট এবং নিউট্রিশনের উপরেও নজর রাখতে হয় ফিটনেস ট্রেনারদের। শুধু এক্সারসাইজ় বা ডায়েট প্রেসক্রাইব করা নয়, ক্লায়েন্টদের সেটা মেনে চলার জন্য সঠিকভাবে মোটিভেট করার পিছনেও হাত থাকে ট্রেনারদের। স্পিনিং, কিক বক্সিং, যোগ, পাইলেট, অ্যারোবিক্‌স— এই সবকিছুর উপরই দক্ষতা থাকতে হয় ফিটনেস ট্রেনারদের।

প্রয়োজনীয় দক্ষতা
ফিটনেস ট্রেনার হতে গেলে পেশাদারি দক্ষতার পাশাপাশি বেশ কিছু বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। এই পেশার সঙ্গে ক্লায়েন্টদের মোটিভেট করার বিষয়টাও বিশেষভাবে জড়িত। তাই এই পেশায় আসতে গেলে অসীম ধৈর্য, অ্যানালিটিকাল স্কিল, ইন্টারপার্সোনাল রিলেশান এবং অর্গানাইজ়েশনাল স্কিলের মতো গুণগুলো ভীষণভাবে প্রয়োজন। ফিটনেস ট্রেনার হতে গেলেই যে দারা সিংহর মত চেহারা হতে হবে, তা নয়। তবে নিজেকে ক্লায়েন্টদের কাছে রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে হবে বলে ফিট বডি এবং হেলদি লাইফস্টাইল মেনটেন করাটা ভীষণ জরুরি। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জগতে সাফল্য পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নির্ভর করে মার্কেটিং স্কিলের উপরও। তার সঙ্গে ফিটনেস জগতের খুটিঁনাটি বিষয়গুলো এবং নতুন ট্রেন্ড সম্পর্কে নিজেকে আপডেটেড রাখাটাও খুব জরুরি।

কাজের সুযোগ
ফিটনেস ট্রেনিং সেন্টার আজকাল ছড়িয়ে আছে শহর, শহরতলি এমনকী গ্রামগঞ্জেও। লোকাল জিমগুলোর পাশাপাশি কলকাতা এবং তার আশপাশে প্রচুর বহুজাতিক সংস্থা খুলেছে ফিটনেস এবং ওয়েলনেস সেন্টার্স। এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোয় ফিজ়িক্যাল ট্রেনার হিসেবে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তা ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে পার্সোনাল ট্রেনার হিসেবেও কাজের সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে কনট্র্যাক্ট ভিত্তিতে এক বা একাধিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করা যায়। আজকাল শুধু সেলিব্রিটি বা কেউকেটারা ছাড়াও অনেকেই পার্সোনাল ট্রেনার নিযুক্ত করে। বিশেষ করে খেলাধুলার জগতে ফিটনেস ট্রেনাররা তো একেবারে অপরিহার্য। কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে তাল মিলিয়ে। এর পাশাপাশি সুযোগ থাকলে নিজের জিমও খুলে ফেলতে পারো। কর্পোরেট ফিটনেস প্রোগ্রাম, রিসর্ট, স্পাতেও কাজ করা যেতে পারে। নিজের প্রচার একটু অফবিটভাবে করতে চাইলে নিজের ওয়েবসাইট খুলে নিজেকে অনলাইন ট্রেনার হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করা যায়। বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবেও অ্যাথলিটদের জন্য ফিটনেস ট্রেনার নিযুক্ত করে কর্তৃপক্ষ।

যোগ্যতা
এই পেশায় আসতে গেলে বিশেষ প্রয়োজন পেশাগত দক্ষতার। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক এবং সমতুল।
ফিজ়িক্যাল এক্সারসাইজ় বা ফিজ়িক্যাল এডুকেশন বিষয়ে স্নাতক হলে কিছু-কিছু জায়গায় অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।
তবে নিউট্রিশন, এক্সারসাইজ় ফিজ়িওলজি, কাইনেসিওলজি, হিউম্যান অ্যানাটমি বা ফিজ়িওলজ়ি, ফার্স্ট এড, স্পোটর্স ইনজিউরি, ওয়েট ট্রেনিং এসব বিষয়ে ভাল জ্ঞান থাকাটা খুব জরুরি। কোনও সংস্থায় ফিটনেস ট্রেনার হিসেবে কাজ করতে গেলে কোনও অনুমোদনপ্রাপ্ত সংস্থা থেকে সার্টিফিকেট ইন ফিটনেস ট্রেনিং কোর্সটি করতে হয়। কোর্সটি দু’ভাগে ভাগ করা— বেসিক লেভেল এবং অ্যাডভান্সড কোর্স। বেসিক লেভেল কোর্সের অর্ন্তগত হল অ্যানাটমি, ফিজ়িওলজ়ি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন, ফার্স্ট এড, সি পি আর, এক্সারসাইজ় টেকনিক, প্রোগ্রাম ডিজ়াইন। অ্যাডভান্সড কোর্সের মধ্যে বেসিক কোর্সের বিষয়গুলির পাশাপাশি থাকবে অ্যাডভান্সড প্রোগ্রাম ডিজ়াইন, পশ্চার এবং প্রপার ফাংশন, সুইস বল, ফোম রোলার এগুলি ব্যবহারের উপায় এবং বয়স্ক ও ছোটদের ডিল করার বিশেষ টেকনিক। প্রি এবং পোস্ট প্রেগন্যান্সি এক্সারসাইজ়ের উপর স্পেশাল প্রশিক্ষণ।

যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়

# গোল্ডস জিম
ডিডি৩০, অ্যন্ড্রিওমেদা বিল্ডিং, নবম তল
সল্টলেক সিটি, কলকাতা-৭০০১০৬
সিটিসেন্টার ওয়ানের পাশে
ফোন:(০৩৩)৪০৬০ ২২২২

#গোল্ডস জিম
১৯এ, রাজকিরণ বিল্ডিং, দিত্বীয় তল
নিউ জাজেস কোর্ট রোড, আলিপুর
কলকাতা-৭০০০২৭
ফোন:(০৩৩)৬৬৩৪৬৭৮২

#তালওয়ালকারস বেটার ভ্যালু ফিটনেস লিমিটেড
বর্ধমান রোড,আলিপুর
ফোন:(০৩৩)২৪৪৯ ১৯৩০

#তালওয়ালকারস বেটার ভ্যালু ফিটনেস লিমিটেড
বি ই-৭২, সেক্টর ওয়ান
সল্টলেক সিটি
ফোন:(০৩৩)৪০০৪ ০৬৪০

#ভিএলসিসি ইন্সস্টিটিউট
ফ্ল্যাট নং: ১সি, ব্লক-এ
নিউ আলিপুর, কোলকাতা-৭০০০৫৩
ফোন:(০৩৩)২৩৬৪৯১২৬

#ভিএলসিসি ইন্সস্টিটিউট
১এ, কাশীনিকেতন
১৯০-সি
সতীন সেন সরণী
কাঁকুড়গাছি
ফোন:(০৩৩)২৩৬৪৮৭৯৮


কাজটা কেমন?

ভারতের মতো দেশ, যেখানে প্রতিবছর বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় প্রচুর সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে ফিল্মমেকিংয়ের পেশায় কাজের সুযোগ কিন্তু প্রচুর। গোড়াতেই সঞ্জয় লীলা বনশালির সিনেমার মতো সেট বানিয়ে এনে কোনও প্রযোজক তোমার পায়ে পড়ে ‘একটা সিনেমা পরিচালনা করে দিন দাদা!’ বলে হাউমাউ কাঁদবেন না, সেটা নিশ্চয়ই আমার বলার অপেক্ষা রাখে না? যে কোনও পেশার মতোই এখানেও এক্কেবারে তলা থেকে শুরু করে উপরে ওঠার মানসিকতা রাখতে হবে তোমাকে। এদেশে প্রতিবছর প্রচুর ছবি বানানো হচ্ছে যে বললাম, এই কথাটা অবিশ্বাস করার আগে মনে রাখতে হবে, ‘ছবি’ বলতে কিন্তু স্রেফ সিনেমাহলে মুক্তি পাচ্ছে এরকম সিনেমাগুলোর কথাই বলছি না। বরং এক্কেবারে গোড়ায় যে নানারকমের ছবির কথা বলেছিলাম, বলছি তার সবগুলোর কথাই।

ফিল্ম প্রোডাকশন
এই শাখায় থাকতে হলে একটা ছবির ম্যানেজমেন্টের খুঁটিনাটি সামলাতে হয়। কীরকম? যেমন ধরো, অর্থনৈতিক দিকগুলো, ফান্ডিং, বিভিন্ন কনট্র্যাক্ট সাইন করা, লোকজন, যন্ত্রপাতি কিংবা লোকলস্কর ভাড়া করে আনা, আর্টিস্টদের সঙ্গে দরদাম করা, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সারদের সামলানোর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি দিক, যেমন কপিরাইট কিংবা লিগাল রাইটের ব্যবস্থা করা, ইনশিয়োরেন্সের ব্যবস্থা, বাজেট নির্ধারণ করা, পাবলিক রিলেশন এবং পাবলিসিটির দেখভাল করা, বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ, ম্যানেজমেন্ট সামলানো, লোকেশন দেখা, কাজের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলা, মিটিং প্ল্যান করা, ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা ইত্যাদি এরকম হাজারটা কাজ!

ফিল্ম ডিরেকশন
ফিল্মমেকিংয়ের সমস্ত সৃজনশীল দিকগুলোর সুতোই পরিচালকের হাতে। তিনি যেমন-যেমন সুতো ছাড়বেন, টানবেন, প্যাঁচ কষবেন, বাদবাকি টিম সেইমতো তালে তাল মিলিয়ে কাজ করবে, তবেই না তৈরি হবে ভাল ছবি! ছবির স্ক্রিপ্ট, চরিত্রায়ণ, লোকেশন, ক্যামেরা, সাউন্ড, শুটিং শিডিউল নির্ধারণ, কলাকুশলীদের নিয়ে রিহার্স করা ও তাঁদের পরিচালনা, মেকআপের সাতসতেরো, সবটাই প্রাথমিকভাবে পরিচালক ও তাঁর নিজস্ব টিম ঠিক করেন। স্ক্রিপ্টের দায়িত্বে যিনি বা যাঁরা থাকেন, চিত্রনাট্য লিখে ফেলার পাশাপাশি তাঁদের কাজ থাকে খুঁটিনাটি হাজারটা এটা-সেটা দিয়ে চিত্রনাট্য সাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা সেরে রাখার। ক্যামেরার টিমের দায়িত্বে থাকে একটা ছবির সমস্তটার ভিজ়ুয়ালাইজ়েশন, ফিল্মিং, লাইটিং, কোন ‘টেক’-এর পর কোন ‘টেক’ নেওয়া হচ্ছে, তার ট্র্যাক রাখা, লগ শিডিউল মেইনটেন করার মতো কাজগুলো। সাউন্ড ডিপার্টমেন্টের কাঁধে থাকে সমস্তরকম সাউন্ড এফেক্ট, মিউজ়িক, মিক্সিং, রেকর্ডিং, ডাবিংয়ের মতো কাজগুলো।

কী বুঝলাম?
একটা ছবি তৈরি করা যে নিছক মুখের কথা নয়, বরং তার পিছনে থাকে প্রযোজক, পরিচালক, লেখক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সিনেমাটোগ্রাফার, ক্যামেরাম্যান, সাউন্ড রেকর্ডিস্ট, সাউন্ড মিক্সার, কাস্টিং ডিরেক্টর, আর্ট ডিরেক্টর, মিউজ়িক ডিরেক্টর, লিরিসিস্ট, কোরিয়োগ্রাফার, স্টান্ট ডিরেক্টর, স্পেশ্যাল ম্যানেজার, কস্টিউম ডিজ়াইনার, চিফ হেয়ার স্টাইল ডিজ়াইনার, মেকআপ ডিরেক্টর, এডিটরের মতো প্রায় শ’দেড়েক-দু’য়েক মানুষের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম, সেকথাটা নিশ্চয়ই বোঝা গিয়েছে এতক্ষণে? যে কারণেই শুরুতে বারবার টিমওয়র্কের কথাটা বলছিলাম। একটা ছবি তৈরির সময় পছন্দমতো যে ডিপার্টমেন্টেই তুমি থাকো না কেন, ‘দশে মিলি করি কাজ’-এর বিশ্বাসে তুমি বিশ্বাসী না হলে এ লাইনে ভাই… হেঁ হেঁ… মুশকিলই আছে!

শিক্ষাগত যোগ্যতা
টেকনিক্যাল বিভিন্ন কোর্সের জন্য এই যোগ্যতা হল উচ্চমাধ্যমিক স্তর অবধি লেখাপড়া। অন্যান্য কোর্সে ভর্তির পরীক্ষায় বসার জন্য সবার প্রথমেই গ্র্যাজুয়েশন চাই। তারপর ভর্তির পরীক্ষায় অ্যাপটিটিউড টেস্ট ও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যাচাই করা হবে তোমার প্রতিভা। তোমার পছন্দের ইনস্টিটিউশন ও পছন্দের কোর্সের উপর নির্ভর করবে তোমার কোর্সের সময়সীমা কতটা হবে। স্পেশ্যালাইজ়েশন করতে পার প্রোডাকশন, ডিরেকশন, এডিটিং, সিনেমাটোগ্রাফি, ফিল্ম প্রসেসিং, অ্যানিমেশন, অ্যাক্টিং, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকআপ, ফোটোগ্রাফি ইত্যাদি নানা শাখার যে কোনওটায়। স্পেশ্যালাইজ়েশনের প্রায় প্রতি শাখাতেই ডিপ্লোমা, পোস্ট ডিপ্লোমা এবং সার্টিফিকেট কোর্সও করার সুযোগ আছে।

দক্ষিণা কীরকম?
চায়না ফোন জানো তো? কপালে থাকলে সে ফোন দু’বছরও হেসেখেলে চলে যেতে পারে, না থাকলে দু’দিনে খারাপও হয়ে যেতে পারে। এই পেশাতেও তেমনি অনেকগুলো ক্রাইটেরিয়ার উপর নির্ভর করবে তোমার আয়ের পরিমাপ। নেহাতই সোনাবাঁধানো ভাগ্য নিয়ে কাজে না নামলে এক্কেবারে গোড়াতেই কেউ তোমাকে মাসপ্রতি লক্ষ টাকা অফার করবে, এতটা আশা করাটা বোকামি। এই পেশায় নাম ও দাম, দুই অর্জন করাই সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। পাঁচটা কাজ করার পর একটা কাজে হয়তো তোমার নাম হল, একটু ভাল আয় হতে শুরু করল, ব্যস। পরের তিনটে কাজই লোকে আবার নিল না। আবার তুমি ব্যাকফুটে। গোড়া থেকে শুরু আবার। এই লেখার এক্কেবারে শুরুর দিকে এইজন্যই বলেছিলাম, ছবি করতে হলে কাজটার প্রতি প্যাশন না থাকলে কিন্তু মুশকিল। কাজটাকে দরদ দিয়ে, নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসলে, নিজের সর্বস্ব উজাড় করে লেগে থাকলে তবেই নাম, যশ; দেখা পাবে সবেরই।

পড়ব কোথায়?

# ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিআইআই), ল কলেজ রোড, পুনে

# জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া : এ জে কিদওয়াই মাস কমিউনিকেশন সেন্টার, মৌলানা মহম্মদ আলি জওহর মার্গ, নিউ দিল্লি

# সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, ই এম বাইপাস রোড, পঞ্চসায়র, কলকাতা

# কলকাতা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, কলকাতা

# এশিয়ান অ্যাকাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টিভি, ফিল্ম সিটি, নয়ডা, উত্তরপ্রদেশ

# জ়েভিয়ার ইনস্টিটিউট অফ কমিউনিকেশন, সেন্ট জ়েভিয়ার্স কলেজ, মুম্বই

# ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ তামিলনাড়ু, চেন্নাই

নামী এই প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও আরও অজস্র সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে দেশজুড়ে, ফিল্মমেকিং শেখার জন্য। ভারতবর্ষে প্রতিবছর পূর্বে বাংলা, পশ্চিমে মুম্বই ও দক্ষিণে চেন্নাই মিলিয়ে প্রায় হাজারের কাছাকাছি সিনেমা তৈরি হয়। উত্সাহ, উদ্দীপনা আর উদ্যমে ভর করে তাই নেমে পড়তেই পার এই পেশায় নাম কামাতে। পথ বন্ধুর হলেও কাজটার প্রতি ভালবাসা থাকলে রুক্ষ জমিতেই একদিন ফলবে সুমিষ্ট ফল, শুধু এই বিশ্বাসটুকু রাখতে হবে নিজের উপর। ব্যস।


লেখাপড়া কদ্দুর কী প্রয়োজন

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মের স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্য অ্যাপ্লাই করা যায়। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন স্তরে ভর্তির জন্য যে কোনও বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন থাকলেই চলে। তবে কোনও-কোনও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব এন্ট্র্যান্স টেস্ট ও তত্‌পরবর্তী ইন্টারভিউ নিয়ে তবেই ভর্তি নেয়। মাতৃভাষা ছাড়া অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়। পাবলিক রিলেশন বা অ্যাডভার্টাইসিংয়ে ডিপ্লোমা করে নিতে পারলে আরওই ভাল। এই শেষোক্ত কোয়ালিফিকেশনগুলো করেসপনডেন্স কোর্সের মাধ্যমেও করে ফেলা যায়। সার্টিফিকেশন কোর্সের জন্যও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন সেই ১০+২। ডিরেক্টোরেট অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অফ টুরিজ়মের অফিসারদের নেওয়া হয় রাজ্য/কেন্দ্রীয় সরকারের সিভিল/অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস থেকে। সরকারি সংস্থায় কাজ পেতে হলে অতি অবশ্যই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মে ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। সরকারি টুরিজ়ম ডিপার্টমেন্টে ইনফরমেশন অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ পেতে হলে স্টাফ সিলেকশন কমিশন আয়োজিত কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় উতরোতে হয়। এই পদের জন্য গ্র্যাজুয়েশন থাকা মাস্ট। সেইসঙ্গে চাই ইংরেজিতে দক্ষতা, ভারতীয় ইতিহাস, কলা ও স্থাপত্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানগম্যি।

তা বাদে আর যা-যা দরকার
শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি এই পেশায় আসার জন্য আর যে যে জিনিসগুলো চাই, তার মধ্যে কমিউনিকেশন এবং প্রেজ়েন্টেশন স্কিলের কথা সবার আগে উল্লেখ করতে হয়। একটু ছটফটে স্বভাব, বন্ধুভাবাপন্ন ব্যক্তিত্ব, মানুষের সঙ্গে প্রাণ খুলে মেশার ক্ষমতা, কথাবার্তায় চোস্ত হওয়া, নানা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারার মতো গুণ এই পেশায় তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে অনেকদূর। নিত্যনতুন ফেসিলিটি ও সার্ভিস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে পারলে তো আরওই ভাল। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বা ম্যানেজরিয়াল লেভেলে কাজ করতে হলে আবার অরগ্যানাইজ়িং এবিলিটি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, সমস্যায় পড়লে মাথা ঠান্ডা রেখে সমাধান খোঁজার ধৈর্য, দল হিসেবে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন এই গুণগুলো।

কাজটা কেমন? বাজার কেমন?
বিস্তীর্ণ একটা ক্ষেত্র হওয়ার দরুন টুরিজ়ম সেক্টরে কাজের সুযোগ ফাটাফাটি। উপরন্তু এখনও অবধি এই পেশায় ভিড়ভাট্টা তেমন বেশি না হওয়ায় চাকরির বাজারও গরমাগরম। চাকরি আছে পাবলিক ও প্রাইভেট, দুই সেক্টরেই। পাবলিক সেক্টরে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিরেক্টোরেট ও ডিপার্টমেন্ট অফ টুরিজ়মে এবং রাজ্য সরকারের অধীনে অফিসার, ইনফরমেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, টুরিস্ট গাইডের মতো নানা পদে কাজ আছে। প্রশিক্ষিত টুরিজ়ম প্রফেশনালদের জন্য কাজ আছে প্রাইভেট সেক্টরে বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সি, টুর অপারেটর, এয়ারলাইন, হোটেল, ট্রান্সপোর্ট ও কার্গো কোম্পানিতে। বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের দেশে বিদেশি টুরিস্টের সংখ্যা বছর-বছর বাড়ছে। যেহেতু কেরিয়ার অপশন হিসেবে এই পেশায় এখনও লোকজনের আগ্রহ কম, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ম্যানেজারের সংখ্যাও তাই এই জগতে এই মুহূর্তে খুব বেশি নয়। অন্যের অধীনে কাজে ঢুকে হুড়মুড়িয়ে উন্নতির সুযোগ ছাড়াও নিজস্ব ব্যবসা ফেঁদে বসার ব্যবস্থাও এই পেশায় আছে বিলক্ষণ।

দক্ষিণা কেমন?
ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ইন্ডাস্ট্রির চাকরিতে সন্তোষজনক বেতন ছাড়াও এমপ্লয়ি ও তার পরিবারের লোকজনের আজীবন ফ্রি-তে এদিক-ওদিক ঘোরার সুযোগ থাকে। এই জগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যালারির পরিমাণও আলাদা-আলাদা। তবে বিদেশি এয়ারলাইন কিংবা বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণত স্যালারির পরিমাণ একটু বেশিই।

তবে যাওয়ার আগে
অন্যরকম কাজ করার কথা ভাবলে যাদের পেট গুড়গুড় করে না, ঘুরে বেড়ানোয় যাদের আছে প্রবল আগ্রহ, নতুন-নতুন মানুষজনের সঙ্গে আলাপ পরিচয় বাড়াতে, তাদের ভালমন্দের খেয়াল রাখতে (অবশ্যই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে!) যাদের আপত্তি নেই, তারা হাসতে-হাসতে চলে আসতে পার এই পেশায়। পশ্চিমবঙ্গে ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ম্যানেজমেন্টের ভবিষ্যত্‌ সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নন্দন গুপ্ত জানাচ্ছেন, “আমাদের দেশে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম ম্যানেজমেন্টের স্কোপ এই মুহূর্তে ভীষণ ভাল। এই রাজ্যে এখনও এমন অনেক জায়গা আছে, যেগুলো আজ অবধি কখনও এক্সপ্লোর করাই হয়নি। আবার অনেক এমন নতুন জায়গাও বেরিয়েছে, যেখানে বাইরে থেকে টুরিস্টরা আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশ্বের এমন অনেক দেশ আছে, যাদের মূল সোর্স অফ ইনকামই হল এই ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়ম। আমাদের রাজ্যেও এরকম অনেক সুন্দর-সুন্দর জায়গা আছে, কিন্তু অনেকদিন পর্যন্ত সেই জায়গাগুলোয় ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মের জন্য আদর্শ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল না, ভাল হোটেল ছিল না, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। এখন কিন্তু সেই ছবিটা অনেকটাই পালটে গিয়েছে। যার ফলে আগামী কয়েক বছরে এরাজ্যে টুরিস্টের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়বে বই কমবে না। গতানুগতিক পথে না হেঁটে যারা নিজেরা ঘুরতে বেড়াতে ভালবাসে, তাদের তো অতি অবশ্যই এই পেশায় আসা উচিত। এই পেশায় এসে তারা টুর গাইড হতে পারে, হোটেল কিংবা ট্রেন ও প্লেন বা হোটেল বুকিং এজেন্সিতে কাজ করতে পারে। আমাদের এখানে বহুদিন ধরে এই একটা ক্ষেত্রে প্রফেশন্যালিজ়মের খুব অভাব ছিল। ট্র্যাভেল সংক্রান্ত স্থানীয় ওয়েবসাইটগুলো ঠিকঠাক মেইন্‌টেইন্‌ড হত না। বিভিন্ন জায়গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্যকভাবে তুলে ধরার কোনও দায় ছিল না। এই জায়গাগুলোয় ইতিমধ্যেই ভাল কাজ হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ভাল শোকেসিংয়ের সুযোগ আছে। যে কারণে বহু লোকের কাজ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার জায়গাটা আছে। ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজ়মে আমাদের ইনস্টিটিউটে চার বছরের কোর্স। চারবছরের শেষে প্রশিক্ষিত পড়ুয়াদের জন্য কাজের অভাব এই মুহূর্তে তো নেই-ই, ভবিষ্যতেও সেরকম কোনও আশঙ্কা নেই। বরং সম্ভাবনা আছে কাজের সুযোগ আরওই বাড়ার।”

পড়বে কোথায়?
অন্য রাজ্যগুলোর কথা বাদ দিয়ে শুধু আমাদের রাজ্যের কতগুলো ইনস্টিটিউট, যেখানে এই বিষয়টি পড়ানো হয়, তাদের নাম দিলাম নীচে—

স্বামী বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ মডার্ন সায়েন্স
সোনারপুর, কলকাতা

ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডি
মুকুন্দপুর, কলকাতা

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট
কলকাতা

আইআইএএস স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট
দার্জিলিং এবং কলকাতা

ইনস্টিটিউট অফ হোটেল অ্যান্ড রেস্তরাঁ ম্যানেজমেন্ট
কলকাতা

দুর্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
বর্ধমান

গোল্ডেন ইনস্টিটিউট অফ হসপিট্যালিটি ম্যানেজমেন্ট
হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর


কী যোগ্যতা চাই?

এই পেশায় পুঁথিগত লেখাপড়ার চেয়ে অনেক বেশি কদর করা হয় আর জে হিসেবে প্রার্থীর প্রতিভার। তবে, প্রথাগত শিক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়া হলেও একখানা গ্র্যাজুয়েশন কিংবা অন্তত উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডিটুকুও না পেরলে কিন্তু কাজ পাওয়া চাপের।
একজন রেডিয়ো জকির পক্ষে সবচেয়ে জরুরি হল বিভিন্ন অকেশন অনুযায়ী কণ্ঠস্বর ও বাচনভঙ্গি পালটে-পালটে ফেলা। তা বাদে একজন আর জে-র উচ্চারণ স্পষ্ট হওয়া উচিত, যে ভাষায় সে কথা বলছে, তার উপর তার যথেষ্ট দখল এবং অনর্গল কথা বলে যেতে পারার ক্ষমতা, চাই এসবও।
রেডিয়ো এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একজন আর জে-কে সাত থেকে সত্তর, যে কারও সঙ্গেই ইন্টার‌্যাক্ট করতে হতে পারে। এই কথাটা মাথায় রেখে ইন্ডিভিজুয়াল শ্রোতার সঙ্গে আর জে-কে মিশতে হয় এক্কেবারে আলাদা-আলাদা রকম ভাবে। সফল ও বিখ্যাত আর জে মানেই তার সেন্স অফ হিউমার হওয়া চাই সবার সেরা। এবাদে রেডিয়ো জকিকে হতে হয় ঠান্ডা মাথার। উলটোদিকের শ্রোতার কাছ থেকে যত প্ররোচনাই আসুক, মেজাজ হারিয়ে একবার বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেই আর জে হিসেবে তোমার গ্রহণযোগ্যতাও মানুষের মনে কমতে বাধ্য!

কী ধরনের কাজ পাওয়া যায়?
যে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব কোনও রেডিয়ো জকিকে দেওয়া হচ্ছে, তার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে রেডিয়ো জকিকে নিজেকে পালটে-পালটে, ভেঙেচুরে আবার নতুন করে সাজাতে হয়। কোনও এক রেডিয়ো জকির নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান মানুষের কতটা পছন্দ হবে, তা কিন্তু প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে একান্তভাবে সেই আর জে-র দক্ষতার উপর।
আশপাশের দিন-দুনিয়ায় কোথায় কী হচ্ছে, রাজনীতি থেকে খেলাধুলো, বিনোদন থেকে বিজ্ঞাপন, সবটা সম্পর্কেই একজন আর জে-কে হতে হয় ওয়াকিবহাল। আর জে-র একটা গুরুদায়িত্ব যেহেতু শ্রোতাদের জন্য গান বাজানো, তাই মিউজ়িক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট এবং কম্পিউটারেও তাদের হতে হয় স্বচ্ছন্দ।

কাজটা পাব কী করে?
আর জে হিসেবে কাজ পাওয়া যেতে পারে এ আই আর (অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো) থেকে শুরু করে দেশজোড়া আরও একাধিক রেডিয়ো স্টেশনের যে কোনওটিতেই। কাজ পেতে হলে আবেদন করার উপায় দুটো। হয় রেডিয়ো স্টেশনের ডাকে অডিশনে গিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, নইলে যোগাযোগ করতে রেডিয়ো সফ্‌টওয়্যার প্রোডিউসার কোম্পানির সঙ্গে। অনেক রেডিয়ো স্টেশনেরই নিজস্ব ওয়েবসাইটে রিক্রুটমেন্টের নিজস্ব পরিসর থাকে। আবেদন করা যায় সেখানে গিয়েও। একবার কাজে ঢুকে পড়ার পর দু’-তিনবছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে পারলে তারপর টেলিভিশন এবং রেডিয়োর বিজ্ঞাপনে ডাবিং করে দু’ পয়সা উপার্জন করা যায়। তা বাদে আর জে-র কাজ করতে-করতে কথাবার্তায় যত তুমি চোস্ত হবে, বিভিন্ন লাইভ শো-এ অ্যাঙ্করিংয়ের সুযোগও ততই ছুটে-ছুটে আসবে তোমার সামনে।

ব্যস, এই। আর কী। রেডিয়ো জকিইয়িং নিয়ে লেখাপড়া করা যেতেই পারে চাইলে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে নানারকম ছোট-বড় কোর্স করানো হয়। সেসবের খোঁজ এই লেখায় থাকল না এই কারণেই যে, আর জে হতে চাইলে ওই কোর্সগুলো কখনওই বাধ্যতামূলক নয়। একান্তই যদি তোমার প্রতিভা থাকে আর থাকে সফল আর জে হওয়ার জন্য অসম্ভব জেদ, তা হলেই এই পেশায় তোমার যুগপৎ এন্ট্রি ও উন্নতি কেউ ঠেকায় সাধ্যি কী!