UnishKuri
Web1.jpg
ছেলে ও মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের কনট্রাসেপটিভ

যখন প্রেগন্যান্সি এলে সেটা কনটিনিউ করতে পারব না, এরকম আশঙ্কা রয়েছে, তখন অবশ্যই কনট্রাসেপটিভ ব্যবহার করা উচিত। কনট্রাসেপটিভ ছেলেদেরও হতে পারে, মেয়েদেরও হতে পারে। প্রথমে আসি ছেলেদের কনট্রাসেপটিভের ব্যাপারে। এক্ষেত্রে একটাই মেথড, কন্ডোম। ছেলেদের জন্য সাজেশন, শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে অবশ্যই কন্ডোম ব্যবহার করতে হবে। কন্ডোম শুধু আনওয়ান্টেড প্রেগন্যান্সিকেই প্রতিরোধ করে না, তা সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজ়িজ় (STD) যেমন, সিফিলিস, গনোরিয়া এইচআইভি এইডসকেও প্রতিরোধ করে। যেখানে পার্টনারের সঙ্গে রিলেশন যথেষ্ট শক্তপোক্ত নয়, সে ক্ষেত্রে মেয়েটি পিল খেলেও পার্টনারে কন্ডোম ব্যবহার করা উচিত। এবং এক্ষেত্রে ছেলেদেরই বেশি করে দায়িত্ব নিতে হবে।

মেয়েদের ক্ষেত্রে কনট্রাসেপটিভ ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ এবং সেফ অপশন হচ্ছে, বার্থ কন্ট্রোল পিল। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে একটা সেফ প্যাটার্নে পিল খাওয়া শুরু ও শেষ করতে হবে। এর খুব সাধারণ সাইড এফেক্ট যেটা তা হল, গা বমি ও মাথা ঘোরা। অল্প কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা এতটাই বেশি হয় যে, মেয়েটির পক্ষে আর পিল খাওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু কার ক্ষেত্রে এই সমস্যা হবে, কার হবে না, সেটা কেউ যতক্ষণ না পিল খাচ্ছে, তার আগে অবধি বোঝা যায় না। মেয়েটির বডি স্ট্রাকচার, মেডিক্যাল হিস্ট্রি কোনও কিছুর সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে সেই ড্রাগটির প্রতি তার রিঅ্যাকশন। কনট্রাসেপটিভ পিল খেলে ওজন বাড়ে, এ ধরনের একটা ভুল ধারণা অনেকের মনেই রয়েছে। কিন্তু আজকাল পিলে যে পরিমাণ হরমোন ব্যবহার করা হয়, তাতে এ ধরনের আশঙ্কা থাকে না। তাই যারা মোটা হয়, সেটা খাওয়াদাওয়ার গন্ডগোল, এক্সারসাইজ় না করা বা অন্য কোনও কারণে, পিলের কারণে নয়। এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা জানিয়ে রাখি, ইর্মাজেন্সি কনট্রাসেপটিভ পিল কিন্তু শুধু ইমার্জেন্সিতেই ব্যবহার করার জন্য। হসপিটাল, অ্যাম্বুলেন্স আছে বলেই আমরা যেমন হুটহাট ইর্মাজেন্সি সিচুয়েশন তৈরি করি না, তেমনই ইর্মাজেন্সি পিল রোজ ব্যবহারের জন্য নয়। রেগুলার প্রিকশন হিসেবে বার্থ কন্ট্রোল পিল ব্যবহার করতে হবে। এর পরেও যদি কোনও ইর্মাজেন্সি হয়, যেমন কন্ডোম ফেটে যাওয়া অথবা কেউ হয়তো রেগুলার পিল খায়, দু’দিনের জন্য কোথাও যেতে হয়েছে, সেখানে ঘটনাচক্রে ইন্টারকোর্স হয়ে গিয়েছে এবং সঙ্গে পিল নেই, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের ইর্মাজেন্সি পিল ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনও বার্থ কন্ট্রোল পিল ব্যবহার করব না, ইন্টারকোর্স হলে ইর্মাজেন্সি পিল খেয়ে নেব, এটা ভেবে থাকলে কিন্তু বিরাট ভুল। কারণ, ইমার্জেন্সি পিল হান্ড্রেড পারসেন্ট কার্যকরী নয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খেলেও নয়। যদিও বলা হয়, ইন্টারকোর্স করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিল খেলে কাজ হয়, কিন্তু যত সময় যেতে থাকে, এর কার্যকারিতা কমতে থাকে।

মেয়েদের কনট্রাসেপশনের আর একটা উপায় হচ্ছে কপার টি পরা। তবে এই কনট্রাসেপটিভ ডাক্তারেরা সাধারণত একটা বাচ্চা না হলে, ব্যবহার না করার কথাই বলেন, বিশেষত, টিনএজে তো নয়ই। কপার টি হল একটা ছোট প্লাস্টিকের জিনিস, যাতে একটা কপার ওয়্যার জড়ানো থাকে, যেটা ইউটেরাসের ভিতর পরিয়ে দেওয়া হয়। এর কোনও অনুভূতি থাকে না, এতে নর্মাল পিরিয়ডিক্যাল সাইকেলে কোনও অসুবিধা হয় না। যেহেতু এটা ইউটেরাসের মধ্যেকার গর্তের ভিতরে পরানো হয়, তাই এটি প্রেগন্যান্সিকে আটকাতে সাহায্য করে। ইন্টারকোর্স হলে স্পার্ম ভ্যাজাইনার ভিতরে প্রবেশ করে, ওভারি থেকে যে ডিম বেরোয়, তার সঙ্গে মিট করে, যাকে বলা হয় ফার্টিলাইজ়েশন। কিন্তু কপার টি থাকার ফলে ফার্টলাইজ়ড এগ ইউটেরাসের ভিতরে ঢুকতে পারে না, বেরিয়ে চলে যায়। এভাবে এটি প্রেগন্যান্সিকে প্রতিরোধ করে। কিন্তু যেহেতু একটা বাইরের জিনিস এরকম সেনসেটিভ জায়গায় পরানো হচ্ছে, তার ফলে কখনও-কখনও ইনফেকশনও হয়ে থাকে। তবে এই কপার টি কিন্তু নিজে পরা খুবই বিপজ্জনক। অবশ্যই কোনও গাইনিকলজিস্ট বা এ কাজে ট্রেনড ডাক্তারের কাছ থেকে পরতে হবে। তবে আবারও বলি, টিনএজে প্রেগন্যান্সি এলে, নিরানব্বই শতাংশ কেসে তা আনওয়ান্টেড। এবং প্রেগন্যান্সি নষ্ট করাটা কিন্তু অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অ্যাবরশন যদি সঠিক জায়গায়, ট্রেন্ড ডাক্তার দ্বারা না হয়, তা হলে লাইফ রিস্কের আশঙ্কাও থাকে। সেই তুলনায় কনট্রাসেপটিভ ব্যবহার করাটা অনেক বেশি সেফ।

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.



আমার বয়স ১৮। সপ্তাহে দু’-তিনবার মাস্টারবেশন করি। ওজন ৫৪কেজি। বন্ধুরা বলে, আমি নাকি অন্যদের চেয়ে বেশিবার টয়লেট করি। কথাটা অবশ্য সত্যি। রাতে ঘুমনোর সময় বেশি জল খাই। ক্লাস সেভেন-এইট পর্যন্ত রাতে বিছানায় টয়লেট করে ফেলার রোগ ছিল। আমার সমস্যা হল, টয়লেট চেপে রাখতে পারি না। অনিচ্ছাকৃতভাবে দু’-চার ফোঁটা বেরিয়ে যায়। তারপর অনেকক্ষণ টয়লেট না করেও থাকা যায়। কিছুদিন আগে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিল, ঠান্ডা লেগে ঘুম ভাঙার পর উঠে দেখি বিছানায় টয়লেট করে ফেলেছি। পড়াশোনার জন্য আমার মাঝেমধ্যে খাওয়া ও ঘুমের অনিয়ম হয়। আমি কী করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাব?

রাজেশ বর্মন
মুর্শিদাবাদ

তুমি সম্ভবত BEDWETTING  বা  NOC-TURNAL ENEURESIS সমস্যায় ভুগছ। এই রোগে অনিচ্ছাকৃতভাবে টয়লেট হয়ে যায়। অনেক কারণে এই সমস্যা হতে পারে। যার মধ্যে প্রধান হল ইনফেকশন অর্থাত্‌ জীবাণু সংক্রমণ, আচরণে সমস্যা এবং মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। পড়াশোনা বা বন্ধুদের নিয়ে কোনও মানসিক চাপে আছ কি না, জানতে পারলে ভাল হত। মাস্টারবেশন তোমার বয়সে যৌন বিকাশের অঙ্গ। এ নিয়ে অযথা মাথাব্যথা করার দরকার নেই। মন থেকে ভয় তাড়াও আর পড়াশোনায় মন দাও। কোনও শখ থাকলে সেটা আরও ভাল করে করতে চেষ্টা করো। নিয়মিত ব্যায়াম বা খেলাধুলো করবে। মানসিক চাপমুক্ত থাকাটাও অনুশীলন করতে হবে। নিজেকে বিশ্বাস করতে শেখো। নিজেকে সবল ভাবা অভ্যেস করলেও মনে জোর আসে। তবে একবার ডাক্তার দেখানো এবং ইউরিন টেস্ট করাটাও জরুরি। ইনফেকশন থাকলে ওষুধ খেতে হবে। এটা কিন্তু চিকিত্‌সা করলে সেরে যায়।

আমার বয়স ২২বছর। আমার প্রেমিকার বয়স ১৮বছর। আমাদের তিন বছরের সম্পর্ক। মাসদু’য়েক হল আমরা ইন্টারকোর্স করছি। সমস্যা হল, পেনিট্রেশনের পর পেনিস ভ্যাজাইনায় দু’-পাঁচ মিনিটের বেশি আমি রাখতে পারি না। এতে আমার গার্লফ্রেন্ড স্যাটিসফায়েড হয় না। এর জন্য আমি খুব টেনশনে ভুগছি। আমাদের প্রেগন্যান্সির ব্যাপারে কোনও ধারণা নেই। কীভাবে ইন্টারকোর্স করলে প্রেগন্যান্সির ভয় থাকে না, জানালে উপকৃত হব।
আকাশ সেন
পশ্চিম মেদিনীপুর

প্রথম মিলনের উত্তেজনায় নিজেকে একটু বেশি হারিয়ে ফেলেছ আকাশ। তোমার মতো বয়সে অনেকেরই এটা হয়। পরে সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে এটা ঠিক হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা কোনও রোগ নয়। অনেকেরই প্রথমদিকে নিজেকে বেশিক্ষণ ধরে রাখার ক্ষমতা থাকে না। ইন্টারকোর্সের আগে ফোর প্লে-র জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। একটা ব্যাপারে তোমাদের সাবধান করে দিতে চাই। অবাধ যৌন সংসর্গ থেকে কিন্তু যৌন রোগ ছড়ায়। কম বয়সে যৌন রোগের সংক্রমণ এবং তার প্রতিরোধ সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকলে, যৌন রোগের শিকার হওয়ার ভয় থাকে। প্রোটেকশন ছাড়া ইন্টারকোর্স করলে যে কোনও সময়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আজকাল অনেকেই কোনও কিছু না জেনে ইর্মাজেন্সি কনট্রাসেপটিভ পিল খেয়ে নেয়, যা থেকে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে। তোমাদের যা বয়স, তাতে এখনই এ ধরনের সম্পর্কের দিকে এগোনো উচিত নয়। পড়াশোনায় মন দাও, ভাল করে কেরিয়ার তৈরি করো।