UnishKuri
Web-entertainment.jpg
নখে গয়না পরতে চাও?

একদম নতুন নেল আর্ট নিয়ে হাজির এবারের বিউটি…

নখের শেপ যেমনই হোক না কেন, নেলপালিশ আর নখের গয়না দিয়ে নখের ভোল পালটে দেওয়া যায় নিমেষে। নতুন-নতুন নেল আর্টের খোঁজ নিয়ে এসে নখের স্টাইলিং করলেন নবনীতা দত্ত

আজকাল জামাকাপড়, জুতোর ফ্যাশনের সঙ্গে-সঙ্গে প্রতি বছর পালটে যাচ্ছে নখের ফ্যাশন। নখের কাট, নেল জেলিং, নেল আর্ট এসব তো অনেক আগে থেকেই আমরা করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি নখের ফ্যাশন দুনিয়ায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। কী সেই পরিবর্তনগুলো? নিশ্চয়ই তোমাদের জানতে ইচ্ছে করছে। চলো একে-একে জেনে নিই…

নেল শেপ
প্রথমেই আসি নখের আকারের প্রসঙ্গে। নখের আকার যদি সুন্দর হয়, তাহলে সব নেলপলিশই নখে মানাবে ভাল। কিন্তু সুন্দর নখ মানে কেমন শেপের নখ? আগে আমরা সুন্দর নখ বলতে লম্বা, সরু, ডিম্বাকার নখকে বুঝতাম। কিন্তু এখন বড়়-বড় ফ্যাশনিস্তাদের কথায় ছোট, ভোঁতা নখই নাকি ইন। আর নখ যদি লম্বা হয়, তাহলে এমনভাবে নেলপলিশ লাগাতে হবে বা নেল আর্ট করতে হবে, যাতে নখটা ভোঁতা দেখায়। ধরো, নখের অর্ধাংশে নেলপলিশ লাগালে আর বাকিটা ফাঁকা রেখে দিলে। তাহলে বেশ একটা ছোটখাটো নখের লুক পাওয়া যাবে।

নেল আর্ট
এবার আসি নখের সাজসজ্জায়। নখে কীভাবে নেলপলিশ লাগাবে, সেটা এবার দেখে নেব। এই বছর ফ্যাশনে কেমন ধরনের নখের ডিজ়াইন ইন সেটা দেখতে হবে তো!

লেটারিং: এ, বি, সি, ডি ইত্যাদি অ্যালফাবেট নেলপলিশ দিয়ে হাতের দশটা নখে লিখে নিতে পার। আবার ছোট-ছোট করে এক-একটা নখেই একাধিক লেটার লিখতে পার। পাঁচ শব্দের একটা বাক্যও লিখে ফেলতে পার নিজের হাতের পাঁচটা নখে। জামাকাপড়ের প্রিন্টে লেটারিং তো অনেক দিন ধরেই চলছে, এবার নখেও লেটারিং ট্রাই করা যাক।

স্পট ডিজ়াইন:
পুরো নখে নেলপালিশ লাগাবে না। তার চেয়ে বেছে নাও কয়েকটা মিষ্টি শেপ, যেমন হার্ট শেপ, ববি প্রিন্ট, স্কোয়ার, ডায়মন্ড ইত্যাদি। এবার যে-কোনও একটা রংয়ের নেলপালিশ দিয়ে নখে এই শেপগুলো তৈরি করে নাও। ভীষণ ট্রেন্ডি আর টিন টাচ আছে এই নেল আর্টে।

ম্যাপিং: টোপোশিট দেখেছ? ভূগোলের ছাত্রী হলে খুব সহজে বুঝবে। নাহলে ছোটবেলায় দেখা ম্যাপের কথা মনে আছে তো? যেই ম্যাপে থাকত রাস্তা, নদী, তার পাশে বসতির ছবি। সেরকমই ম্যাপের একটা অংশ এঁকে নাও নিজের নখে। বেশ ইউনিক ডিজ়াইন হবে আবার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে নস্ট্যালজিক লাগবে।

হাফ পেন্ট:
পুরো নখে নেলপালিশ না লাগিয়ে নখের অর্ধেক অংশে নেলপালিশ লাগাও। আবার পুরো নখটাকে ভার্টিকালি দু’ভাগে ভাগ করে যে-কোনও একটা ভাগে নেলপলিশ লাগাতে পার।

ফ্লিপ সাইড:
নখের সামনের দিকে তো সকলেই নেলপলিশ লাগায়। কিন্তু হাত উলটে চেটোর দিকে তাকাও, নখের ভিতরের অংশের কী অনাদর! কোনও দিন ওকে তো সাজাইনি। এক কাজ করো, নখের সামনের দিকে নেলপলিশ না লাগিয়ে নেল জেল লাগিয়ে নাও আর ভিতরের দিকে নেলপলিশ লাগাও। এতে নখের সামনের দিকে একটা নেলকালারের আভা ফুটে উঠবে, যেটা বেশ স্টাইলিশ দেখাবে।

ব্লক প্রিন্ট:
নখের কোনও একটা অংশে স্কোয়ার শেপে নেলপলিশ লাগিয়ে নিতে পার। আবার পুরো নখটা চারভাগে ভাগ করে চারটে ভাগে চারটে ভিন্ন রং লাগিয়ে নাও, পুরো ব্লক প্রিন্ট পেয়ে যাবে তোমার নখে।

লোডশেডিং প্রিন্ট: একই রংয়ের পাঁচটা শেড কিনতে হবে। যেমন ধরো ডার্ক পার্পল, পার্পল, ডার্ক পিঙ্ক, হালকা গোলাপি, বেবি পিঙ্ক নেলপলিশ নিতে হবে। এবার বুড়ো আঙুলে, তর্জনী, মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্ঠা অর্থাৎ কড়ে আঙুলে যথাক্রমে গাঢ় বেগুনি, বেগুনি, গাঢ় পিঙ্ক, হালকা গোলাপি, বেবি পিঙ্ক রং লাগিয়ে নিতে হবে। রংটা শুকিয়ে গেলে দারুণ এফেক্ট আসবে, একেই বলে লোডশেডিং প্রিন্ট

রিউবিক কিউব্স:
রিউবিক কিউব্স দেখেছ তো? একটা ব্লকে বিভিন্ন রংয়ের ব্লক থাকে, ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে যে-কোনও একটা রংয়ের ব্লকগুলোকে একদিকে আনতে হয়। নিজের নখে এইরকম রিউবিক কিউবের ব্লক এঁকে নাও নেলপালিশ দিয়ে।

ক্রাউনিং: নখটা ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখবে। চামড়ার উপরের অংশে কিছুটা নখ থাকে আর নখের বাকি অংশটা চামড়ার থেকে এগিয়ে বেরিয়ে থাকে। এই যেটুকু অংশ লম্বা হয়ে আঙুলের মাথার দিকে বেরিয়ে থাকে শুধু সেই অংশটায় নেলপলিশ লাগাবে। এই স্টাইলটাকে বলে ক্রাউনিং।

এই গেল নতুন-নতুন ধরনের নেল আর্ট। ঝটপট এগুলো ট্রাই করে ফেলতে পার নিজেদের নখে। এছাড়াও নখ নিয়ে আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এবার সেদিকেই চোখ রাখব,

নখের গয়না
গলায়, কানে, হাতে, আঙুলে পর্যন্ত আমরা গয়না পরি আর নখের বেলায় কি জ়িরো? তাই কখনও হয়! তাই এবার নখের গয়না ট্রাই করতে পারি আমরা। নখের গয়নারও অনেক ভাগ হয়। সেটা জেনে নিলে কেমন হয়,

স্টিকার
নখের উপর সুন্দর সোনালি রংয়ের কলকা করা স্টিকার কিনতে পাওয়া যায়। যে-কোনও রংয়ের নেলপলিশের কোট লাগিয়ে তার উপর মানানসই এই গোল্ডেন, সিলভার বা কপার রংয়ের স্টিকার লাগিয়ে নিলেই হল।

নেল রিং
আঙুলে যেমন আমরা আংটি পরি, সেরকম নখেরও আংটি কিনতে পাওয়া যায়। আঙুলে আংটি না পরে কয়েকদিন নখে আংটি পরে দেখোই না কেমন লাগে!

নেল স্টাড
কানে যেমন আমরা স্টাড দুল পরি, সেরকমই ক্রশ, লাভ, ইত্যাদি বিভিন্ন সিম্বলের স্টাড পাওয়া যায় নখে পরার জন্য। এই স্টাডগুলো কিনে নখে লাগিয়ে নিলেই হল।

নেল পিয়ার্সিং
কানে, নাকে ইত্যাদি শরীরের বিভিন্ন অংশে যেমন আমরা পিয়ার্সিং করে দুল পরতে পারি, সেরকমই নখেও ফুটো করে দুল পরা যায়। নখে এক বা একাধিক পিয়ার্সিং করে দুল পরতে পার।

এবার প্রশ্ন হল এই নখের গয়না কিনব কোথা থেকে? নিউ মার্কেট বা শ্যামবাজারের ফুটের দোকানে খোঁজ করলে পেয়ে যাবে। একসঙ্গে একাধিক নেল জুয়েলরি কিনতে চাইলে সবচেয়ে ভাল অপশন ই-শপিং। অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে এরকম নখের গয়নার সেট পেয়ে যাবে। দামও খুব বেশি নয়, ১৭০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন রকমের নখের গয়নার সেট পেয়ে যাবে। এই সেটে একসঙ্গে একাধিক স্টাড বা রিং থাকে। ফলে একবার কিনলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অনেকদিনই পরতে পারবে এই জুয়েলরি।

নখের কেত নিয়ে তো অনেক ইনফো পেলে। এবার তাহলে নিজের নখের দিকে তাকিয়ে ঝটপট শুরু করে দাও নখের সাজসজ্জা।

Celeb Suggestion

ত্বকের যত্ন নিতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে জল খান। মুখে নিয়মতি ফেসওয়াশ ছাড়া আর কোনও বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার করেন না। মাঝে-মাঝে বরফের প্যাক লাগান মুখে। মুলতানি মাটিও খুব প্রিয় আলিয়ার। এ ছাড়া চুলের যত্ন নিয়ে দু’-তিনদিন অন্তর শ্যাম্পু করেন। স্টেটনিং, পার্মিং ইত্যাদি কোনও হেয়ারস্টাইল যথাসম্ভব কম করার চেষ্টা করেন।