UnishKuri
Web1.jpg
আমার বয়স ১৮। সপ্তাহে দু’-তিনবার মাস্টারবেশন করি। ওজন ৫৪কেজি। বন্ধুরা বলে, আমি নাকি অন্যদের চেয়ে বেশিবার টয়লেট করি। কথাটা অবশ্য সত্যি। রাতে ঘুমনোর সময় বেশি জল খাই। ক্লাস সেভেন-এইট পর্যন্ত রাতে বিছানায় টয়লেট করে ফেলার রোগ ছিল। আমার সমস্যা হল, টয়লেট চেপে রাখতে পারি না। অনিচ্ছাকৃতভাবে দু’-চার ফোঁটা বেরিয়ে যায়। তারপর অনেকক্ষণ টয়লেট না করেও থাকা যায়। কিছুদিন আগে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিল, ঠান্ডা লেগে ঘুম ভাঙার পর উঠে দেখি বিছানায় টয়লেট করে ফেলেছি। পড়াশোনার জন্য আমার মাঝেমধ্যে খাওয়া ও ঘুমের অনিয়ম হয়। আমি কী করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাব?

রাজেশ বর্মন
মুর্শিদাবাদ

তুমি সম্ভবত BEDWETTING  বা  NOC-TURNAL ENEURESIS সমস্যায় ভুগছ। এই রোগে অনিচ্ছাকৃতভাবে টয়লেট হয়ে যায়। অনেক কারণে এই সমস্যা হতে পারে। যার মধ্যে প্রধান হল ইনফেকশন অর্থাত্‌ জীবাণু সংক্রমণ, আচরণে সমস্যা এবং মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। পড়াশোনা বা বন্ধুদের নিয়ে কোনও মানসিক চাপে আছ কি না, জানতে পারলে ভাল হত। মাস্টারবেশন তোমার বয়সে যৌন বিকাশের অঙ্গ। এ নিয়ে অযথা মাথাব্যথা করার দরকার নেই। মন থেকে ভয় তাড়াও আর পড়াশোনায় মন দাও। কোনও শখ থাকলে সেটা আরও ভাল করে করতে চেষ্টা করো। নিয়মিত ব্যায়াম বা খেলাধুলো করবে। মানসিক চাপমুক্ত থাকাটাও অনুশীলন করতে হবে। নিজেকে বিশ্বাস করতে শেখো। নিজেকে সবল ভাবা অভ্যেস করলেও মনে জোর আসে। তবে একবার ডাক্তার দেখানো এবং ইউরিন টেস্ট করাটাও জরুরি। ইনফেকশন থাকলে ওষুধ খেতে হবে। এটা কিন্তু চিকিত্‌সা করলে সেরে যায়।

আমার বয়স ২২বছর। আমার প্রেমিকার বয়স ১৮বছর। আমাদের তিন বছরের সম্পর্ক। মাসদু’য়েক হল আমরা ইন্টারকোর্স করছি। সমস্যা হল, পেনিট্রেশনের পর পেনিস ভ্যাজাইনায় দু’-পাঁচ মিনিটের বেশি আমি রাখতে পারি না। এতে আমার গার্লফ্রেন্ড স্যাটিসফায়েড হয় না। এর জন্য আমি খুব টেনশনে ভুগছি। আমাদের প্রেগন্যান্সির ব্যাপারে কোনও ধারণা নেই। কীভাবে ইন্টারকোর্স করলে প্রেগন্যান্সির ভয় থাকে না, জানালে উপকৃত হব।
আকাশ সেন
পশ্চিম মেদিনীপুর

প্রথম মিলনের উত্তেজনায় নিজেকে একটু বেশি হারিয়ে ফেলেছ আকাশ। তোমার মতো বয়সে অনেকেরই এটা হয়। পরে সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে এটা ঠিক হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা কোনও রোগ নয়। অনেকেরই প্রথমদিকে নিজেকে বেশিক্ষণ ধরে রাখার ক্ষমতা থাকে না। ইন্টারকোর্সের আগে ফোর প্লে-র জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। একটা ব্যাপারে তোমাদের সাবধান করে দিতে চাই। অবাধ যৌন সংসর্গ থেকে কিন্তু যৌন রোগ ছড়ায়। কম বয়সে যৌন রোগের সংক্রমণ এবং তার প্রতিরোধ সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকলে, যৌন রোগের শিকার হওয়ার ভয় থাকে। প্রোটেকশন ছাড়া ইন্টারকোর্স করলে যে কোনও সময়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আজকাল অনেকেই কোনও কিছু না জেনে ইর্মাজেন্সি কনট্রাসেপটিভ পিল খেয়ে নেয়, যা থেকে পরবর্তী সময়ে সমস্যা হতে পারে। তোমাদের যা বয়স, তাতে এখনই এ ধরনের সম্পর্কের দিকে এগোনো উচিত নয়। পড়াশোনায় মন দাও, ভাল করে কেরিয়ার তৈরি করো।



আমার বয়স ১৮ বছর। আমি আমার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। কী করলে আমি এস টি ডি থেকে রক্ষা পাব বা কী করলে আমার গার্লফ্রেন্ডেরও এরকম কোনও রোগ হবে না।

নাম ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

আগেই বলেছি, অবাধ শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে নানারকম যৌনরোগ ছড়ায়, তাই এব্যাপারে সাবধান থাকা উচিত। কনডোম ব্যবহার করলেও কিন্তু শতকরা ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে যৌনরোগ এড়ানো যায় না। শারীরিক মিলনের মাধ্যমে অনেক যৌনরোগই হতে পারে, এমনকী এইড্সের মতো প্রাণঘাতী রোগও হতে পারে। এমন কোনও উপায় নেই, যাতে শতকরা একশো ভাগ সুরক্ষা পাওয়া যায়। বেরিয়ার মেথড অর্থাত্‌ কনডোম ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের চান্স থাকে। তবে একটা কথা অবশ্যই বলব, বয়স তো সবে আঠেরো। এত তাড়া কীসের? অল্প বয়সে কোনও প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়াটা কিন্তু কাম্য নয়। ক্ষনিকের জন্য নিজের সারাটা জীবন বিপন্ন করাটা ঠিক হবে কিনা ভেবে দেখো। নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনও আচরণের জন্য সমস্যায় পড়লে সে দায়িত্ব নিতে পারবে তো? ১৯ ২০-এর এই শরীর মন বিভাগ তোমাদের কচি মনে ওঠা প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে, যাতে তোমরা কোনওরকম সমস্যায় না পড়ো। এই পত্রিকা কিন্তু কোনওভাবেই সেক্স ব্যাপারটা প্রোমোট করে না। তাই আমার মতে, তোমার এই প্রশ্ন ভীষণ নিন্দনীয়।

 

আমার বয়স ১৭ বছর। আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অনেকবার মিডিয়াম পেনিট্রেশনে শারীরিক মিলন করেছি। কিন্তু এখনও কোনও রক্তপাত হয়নি। তার মানে কি এখন হাইমেন ব্রেক হয়নি নাকি আমার কোনও প্রবলেম আছে? আমরা দ্রুত সেক্স করি না। হাইমেন ব্রেক না হওয়া অবধি শরীরের ভিতর বীর্যপাত করলে কি প্রেগনেন্ট হওয়ার চান্স থাকে?
নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক

যোনিদ্বারের (ভ্যাজাইনা) মুখে একটা খুব পাতলা পরদা থাকে, যা মিলনের সময় ফেটে অল্প রক্তপাত হতে পারে। একে হাইমেন বলে। অনেকে হাইমেন ফেটে যাওয়াকে কুমারিত্ব হারানোর লক্ষণ বলে মনে করেন। তবে এটা যে হবেই তার কোনও মানে নেই, কারণ বেশি এক্সারসাইজ়, সাইকেলিং বা নাচ করলেও হাইমেন ফেটে যেতে পারে। হাইমেন অভেদ্য নয়, এটা সম্পূর্ণ পরদাও নয়, মাসিক ঋতুস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার জন্য এতে ছিদ্র থাকে। তাই হাইমেন ব্রেক করার সঙ্গে প্রেগনেন্সির কোনও সম্ভাবনাই নেই। মাসিকের ১৪ দিনের মাথায় মেয়েদের ডিম্বস্খলন হয়। এই সময়ের আশেপাশে মিলন হলে গর্ভসঞ্চারের চান্স থাকে, এর সঙ্গে হাইমেন ফাটার কোনও সম্পর্ক নেই। পেনিট্রেশন মিডিয়াম বা ফুল হল কিনা, তাতেও খুব একটা যায় আসে না, বীর্য যদি ইউটেরাস বা জরায়ুর মধ্যে যায়, তা হলেই প্রেগনেন্ট হওয়ার চান্স থাকে। তবে এই বয়সে শারীরিক মিলন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে পড়াশুনো করে নিজের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে হবে। মনে রেখো, অবাধ শারীরিক মিলনের মাধ্যমে কিন্তু বিভিন্ন যৌনরোগ (এমনকী এইড্স) ছড়ায়, তাই এই ব্যাপারে সাবধান থাকা উচিত।