UnishKuri
Web-entertainment.jpg
কেটে নাও ফ্রিঞ্জেস

মুখের লুক পালটাতে চাও?

চুলের কাট যতই পালটাও না কেন, মুখের লুক পালটাতে ফ্রিঞ্জের জুড়ি মেলা ভার। মুখের সামনে বিভিন্নরকম ফ্রিঞ্জেস এখন ভীষণভাবে ইন। কিন্তু কোন ফ্রিঞ্জকে কী বলে সেটা কি তোমরা জানো? তাহলে বিউটি পার্লারে গিয়ে কী ধরনের ফ্রিঞ্জ কাটবে বুঝবে কী করে? চলো ফ্রিঞ্জের লিস্টি বের করে দেখে নিই।

ফ্রিঞ্জেস কী?
প্রথমে জানতে হবে ফ্রিঞ্জেস কী। একে আমরা ব্যাঙ্গসও বলে থাকি। মুখের সামনের দিকের চুলগুলো ছোট করে কেটে কপালের উপর ফেলে রাখলে তাকে বলে ফ্রিঞ্জেস। চুল উঠে যাওয়ার সমস্যা বাড়তে থাকায় ফ্রিঞ্জেস ইদানীং খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কারণ ফ্রিঞ্জেস কাটলে কপালের অনেকটাই ঢেকে যায়। তাছাড়া বিভিন্নরকম ফ্রিঞ্জেস চুলে ভলিউমও অ্যাড করে।

কতশত ফ্রিঞ্জেস
ব্লান্ট ফ্রিঞ্জেস : আগে আমরা যেটাকে চাইনিজ় কাট বলতাম, সেটাই হল গিয়ে ব্লান্ট ফ্রিঞ্জেস। এটা স্ট্রেট কপালের উপর পড়ে থাকে। এবার এর দৈর্ঘ্য আমরা নিজেরা ঠিক করতে পারি। এটা ভুরু অবধি থাকবে নাকি কপালের মাঝবরাবর সেটা ঠিক করে কাটতে হবে।

সাইড-সোয়েপ্ট ফ্রিঞ্জেস
ক্যারি করার জন্য সবচেয়ে সহজ ফ্রিঞ্জেস। সামনের দিকের চুলে একটা লেয়ার কেটে নিলেই এই সাইড-সোয়েপ্ট ফ্রিঞ্জ পেয়ে যাবে। তারপর এমনি খোলা চুলের সঙ্গে বা চুলের পিছনে বেনি বা খোঁপা করে সামনের লেয়ারটা খুলেও রাখতে পার অথবা সাইড করে ক্লিপ দিয়ে হালকা করে আটকে রাখতে পারো। দেখতে ভাল লাগবে।

পার্টেড ফ্রিঞ্জেস
এক্ষেত্রে মুখের সামনে থেকে কয়েকটা চুল বেছে নিয়ে ছোট করে কেটে রাখা যায়। এতে দু’একটা চুল কপালের উপর পড়ে থাকে। বোহো বা ফ্লার্টি লুক পেতে এই ফ্রিঞ্জেসের জুড়ি মেলা ভার।

চপি ব্যাঙ্গস
নাম থেকেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, কেমন দেখতে হবে। যেভাবে কুচিয়ে পেঁয়াজ, টমেটো কাটা হয়, সেভাবেই কুচিয়ে চুলও কাটতে হবে। অবশ্যই এই কাটটা হবে মুখের সামনে। তবে তাতেও বেশ কয়েকটা লেয়ার থাকবে। ব্লান্ট ফ্রিঞ্জেসের মতো চুলের শেষটা সমান হবে না।

অ্যাসিমমেট্রিক্যাল ফ্রিঞ্জেস
এক্ষেত্রে চুলের নীচের দিকের কাটটা অসমান হবে। ফলে চুলটা যদি একপাশে সরিয়েও রাখো, তাহলেও কয়েকটা ফ্রিঞ্জ মুখের উপর পড়বেই। এটা অনেকটা শর্ট লেয়ারের পর্যায়ে পড়ে।

পিক্সি কাট ফ্রিঞ্জেস
এক্ষেত্রে পিক্সি কাটের সামনের দিকটা ফ্রিঞ্জের মতো করে কাটতে হবে, যাতে কপালের উপর পড়ে থাকে। বেশিরভাগ পিক্সি কাটেই সামনের দিকের চুল অনেক বেশি ছোট করে দেওয়া হয়। কিন্তু পিক্সি ফ্রিঞ্জে কপালে চুল থাকে, এমনভাবে ফ্রিঞ্জ কাটতে হবে।

লং ফ্রিঞ্জেস
যখন গালের চিকবোন অবধি ফ্রিঞ্জেস কাটা হয়, তখন তাকে বলে লং ফ্রিঞ্জেস। এই ফ্রিঞ্জ মেনটেন করাও তেমন ঝামেলার নয়। সবসময় চুল খোলা রাখতে খুব অসুবিধে হলে মাথার পিছনে ক্লিপ দিয়েও আটকে নেওয়া যায়।

মুখের শেপ অনুযায়ী ফ্রিঞ্জেস
পিক্সি কাট, ব্লান্ট, সাইড-সোয়েপ্ট… উফ! কতশত ফ্রিঞ্জেস। কিন্তু আমার মুখে কেমন ফ্রিঞ্জ মানাবে? সেটা জানতে হলে তো বন্ধু নিজের মুখের শেপটা আগে দেখতে হবে। তারপর নিজের মুখের শেপ অনুযায়ী কোন ফ্রিঞ্জেস কাটবে, সেটা ঠিক করতে হবে।

ডিম্বাকার মুখ মানে তুমি খুবই লাকিয় এই মুখে যে-কোনও ফ্রিঞ্জেস ভাল লাগবে। তবে আইব্রো পর্যন্ত লম্বা পার্টেড ফ্রিঞ্জেস সবচেয়ে বেশি কিউট লাগে।

চৌকো মুখে কিন্তু ফ্রিঞ্জ কাটার আগে খুব সাবধান। ব্লান্ট বা স্কোয়্যার ফ্রিঞ্জেস মোটেই মানাবে তোমার মুখে। তার চেয়ে বরং লং লেয়ার্‌ড বা সাইডসোয়েপ্ট বা চপি ফ্রিঞ্জেস ট্রাই করতে পারো। যদি চুল ছোট রাখার ইচ্ছে হয়, তাহলে পিক্সি ফ্রিঞ্জেস ট্রাই করা যেতে পারে। তাতে তোমার মুখের নীচের দিকে জ’লাইন আরও স্পষ্ট বোঝা যাবে। দেখতে ভাল লাগবে। মনে রাখবে, চৌকো মুখ মানেই কিন্তু সেটা ঢাকার চেষ্টা করব না। অনেকেরই এই স্ট্রং জ’লাইন খুব ভাল লাগে। উদাহরণ হিসেবে করিনা কপূরকে দেখতে পারো।

গোলাকার মুখে সাইডসোয়েপ্ট বা পার্টেড ফ্রিঞ্জ খুব ভাল মানাবে। তাই তোমরা বেশি এক্সপেরিমেন্ট না করে এই দু’রকম ফ্রিঞ্জই ট্রাই কোরো।

পানপাতা আকৃতির মুখে থুতনির কাছ অনেক বেশি পয়েন্টেড হয়, সেখানে চিকবোন অনেক চওড়া। ফলে পুরো মুখে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইডসোয়েপ্ট বা লং ফ্রিঞ্জেস ভাল লাগবে।

লম্বা মুখে ব্লান্ট ফ্রিঞ্জেস বেস্ট। এতে মুখের লেংথটা একবারে বেশ অনেকটা কমে আসে আর দেখতেও বেশ ভাল লাগে।

ফ্রিঞ্জ মেনটেন করবে কী করে?
পরিচিত কাউকে যেই দেখলে ফ্রিঞ্জ কাটতে, নিজেরও ইচ্ছে হল। ব্যস! বিউটি পার্লারে গিয়ে ফ্রিঞ্জ কেটে চলে এলে। কিন্তু এই ফ্রিঞ্জ মেনটেন করার জ্বালা কি কম? যেদিন ফ্রিঞ্জেস কাটলে, তার পরের দুদিন হয়তো দেখতে খুব ভাল লাগে। তারপর এক-দু’সপ্তাহ যেতে না যেতেই ইচ্ছে করে চুলগুলোকে ছেঁটে উড়িয়ে দিতে। একে তো সামনের ওই চুলগুলোর শেপ নষ্ট হয়ে যায়, এদিক-ওদিক উড়ে বিশ্রী দেখায়। তাই সকলের আগে ফ্রিঞ্জ মেনটেন করবে কীভাবে শিখে নিয়ে তবেই ফ্রিঞ্জ কাটবে।

ব্লো ড্রাই
ফ্রিঞ্জেস সবসময় ব্লো ড্রাই করবে। ড্রায়ার একটু বেশি গরম করে নেবে দরকার হলে। ব্লো ড্রাই করলে ফ্রিঞ্জে ভলিউমও বাড়বে, তার সঙ্গে দেখতেও ভাল লাগবে।

ভাগ করে নাও
অনেকসময় চুল ব্লো ড্রাই করার সুযোগ হয়তো থাকে না। তখন স্নান করে উঠে ভিজে চুল দু’ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। ভাল করে ফ্রিঞ্জের চুলগুলো কপালে পেতে আঁচড়াতে হবে, যাতে কপালের সঙ্গে লেগে থাকে। তাহলে শোকানোর সঙ্গে-সঙ্গে শেপ পেয়ে যাবে।

চিরুনি ক্যারি করবে
অনেকসময়ই সারাদিন এদিক-ওদিক ঘুরলে আমরা চুলে অত নজর দেওয়ার সময় পাই না। তখন মুখের সামনের চুলগুলো উড়ে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিশে জট পাকিয়ে বিশ্রী দেখায়। তাই ব্যাগে সবসময় চিরুনি রাখবে। দরকারমতো চুলে চিরুনি চালিয়ে সেট করে নেবে।

আলাদা করে শ্যাম্পু করো
বাকি চুলের থেকে আলাদা করে ফ্রিঞ্জেস শ্যাম্পু করতে হবে। পুরো চুলটা মাথার পিছনে একটা পনিটেল করে নিয়ে সামনের ফ্রিঞ্জেস শুধু শ্যাম্পু করে নেবে। এবার তোয়ালে দিয়ে ভাল করে সামনের চুলটা শুকিয়ে ব্লো-ড্রাই করে নিতে হবে।

নিয়মিত ট্রিম করবে
মনে রাখবে ফ্রিঞ্জেস অনেক তাড়াতাড়ি লম্বায় বাড়ে। তাই মাসে অন্তত দু’বার ট্রিম করার চেষ্টা করবে। অনেক বিউটি পার্লারে নিজেরাই প্রথম কয়েকটা ট্রিম এমনিই করে দেয়। আবার নিজে বাড়িতেও ট্রিম করে নিতে পারো। তবে সেক্ষেত্রে প্রপার চুল কাটার কাঁচিই ব্যবহার করতে হবে। যে-কোনও কাচি দিয়ে কাটতে গেলে কিন্তু ফ্রিঞ্জের শেপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চুলের ফ্রিঞ্জ নিয়ে অনেক জ্ঞান দিয়ে ফেললাম। এবার বস, আমারই ফ্রিঞ্জ কাটতে ইচ্ছে করছে। তোমরাও কাচি হাতে দাঁড়িয়ে পড়ো আয়নার সামনে বা চলে যাও কাছের কোনও বিউটি পার্লারে।

Celeb Suggestion

ত্বকের যত্ন নিতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে জল খান। মুখে নিয়মতি ফেসওয়াশ ছাড়া আর কোনও বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার করেন না। মাঝে-মাঝে বরফের প্যাক লাগান মুখে। মুলতানি মাটিও খুব প্রিয় আলিয়ার। এ ছাড়া চুলের যত্ন নিয়ে দু’-তিনদিন অন্তর শ্যাম্পু করেন। স্টেটনিং, পার্মিং ইত্যাদি কোনও হেয়ারস্টাইল যথাসম্ভব কম করার চেষ্টা করেন।