UnishKuri
Web-entertainment.jpg
ঘরে বসে কসমেটিক্স

পকেটের রেস্ত খসিয়ে পুচকে একটা লিপস্টিক কি সূঁচের চেয়েও সরু একটা কাজল কিনে লাভ কী? তার চেয়ে বাড়িতে বসে বানিয়ে নাও পছন্দসই যে-কোনও কসমেটিক। কসমেটিক তৈরির রেসিপি দিচ্ছেন নবনীতা দত্ত

পিঙ্ক লিপস্টিক, ব্ল্যাক কাজল, চকোলেট ব্লাশার… তোমার ব্র্যান্ড কী বস? দামী-দামী ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স ব্যবহার করতে-করতে পকেট পুরো ভুষুন্ডির মাঠ আর চেহারার অবস্থা ওখানকার বাসিন্দাদের মতো। হবেই তো, যত ব্র্যান্ডেড কসমেটিকই ব্যবহার করো না কেন, তাতে কেমিক্যাল্‌স কিছু থাকবেই। দীর্ঘদিন সেসব ত্বকের উপর যা তান্ডব চালায়, তাতে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা ফুড়ুত্‌। তা হলে কিমকর্তব্য? কাজ একটাই, নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করা। ইয়েস বস, ঠিকই শুনছ, নিজে বাড়িতে লিপস্টিক, কাজল, ব্লাশার বানিয়ে ব্যবহার করতে পারো। কিন্তু তার জন্য রেসিপিটা তো জানতে হবে। কিছু উপকরণ বাড়িতেই পেয়ে যাবে। আর কিছু উপকরণ একটু কষ্ট করে বাজার থেকে কিনতে হবে।

Find out দ্য ফাউন্ডেশন
মুখের ইনস্ট্যান্ট গ্লো বাড়াতে ফাউন্ডেশনের জুড়ি নেই বস। কিন্তু অনেকসময়ই কেনা ফাউন্ডেশনের কালার আমাদের স্কিনটোনের সঙ্গে ম্যাচ করে না। ফলে ত্বকে গ্লো আনতে গিয়ে সেটা ‘Go’ হয়ে যায়। বন্ধুগণ! নিজের স্কিনটোনের সঙ্গে মানানসই রংয়ের ফাউন্ডেশন নিজে হাতে বানিয়ে নিলেই তো হয়। চলো তা হলে ঝটপট বানিয়ে নিই আমার ফাউন্ডেশন।
যে দু’টো জিনিস অবশ্যই লাগবে তা হল অ্যারোরুট পাউডার বা কর্নস্টার্চ এবং তেল। তাই বলে আবার সরষের তেল নিয়ে বসে থেকো না। অলিভ, জোজোবা বা আমন্ড অয়েল নেবে।
এবার রং বাছার পালা। নিজের স্কিনটোন কেমন সেটা নিশ্চয়ই আয়নায় দেখে বুঝতে পারবে। যদি একটি শ্যমলার দিকে হয় গায়ের রং তা হলে দারচিনি আর জায়ফল গুঁড়ো নেবে। যদি হলদেটে হয় তা হলে চন্দন ডাস্ট নেবে। গায়ের রং যদি একটু লালচে বা গোলাপি হয়, তা হলে চন্দন ডাস্ট আর বিট পাউডার নেবে।
এবার প্রথমে এক চামচ কর্নস্টার্চ বা অ্যারোরুট পাউডারের মধ্যে পাঁচ ফোটা জোজোবা, আমন্ড বা অলিভ অয়েল মেশাবে। যদি দ্যাখো যে, ক্রিম তৈরি হয়ে যাচ্ছে ভাল। ক্রিমের মতো ফিনিশিং যদি না আসে, তা হলে এর মধ্যে আরও কয়েক ফোঁটা তেল মেশাবে।
এবার তোমার নিজের গায়ের কমপ্লেকশন অনুযায়ী রং বেছে নাও দারচিনি গুঁড়ো নাকি চন্দন গুঁড়ো। এবার সেটা এই তেল আর কর্নস্টার্চের মিশ্রণে মিশিয়ে দাও। তুমি যে রংটা চাইছ, সেই রংটা এসেছে কিনা বুঝতে মুখে খানিকটা লাগিয়ে পরখ করে নিতেও পারো।
ব্যস ডান! এখন শুধু গালে লাগানোর অপেক্ষা।

লিপিস্টিক লাগাবে?
সাজুগুজু করব আর লিপিস্টিক পরব না, হয় নাকি তা! ইয়াম ইয়াম করে রোজ গুচ্ছের লিপিস্টিক না খেলে আমার ডায়েটই যে বোরিং হয়ে যাবে। তাই হেলদি লিপ্সটিক বানাই চলো।
প্রথমে একটা পাত্রে এক চা চামচ শিয়া বাটার বা ম্যাঙ্গো বা আমন্ড বা অ্যাভোকাডো বাটার নিতে হবে।
এবার এতে এক চা চামচ আমন্ড তেল বা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বা জোজোবা তেল মেশাব।
এবার এই উপকরণগুলো একটা মাইক্রোওয়েভ সেফ বোলে নিয়ে তিরিশ সেকেন্ড গরম করব। মাইক্রোওয়েভের সুবিধে না থাকলে, গ্যাসে বা স্টোভে একটা স্টিলের পাত্রে জল নিয়ে গরম করবে আর তার উপর আর-একটা পাত্রে এই উপকরণগুলো নিয়ে গরম করবে। দেখবে পুরোটা গলে একটা লিকুইড তৈরি হবে।
এবার আমার লিপস্টিকের রং বাছার পালা। লাল, গোলাপি, গেরুয়া না চকোলেট কোন কালারটা আমি চাই, সেটা ঠিক করে নেব। লাল রংয়ের জন্য বিটরুট পাউডার বা বিট স্ম্যাশ্‌ড করে শুকনো, লালডে খয়েরি রংয়ের জন্য দারচিনি গুঁড়ো, চকোলেট কালারের জন্য কোকো পাউডার আর অরেঞ্জ টোন পেতে বিটরুট পাউডারের সঙ্গে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নেব।
এবার ওই হালকা গরম তরলের মধ্যে যে-কোনও একটা রং নিয়ে আস্তে-আস্তে মেশাব। যে রংটা পছন্দ সেটা এক চা চামচের এক চতুর্থাংশ নিতে হবে। দেখবে আস্তে-আস্তে বর্ণহীন তরলটা সুন্দর রং পাবে। খানিকক্ষণ রেখে দেবে। তরলটা ঠান্ডা হয়ে জমে যাবে। ব্যস, রেডি টু ইউজ়। যত ইচ্ছে লিপিস্টিক লাগাও ঠোঁটে। কোনও পাত্রে রেখেও দিতে পারো, পরে ব্যবহার করার জন্য।
লিপস্টিকের মতো একইভাবে লিপবাম বা লিপগ্লস তৈরি করতে পারো। শুধু মনে রাখবে যে, লিপবামের ক্ষেত্রে বাটারের পরিমাণ তেলের চেয়ে একটু বেশি হবে আর লিপগ্লসের ক্ষেত্রে তেলের পরিমাণ বাটারের চেয়ে বেশি হবে।

উপকারিতা
এই লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের ত্বক তার প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হার্বাল তেল থেকেই পেয়ে যাবে। আবার বিভিন্ন রঙিন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে দরকারি ভিটামিন পাবে যা ত্বককে সুস্থ রাখবে এবং লিপস্টিকে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যাল্‌স থেকে ঠোঁট রক্ষাও পাবে। লিপস্টিক ব্যবহার করতে না চাইলে শুধু তেল ও বাটারের মিশ্রণটাই ব্যবহার করতে পারো ঠোঁট নরম রাখার জন্য।

Look at my eyes
চোখে-চোখে কথা বলো নাকি? না বললে এবার শুরু করো। চোখের চাহনিই কিন্তু চুম্বকের মতো মনের মানুষটাকে কাছে টেনে আনে। তাই এবার চোখে রং মেখে চোখদু’টো করে তুলতে হবে আরও আকর্ষক। কিন্তু সেইজন্য তো চাই রঙিন আইশ্যাডো। সেই আইশ্যাডোই যদি বাড়িতে বসে বানিয়ে ফেলা যায়!
একটা পাত্রে অ্যারোরুট পাউডার আর শিয়া বাটার নিয়ে গলিয়ে নাও। এই দু’রকম বাটারই যে-কোনও বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
এবার যে রংয়ের আইশ্যাডো চাও, সেরকম উপকরণ নিতে হবে। যেমন, চকোলেট শেডের জন্য কোকো পাউডার, হলুদ বা গেরুয়া শেডের জন্য হলুদ গুঁড়ো ও বিটরুট পাউডারের মিশ্রণ।
শিয়া বাটারের মধ্যে অল্প খানিকটা এই রঙিন পাউডার মেশাবে। কালার এলে সেটাকে রেখে দেবে। দেখবে আইশ্যাডো কেকের মতো জমে যাবে, এবার ব্যবহার করো যখন ইচ্ছে।
পাউডার আই শ্যাডো পেতে চাইলে, বিটরুট, হলুদ, দারচিনি বা জায়ফল গুঁড়ো করে মিশিয়ে নিতে হবে গায়ে মাখার পাউডারের সঙ্গে। তবে মনে রাখবে যে, পাউডার আই শ্যাডো কিন্তু বেশিক্ষণ স্টে করে না। তাই কিছুক্ষণ বাদে-বাদে এই আইশ্যাডো লাগাতে হবে।
এবার বিভিন্ন রংয়ের আইশ্যাডো বানানোর উপকরণগুলো জেনে নাও

হালকা গোলাপি রংয়ের আইশ্যাডো
আধ চামচ অ্যারোরুট পাউডার
আধ চামচ শুকনো বিট পাউডার
এক চিমটে কোকো পাউডার
আধ চামচ শিয়া বাটার

মভ আইশ্যাডো
আধ চামচ অ্যারোরুট পাউডার
তিন চতুর্থাংশ বিট পাউডার
এক চতুর্থাংশ কোকো পাউডার
আধ চামচ শিয়া বাটার

হালকা খয়েরি আইশ্যাডো
আধ চামচ অ্যারোরুট পাউডার
তিন চতুর্থাংশ কোকো পাউডার
আধ চামচ শিয়া বাটার

গোল্ডেন ব্রাউন আইশ্যাডো
আধ চামচ অ্যারোরুট পাউডার
তিন চতুর্থাংশ জায়ফল পাউডার
আধ চামচ হলুদ গুঁড়ো
আধচামচ শিয়া বাটার

বাজারের বা বাড়িতে যদি অ্যারোরুট পাউডার না পাওয়া যায়, তা হলে তার বদলে কর্নস্টার্চ বা কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করতে পারো। তবে অ্যারোরুট পাউডারের কোয়ালিটি, শাইন কর্নফ্লাওয়ারের চেয়ে বেশি হয়।
শুকনো বিট পাউডার বানানোর জন্য প্রথমে একটা বিট নিয়ে ভাল করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। এবার বিটটা টুকরো-টুকরো করে রোদে দিয়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা রেখে ভাল করে শুকিয়ে নিতে হবে। এবার সেই টুকরোগুলো মিক্সারে ভাল করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এই গুড়োটাও আবার খানিকক্ষণ রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। ব্যস, বিট পাউডার রেডি। কী এবার আর আইশ্যাডো তৈরি করতে অসুবিধে নেই তো!

কাজল ও আইলাইনার
কাজলটা তো আবার বেশ কিছুদিন ধরেই ইন ফ্যাশন। তাই বাড়িতে ঘিয়ের প্রদীপে বা তেলের প্রদীপে কাজললতায় কাজল পেতে নিতে পারো। বাড়ির বড়রা প্রায় সকলেই জানে কী করে কাজল পাততে হয়। তাদের একটু সাহায্য নিলেই কেল্লাফতে। তবে মোমবাতির কাজল চোখে লাগাবে না, মোমের ওয়াক্স চোখের ক্ষতি করে।
তবে এমনি কাজলে মন থুড়ি চোখ না ভরলে আইলাইনার ব্যবহার করতে পারো। তবে আইলাইনার বানাতে গেলেও কয়েকটা জিনিস দরকার, হাতের কাছে। প্রথমে দু’ চা চামচ নারকেল তেল নিয়ে তার সঙ্গে চার চামচ অ্যালো ভেরা জেল মেশাবে। এবার এর মধ্যে খানিকটা চারকোল ও আধ চামচ কোকো পাউডার নিয়ে মেশাতে হবে। এই মিশ্রণটা কিন্তু এয়ারটাইট পাত্রে রাখতে হবে। সরু ব্রাশ বা তুলি ব্যবহার করতে পারো আইলাইনার লাগানোর জন্য। যদি লাল, নীল, সবুজ ইত্যাদি রঙিন আইলাইনার চাও, সেক্ষেত্রে অন্যানো রং মেশাতে পারো। যেমন ধরো তেল ও অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে বিট পাউডার বা হলুদ গুঁড়ো ও জায়ফল গুঁড়ো মিশিয়ে যথাক্রমে লাল, গেরুয়া ও সোনালি খয়েরি রংয়ের আই লাইনার পেতে পারো।
লিকুইড আইলাইনার তো না হয় বানালে, যদি ইচ্ছে করে ক্রিম আইলাইনার লাগাতে, তা হলে যে-কোনও পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারো। ঠোঁটে লাগানোর জন্য আমরা যেসব পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করি, তার সঙ্গে যে-কোনও রংয়ের আইশ্যাডো মিশিয়ে নিলেই পেয়ে যাবে তোমার পছন্দসই রংয়ের ক্রিম আইলাইনার। একটু ম্যাট, সফ্ট লুক পেতে ক্রিম আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারেই।

টুকরো টিপ্‌স
পাউডার হিসেবে শুধু কেওলিন ক্লে ব্যবহার করতে পারো। এতে মুখের ত্বকে শাইন তো আসবেই, তার সঙ্গে কমপ্লেকশন অনেক ফেয়ার দেখাবে। ব্লাশার বানাতে চাইলে আইশ্যাডোর মতো করেই বানিয়ে নিতে পারো। তবে ব্লাশার অ্যাপ্লাই করার সময় ভাল ব্রাশ দিয়ে অ্যাপ্লাই করবে, তা হলে এফেক্ট ভাল আসে। যে-সব কসমেটিক বাড়িতে বানাবে, সেগুলো কোনও ঠান্ডা জায়গায় বা ফ্রিজে রাখবে। এতে দীর্ঘদিন এই কসমেটিক ভাল থাকবে। কসমেটিক বানানোর সময় যাতে তার মধ্যে জল না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখবে।

Celeb Suggestion

ত্বকের যত্ন নিতে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে জল খান। মুখে নিয়মতি ফেসওয়াশ ছাড়া আর কোনও বিউটি প্রডাক্ট ব্যবহার করেন না। মাঝে-মাঝে বরফের প্যাক লাগান মুখে। মুলতানি মাটিও খুব প্রিয় আলিয়ার। এ ছাড়া চুলের যত্ন নিয়ে দু’-তিনদিন অন্তর শ্যাম্পু করেন। স্টেটনিং, পার্মিং ইত্যাদি কোনও হেয়ারস্টাইল যথাসম্ভব কম করার চেষ্টা করেন।