UnishKuri
web-to-new-banner.jpg
Career Counselling

অ্যানিমেশনে কেরিয়ার

সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তির এক অসাধারণ মেলবন্ধন অ্যানিমেশনে কেরিয়ার। জানাচ্ছে ১৯ ২০

‘অ্যানিমেশন’ যাঁরা করেন, তাঁরা কী করেন? এককথায় বলতে গেলে, কোনও নিষ্প্রাণ বস্তু, দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) বা ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) যা-ই হোক না কেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে তাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। এটাই অ্যানিমেশন শিল্প। এই কাজটিকেই লাতিন ভাষায় বলে ‘অ্যানিমা’। এই শব্দ থেকেই অ্যানিমেশন শব্দটির উদ্ভব।

যেসব টম অ্যান্ড জেরি, লায়ন কিং বা মিকি মাউস আমরা দেখি, কোথাও তাদের চলাফেরা, কাজকর্ম বা এক্সপ্রেশন অস্বাভাবিক মনে হয় কি? হয় না, কারণ সেটাই অ্যানিমেটরদের কাজ। তাই শুধু প্রযুক্তির জ্ঞান বা শুধু সৃজনশীলতা নয়, দুইয়ের সঠিক মিশেলই হল ভাল আ্যনিমেটর হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার চাবিকাঠি। একই চরিত্রের বিভিন্ন ভঙ্গির একটি সিরিজ় তৈরি করে, তাকে খুব দ্রুত চালনা করে চরিত্রটির মুভমেন্টের একটি ইলিউশন তৈরি করাই আ্যনিমেটরদের প্রধান কাজ।

বর্তমানে অ্যানিমেশন, মিডিয়ার একটি বিশেষ ধরন হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দ্বিমাত্রিক থেকে ত্রিমাত্রিক, প্রযুক্তির ক্রমোন্নতির সঙ্গে-সঙ্গে বেড়ে চলেছে অ্যানিমেশন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি তৈরির ভাবনাচিন্তা এবং তা তৈরিও হচ্ছে সফলভাবে। সেইভাবেই আয়তনে এবং কাজের ব্যাপ্তিতে ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রি।

যেহেতু অ্যানিমেশনে কাজের সুযোগ এবং অন্যান্য সুবিধে বাড়ছে, তাই তরুণ প্রজন্মের আরও অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে এই পেশায় আসার জন্য। তবে শুধু সুযোগ-সুবিধে, পরিচিতি পাওয়া বা ভাল পে-প্যাকেজ দেখেই এই পেশায় আসতে চাইলে কিন্তু ভুল হতে পারে। মনে রাখতে হবে, অ্যানিমেশন অত্যন্ত পরিশ্রম এবং ধৈর্যের কাজ। অ্যানিমেশন ফিল্মের এক-একটি দৃশ্য তৈরি করতেই কখনও সময় লেগে যেতে পারে বেশ কয়েকদিন, সুতরাং ধৈর্য ধরতে পারা এই পেশার অন্যতম চাহিদা। বর্তমানে বহু আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত অ্যানিমেশন সংস্থা ভারতে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে, যেখানে ভারতীয়দের প্রতিভা প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ থাকছে।

কাজের ধরন
অ্যানিমেশন হল এককথায় একটি নির্দিষ্ট সৃজনশীল পরিকল্পনাকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি টিমওয়র্ক। সকলে মিলে কাজ করে একটি পরিকল্পনার উপর, কিন্তু একটি থ্রি ডি ফিল্মেই অনেক ধরনের কাজ থাকে। সেই কারণে একটি থ্রি ডি ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত থাকেন অনেকরকম ডেজ়িগনেশনের পেশাদার মানুষ। একটি থ্রি ডি অ্যানিমেশন ফিল্ম তৈরির অনেকগুলো পর্যায় থাকে, যেমন, স্টোরি, স্টোরি বোর্ডিং, ক্যারেক্টার স্কেচ, কনসেপ্ট ক্রিয়েশন, মডেলিং, এনভায়রনমেন্ট, ক্যারেক্টার ও মেকানিক্যাল অ্যানিমেশন, স্টোরিবোর্ড অ্যানিমেশন, লাইটিং, টেক্সচারিং, ডায়নামিক্স, ভয়েস রেকর্ডিং, ডিজিটাল এডিটিং, ভিএফএক্স ইত্যাদি। সুতরাং একটি থ্রি ডি অ্যানিমেশন তৈরির জন্য যে-যে পেশাদারদের দরকার হয়, তাঁরা হলেন মডেলার, লে-আউট শিল্পী, ক্লিন আপ শিল্পী, স্ক্যানার অপারেটর, ডিজিটাল ইংক ও পেন্ট শিল্পী, কম্পোজ়িটর, কি ফ্রেম অ্যানিমেটর, ব্যাকগ্রাউন্ড শিল্পী, ইনবিটুইন আ্যনিমেটর প্রমুখ। এঁদের প্রত্যেকের সমবেত কুশলতাই একটি অ্যানিমেশন প্রজেক্টের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।

ভাল অ্যানিমেটর হতে গেলে যে-যে গুণ থাকতে হয়
এই পেশায় আসতে গেলে প্রধানত কাজের উপর আগ্রহ থাকতে হবে এবং কাজটাকে ভালবাসতে হবে। ভাল অ্যানিমেটর হওয়ার জন্য অনেকগুলো গুণ থাকা খুব জরুরি। অনেকে মনে করেন ভাল আঁকতে পারলেই ভাল অ্যানিমেটর হতে সুবিধে হয়। ভাল আঁকতে পারার সঙ্গে-সঙ্গে চাই দর্শকদের বয়স এবং পছন্দ অনুসারে ভাবনাচিন্তা করার দক্ষতা, নতুন চরিত্র ভিসুয়ালাইজ় করার দক্ষতা, অভিনয় বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান এবং সেন্‌স অফ হিউমার। সবচেয়ে বড় কথা হল, বিষয়টির প্রতি প্যাশন না থাকলে কখনও দীর্ঘসময় ধৈর্য ও মনোযোগ ধরে রেখে কাজ করার মানসিকতা তৈরি হয় না।

পেশাদার কোর্স এবং স্পেশ্যালাইজ়েশন
অ্যানিমেশন এবং মাল্টিমিডিয়ার আওতায় বিভিন্ন ধরনের ডিপ্লোমা এবং ডিগ্রি কোর্স আছে, এই কোর্সগুলোয় কোনও শিক্ষার্থীকে অ্যানিমেশনের নানারকম স্টাইল ও টেকনিক শেখানো হয়ে থাকে। এরকম কোর্সগুলো হল—
ট্র্যাডিশনাল অ্যানিমেশন,
স্টপ মোশন অ্যানিমেশন,
রোটোস্কোপিং,
কম্পিউটার জেনারেটেড থ্রি ডি এবং টু ডি অ্যানিমেশন,
ক্লে-মেশন,
ফোটোশপ,
হিউম্যান অ্যানাটমি,
ড্রয়িং ইত্যাদি।
পাশাপাশি এই কোর্সগুলো করার পর বেশ কিছু ক্ষেত্রে স্পেশ্যালাইজ়েশনেরও সুযোগ থাকে। থ্রি ডি বা টু ডি মডেলার, স্পেশ্যাল এফ এক্স ক্রিয়েটর, অ্যানিমেটর, ক্যারেক্টার ডিজ়াইনার, গেম্‌স ডিজ়াইনার, ইন্টার-অ্যাকশন ডিজ়াইনার এইসব বিষয়ে স্পেশ্যালাইজ় করা সম্ভব।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

অ্যানিমেশনে ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর ডিগ্রি পেতে হলে যে-কোনও স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় অন্তত ৪৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশ করতে হবে। আ্যনিমেশনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি পাওয়ার জন্য যে-কোনও বিষয়ে স্নাতক হলেই চলে, তবে আর্টসের ছাত্রছাত্রীরাই এ ব্যাপারে অগ্রাধিকার পায়। তবে ছাত্রছাত্রীদের কম্পিউটার এবং প্রযুক্তি বিষয়েও কিছু প্রাথমিক জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

তবে কিছু ক্ষেত্রে কোনও-কোনও প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা অ্যানিমেশন-সংস্থা, যেমন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজ়াইন সেন্টার (আইডিসি), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ডিজ়াইন (এনআইডি) বা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), এরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সের জন্য শুধুমাত্র আর্কিটেকচার, টেকনোলজি, ফাইন আর্টস এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রছাত্রীদেরই প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে থাকে।

 
কেরিয়ারের সুযোগসুবিধে
বর্তমানে ভারতে গেমিং ইন্ডাস্ট্রি (কম্পিউটার গেম্‌স এবং মোবাইল গেম্‌স) যেভাবে দ্রুত উন্নত এবং বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, আগামী কয়েকবছরের মধ্যে এই ইন্ডাস্ট্রিতে বহু লক্ষ কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যত অ্যানিমেটরদের পক্ষে খুবই আশার কথা। অ্যানিমেটরদের কাজ ছড়িয়ে পড়ছে নতুন প্ল্যাটফর্ম অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সর্বত্রই। তৈরি হচ্ছে নতুন-নতুন কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ। অ্যানিমেশন বা মাল্টিমিডিয়ার কাজকর্ম শিখে যেসব জায়গায় কাজ করা যায়, সেগুলো হল, বিনোদন (মুভি ও টেলিভিশন), ব্যবসাবাণিজ্য (প্রোডাক্ট প্রোমোশন এবং মার্কেটিং ডেমো), সেল্‌স (প্রেজ়েন্টেশন), শিক্ষা (কম্পিউটার-ভিত্তিক বা ওয়েব-ভিত্তিক টিউটোরিয়াল), প্রকাশনা (গ্রাফিক্স এবং প্রিন্টিং), ওয়েব ডিজ়াইনিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞাপন (কমার্শিয়াল ও প্রিন্ট অ্যাড), ফ্যাশন এবং ইন্টিরিয়র ডিজ়াইনিং, কম্পিউটার এবং মোবাইল গেম ডিজ়াইন, স্টুডিয়ো এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এ প্রশিক্ষণ দেওয়া ইত্যাদি।

কয়েকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম

১. এরিনা অ্যানিমেশন (পার্ক স্ট্রিট)
কোহিনুর বিল্ডিং, দ্বিতীয় তল
১০৫ নং, পার্ক স্ট্রিট
(পার্ক স্ট্রিট এবং লাউডন স্টিরিটের ক্রসিংয়ে, সেন্ট জ়েভিয়ার্স কলেজের কাছে)
কলকাতা-৭০০০১৬

২. এরিনা অ্যানিমেশন (কাঁকুড়গাছি)
পি-২৮, মানিকতলা মেন রোড (কাঁকুড়গাছি আইল্যান্ড এবং রেলব্রিজের মাঝখানে)
কাঁকুড়গাছি, কলকাতা-৭০০০৫৪

৩.
ডিজিটাল এশিয়া স্কুল অফ অ্যানিমেশন
১২এ, ক্যামাক স্ট্রিট, ঊষাকিরণ বিল্ডিং, দশম তল, কলকাতা ৭০০০১৭
ই মেল : [email protected]
ওয়েবসাইট : www.dasaglobal.net

৪. টুন্‌জ় ওয়েব্‌ল অ্যাকাডেমি
ব্লক বিপি, প্লট ৫, সেক্টর ৫, বিধাননগর সল্ট লেক, কলকাতা-৭০০০৯১
ওয়েবসাইট : www.toonzwebelacademy.com

৫. ডিজিটাল ম্যাজিক অ্যানিমেশন অ্যাকাডেমি
৪১, শরত্‌ বোস রোড, দ্বিতীয় তল, কলকাতা-৭০০০২০
ই মেল : [email protected]
ওয়েবসাইট : www.digitalmagic.in

৬. দ্য অ্যাকাডেমি অফ অ্যানিমেশন আর্টস অ্যান্ড টেকনোলজি (এএএটি)
শ্রাচি টাওয়ার, ৬৮৬, আনন্দপুর, পঞ্চম তল
কলকাতা-৭০০১০৭
ই মেল : [email protected]
ওয়েবসাইট : www.animationacademyindia.com

৭. অ্যানিমাস্টার
৬০এ, মুখার্জি এস্টেট, পঞ্চম তল
চৌরঙ্গি রোড, লালা লাজপত রায় সরণি
কলকাতা- ৭০০০২০
ই মেল : [email protected]
ওয়েবসাইট : www.animaster.com

৮. ফ্রেমবক্স অ্যানিমেশন
১৮এ, পার্ক স্ট্রিট, ২১ স্টিফেন কোর্ট
থার্ড ফ্লোর, (মিউজ়িক ওয়র্ল্ডের উপরের তল)
কলকাতা-৭০০০৭১
ই মেল : [email protected]

৯. মায়া অ্যাকাডেমি অফ অ্যাডভান্সড সিনেম্যাটিক্স (MAAC)
৬বি, যতীন্দ্র মোহন অ্যাভিনিউ (গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের কাছে)
কলকাতা-৭০০০০৬
ই মেল : [email protected]


যে সব জায়গায় প্রয়োজনীয় কোর্স করানো হয়

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, সব জায়গাতেই জার্নালিজ়মের উপর স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেসব কলেজে স্নাতক স্তরে জার্নালিজ়ম পড়ানো হয় :
মুরলীধর গার্লস কলেজ, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ, সাউথ ক্যালকাটা গার্লস কলেজ, শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজ, আশুতোষ কলেজ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেনস, লোরেটো কলেজ, চারুচন্দ্র কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন বা ডিপ্লোমা কোর্সও আছে। বিস্তারিত জানতে লগ ইন করো: www.caluniv.in-এ।
এছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ডিপ্লোমা কোর্সও করা যেতে পারে।
ওয়েবসাইট: www.jadavpur.edu

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’বছরের এম.এ কোর্স করানো হয়। পাশাপাশি একবছরের ডিপ্লোমা কোর্সও করানো হয়।
ওয়েবসাইট: www.rabindrabharatiuniversity.net

এর পাশাপাশি কিছু বেসরকারি সংস্থা থেকেও কোর্স করা যেতে পারে :

দ্য জর্জ টেলিগ্রাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট
১৩৬, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট
কলকাতা-৭০০০১২
এক বছরের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন মাস কমিউনিকেশন
ওয়েবসাইট:www.georgetelegraph.org

সিকিম মানিপাল ইউনিভার্সিটি(এস এম ইউ)
পি ২১এ, ওল্ড বালিগঞ্জ রোড
কলকাতা-১৯
দু’বছরের বি এ কোর্স ইন জার্নালিজ়ম
ওয়েবসাইট: www.smude.edu.in

টিভি জার্নালিজ়ম

ইন্সটিটিউট অফ জার্নালিজ়ম অ্যান্ড মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
২/২ নিমর্লচন্দ্র স্ট্রিট,
কলকাতা-৭০০০১২

এন এইচ এস এম নলেজ ক্যাম্পাস
১২৪, বি এল সাহা রোড
কলকাতা-৭০০০৫৩

রাজ্যের বাইরে যে সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে:

জে এন ইউ (জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়), নয়াদিল্লি
ওয়েবসাইট: www.iimc.nic.in

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, নয়াদিল্লি
ওয়েবসাইট: jmi.nic.in


ফিটনেস প্রশিক্ষণ

যোগাসন বা ব্যায়ামের পাশাপাশি সহজে কাজ হাসিল করার জন্য অনেকেই শরণাপন্ন হচ্ছেন মাল্টি জিমের। জিমনাশিয়ামের আধুনিক রূপটিই হল ‘জিম’। এখানেও প্রয়োজন হয় ফিটনেস ট্রেনিং প্রফেশন্যালদের। এখানে যোগাসন বা ব্যায়ামের বিশদ প্রশিক্ষণের কোনও স্কোপ নেই। এখানে ব্যায়াম-সহায়ক মেশিনগুলোর ব্যবহার ভাল করে জেনে রাখতে হয়। একজন তিরিশ বছরের বেশি বয়সী মানুষের দেহের বাড়তি ফ্যাট ঝরানোর উপায় যেমন বলে দিতে হয়, তেমনই একজন আঠেরো-উনিশ বছর বয়সী ছেলে কীভাবে সিক্স প্যাক তৈরির রাস্তায় হাঁটবে, তা-ও শেখাতে হয় ফিটনেস ইনস্টাকটরদের। তাই এদের কাজের জায়গাটি অনেকটাই বিস্তৃত।

দরকারি পড়াশোনা
ফিটনেস প্রশিক্ষণের কাজ করতে গেলে মানুষের শরীর নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পড়াশোনাও করে রাখতে হয়। মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, শারীরস্থান বা অ্যানাটমি নিয়ে পড়াশোনা না করলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়।

একজন ফিটনেস এক্সপার্টের কাজ হল, একজন ক্লায়েন্টের জন্য উপযুক্ত ফিটনেস প্রোগ্রাম বানিয়ে দেওয়া। এখন সেই ফিটনেস প্রোগ্রামের সঙ্গে কিন্তু সেই ধরনের ব্যায়ামের সঙ্গে উপযুক্ত ডায়েটের আউটলাইনও। সেই ডায়েট অনুসারে খাওয়া-দাওয়া করে চললেই তবে জিম করার পুরোপুরি ফল পাওয়া যায়। তাই ফিটনেস ইনস্ট্রাকটরকে নিউট্রিশন বা পুষ্টিবিজ্ঞান এবং ডায়েটেটিক্স নিয়েও বেসিক পড়াশোনা শিখতে হয়।

ক্লায়েন্টকে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সুরক্ষিত লাইফস্টাইলের রাস্তা দেখাতে গেলে ইনস্ট্রাকটরকে একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাসপেক্ট মনিটর করেই এগোতে হয়।

ফিটনেস ট্রেনিংয়ের তিনটি প্রধান ধরন
১. গ্রুপ ফিটনেস ইনস্ট্রাকটর : যাঁরা কোনও গ্রুপকে বা ক্লাবে বা ক্লাসরুমে এক-একটি দলকে ফিটনেস প্রশিক্ষণ দেন।
২. এক্সারসাইজ় স্পেশালিস্ট : এঁরা ফিজ়িশিয়ানের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়াম শিখিয়ে থাকেন। সাধারণত বিভিন্ন রোগীরা তাঁদের রোগ সারানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যায়াম শেখার জন্যই এঁদের কাছে আসেন।
৩. পার্সোনাল ট্রেনার : এই ধরনের ট্রেনাররা কোনও প্রতিষ্ঠানে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জন্য আসা প্রতিটি মানুষকে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। ক্লায়েন্ট স্যাটিসফ্যাকশন এঁদের কাজের একটি প্রধান শর্ত।

ফিটনেস ট্রেনিংয়ের কোর্স
ভারতের বড়-বড় শহরে এখন গড়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ফিটনেস ট্রেনার তৈরির সংস্থা ‘আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ়’ বা এসিই। এখানে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের কোর্স করানোর পর ট্রেনারদের সার্টিফিকেট দেওয়ারও ব্যবস্থা আছে। তিন ধরনের কোর্স হল,
১. দ্য এসিই গ্রুপ ফিটনেস ইনস্ট্রাকটর সার্টিফিকেশন
২. এসিই ক্লিনিক্যাল এক্সারসাইজ় স্পেশ্যালিস্ট সার্টিফিকেশন
৩. এসিই লাইফস্টাইল অ্যান্ড ওয়েট ম্যানেজেমন্ট কনসালট্যান্ট সার্টিফিকেশন
এছাড়াও, ভারতের গোয়ালিয়রে ‘লক্ষ্মীবাই কলেজ অফ ফিজ়িক্যাল এডুকেশন’ থেকে ফিজ়িক্যাল এডুকেশনের উপর ব্যাচেলর বা মাস্টার্স ডিগ্রি করানো হয়। বিএফওয়াই স্পোর্টস আ্যন্ড ফিটনেস (বেঙ্গালুরু, মুম্বই, পুনে)-এর মতো সংস্থা থেকেও নানারকম ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ট্রেনিং এবং সার্টিফিকেট দেওয়া হয়ে তাকে।

যোগাসন শিক্ষার কেন্দ্র
ভারতের দু’টি বিখ্যাত যোগাসন শিক্ষার কেন্দ্র হল,
১. কৈবল্যধাম য়োগা ইনস্টিটিউট
লোনাভলা
ওয়েবসাইট : www.kdham.com
এখানে যোগবিজ্ঞান নিয়ে দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা করার যেমন সুযোগ আছে, তেমনই শেখার সুযোগ আছে য়োগিক হেল্‌থকেয়ার, অর্থাত্ যোগাসনকে কাজে লাগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখার ফান্ডা।
কৈবল্যধামের গোর্ধনদাস সেকসারিয়া কলেজ অফ য়োগা অ্যান্ড কালচারাল সিন্থেসিস
এখানে বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সের সঙ্গে এম ফিল, স্কুলশিক্ষকদের য়োগা ট্রেনিং, য়োগা থেরাপি ও এডুকেশনের উপর ডিপ্লোমা কোর্স এবং আরও অনেক স্পেশ্যালাইজ়ড কোর্সের ব্যবস্থা আছে।

২. প্রণব যোগধাম
৬৬৪, সেভেন্থ মেন রোড
মহীশূর
কর্ণাটক ৫৬০০১৭
এখানে টিচার ট্রেনিং কোর্স, য়োগা থেরাপি কোর্স ছাড়াও আরও অনেক ধরনের স্পেশ্যালাইজ়ড সার্টিফিকেট কোর্স প্রোগ্রামের ব্যবস্থা আছে।
ওয়েবসাইট : www.mysoreyoga.org

.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.


যোগ্যতা এবং কোর্স

আধুনিক যুগ শিল্পায়নের যুগ। এই ব্যাপক শিল্পপ্রসারের যুগে কতগুলো সামান্য বিষয়ের প্রতি অবহেলাই কিন্তু ঘটাতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট তো রইলই, কিন্তু ডিজ়াস্টার যাতে না ঘটে, সেই সাবধানতা বা সতর্কতা অবলম্বন করাটাই কি বেশি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেফটি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কেরিয়ার। এটা শুধু একটা কেরিয়ারই নয়, এই কেরিয়ারের একটা বিরাট মানবিক দিক আছে।

যদি কেউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ম্যানেজমেন্টের কোর্স করতে চায়, তাদের প্রথমেই যে যোগ্যতা দরকার, তা হল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি। এরই সঙ্গে যদি শিল্প বা কলকারখানা বা কোনও প্র্যাকটিক্যাল ফিল্ডে কাজের অভিজ্ঞতা থাকে, তা হলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ব্যক্তিগত বা প্রকৃতিগত যোগ্যতার মধ্যে ঠান্ডা মাথা, উপস্থিত বুদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, যে-কোনও পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার সঙ্গে-সঙ্গে ম্যানেজেরিয়াল স্কিল, সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা এবং প্ল্যান করার ক্ষমতা থাকলে এই পেশায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করা যায়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ম্যানেজমেন্ট-এর ক্ষেত্রে অনেকসময় স্বল্পমেয়াদি কোর্সও করার সুযোগ পাওয়া যায়। পেশাদার কর্মী, সুপারভাইজ়ার, ট্রেড ইউনিয়ন লিডার এরাও এই কোর্স করার সুযোগ পান। মুম্বইয়ের সেফটি কমিটির সদস্যরা অনেকসময় ভুবনেশ্বর, চণ্ডীগড়, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং জয়পুরে কোর্স করার আয়োজন করেন।

সেফটি ম্যানেজমেন্টের গ্র্যাজুয়েশন এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন
সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন (বি এস, অর্থাত্‌ ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন সেফটি ম্যানেজমেন্ট) করতে হলে সময় লাগে মোট চার বছর এবং এই শিক্ষাকে পুরোপুরি প্র্যাকটিক্যাল করে তোলার জন্য কোর্সের সঙ্গে কমবাইন্ড থাকে হেল্থ সায়েন্স এবং বিজ়নেস এডুকেশন। এর মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় কাজের জায়গাকে বিপদের আশঙ্কা থেকে মুক্ত করা এবং দ্রুত আপত্‌কালীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি। এই লেভেলে সেফটি সায়েন্স কোর্স শেখানোর পর বিভিন্ন স্কুলে প্র্যাকটিকালি ইনটার্নশিপ করার সুযোগও পাওয়া যায়। গ্র্যাজুয়েশনে জেনারেল এডুকেশন এবং কোর্সওয়র্কের বাইরেও যেগুলো শেখানো হয় সেগুলো হল,
ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেল্থ অ্যান্ড হাইজিন
ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফ্টি স্ট্যান্ডার্ডস
সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
অ্যাকসিডেন্ট প্রিভেনশন
সেফটি হ্যাজ়ার্ডস

সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন (এম এস, অর্থাত্‌ মাস্টার অফ সায়েন্স ইন সেফটি ম্যানেজমেন্ট) করতে হলে তার সঙ্গে পড়তে হয় বিজ়নেস স্টাডি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হেল্থ সায়েন্সেস। পাশাপাশি থাকে এমার্জেন্সি কেয়ার এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফ্টি বিষয়েও প্রয়োজনীয় পড়াশোনা। গ্র্যাজুয়েটদের ইন্ডাস্ট্রির ম্যানুফাকচারিং, ট্রান্সপোর্টেশন, কনস্ট্রাকশন, সরকারি, কনসাল্টেশন এবং এভিয়েশন বিষয়ে পেশাদারিভাবে দক্ষ করে তোলাই মাস্টার্স ডিগ্রি লেভেলের উদ্দেশ্য। এখানে ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট বা রিসার্চওয়র্ক ইলেকটিভ হিসেবেও নেওয়ারও সুযোগ থাকে কোনও-কোনও প্রতিষ্ঠানে।
প্রফেশন্যাল সেফটির স্ট্যান্ডার্ড এবং প্র্যাকটিসের অ্যাডভান্সড প্রসেস ছাড়াও ম্যানেজেরিয়াল স্কিল ডেভেলপ করার সুযোগও থাকে এই কোর্সে। মাস্টার্স ডিগ্রির প্রোগ্রাম কোর্স ওয়র্কের মধ্যে থাকে
সেফটি রিসার্চ অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন
এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড পার্সোনাল হ্যাজ়ার্ড কন্ট্রোল
ফায়ার সেফটি
সেফটি ট্রেনিং
এমার্জেন্সি কেয়ার
রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট
লস কন্ট্রোল

কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র
সেফটি ম্যানেজমেন্টের কাজ প্রধানত যেসব জায়গার জন্য উপযুক্ত, সেইসব ক্ষেত্রগুলো হল,
ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন্স
এমার্জেন্সি সিচুয়েশন্স কন্ট্রোলিং ইন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রি
মনিটরিং দ্য সেফটি অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকুইপমেন্ট
মেডিক্যাল ভিজিল্যান্স
দুর্ঘটনা এবং চোট-আঘাত প্রতিরোধ বিভাগ
ডকুমেন্টেশন অফ দ্য ডিফেকটিভ ইকুইপমেন্টস
পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্টস
অ্যানালিসিস অফ ইন্ডাস্ট্রি সেফটি রিকোয়ারমেন্টস

কেরিয়ারের সম্ভাবনা
এনটিপিসি, কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড, সেল, টিসকো, ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ান অয়েল এমপ্লয় ইঞ্জিনিয়ারিং, তা ছাড়াও ফায়ার প্রোটেকশন ইঞ্জিনিয়ার, সিস্টেম সেফটি ইঞ্জিনিয়ার, কনস্ট্রাকশন সেফটি ইঞ্জিনিয়ার, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট, ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি সুপারভাইজ়ার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাইজিন ম্যানেজার, এনভায়রনমেন্ট সেফটি ম্যানেজার ইত্যাদি সমস্ত ধরনের কাজ করার জন্যই সুযোগ মেলে সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট কোর্স করলে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রধানত যে পদগুলোয় কাজ মেলে, সেগুলো হল মেনটেন্যান্স সুপারভাইজ়র, করপোরেট সেফটি ম্যানেজার, অকুপেশনাল হেল্থ অ্যান্ড সেফ্টি স্পেশ্যালিস্ট ইত্যাদি।

বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ভারতে যেসব প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে কোর্স করা যায়, সেগুলো হল,
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টক্সিকোলজি রিসার্চ
(ইন্ডাস্ট্রিয়াল টক্সিকোলজি রিসার্চ সেন্টার)
পোস্ট বক্স ৮০, মহাত্মা গাঁধী মার্গ
লখনউ ২২৬০০১
ওয়েবসাইট :www.iitrindia.org

ন্যাশনাল সেফটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া
প্লট নং ৯৮এ, ইনস্টিটিউশনাল এরিয়া
সেক্টর ১৫, সিবিডি বেলাপুর
নভি মুম্বই
ওয়েবসাইট :www.nsc.org.in

পেরিয়ার মণিআম্মাই বিশ্ববিদ্যালয়
পেরিয়ার নগর, ভাল্লাম থাঞ্জাভুর ৬১৩৪০৩
ওয়েবসাইট :www.pmu.edu

রাজীব গাঁধী ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ সায়েন্সেস
ফোর্থ টি ব্লক, জয়ানগর
বেঙ্গালুরু, কর্ণাটক ৫৬০০৪১
ওয়েবসাইট :www.rguhs.ac.in

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস
আনসারি নগর (ইস্ট), গৌতম নগর
নয়া দিল্লি ১১০০২৯
ওয়েবসাইট :www.aiims.edu