On Stands 19 May ’13
অনেক দিন পর আবার ইশা গুপ্তাকে আমরা র্যাম্পে দেখলাম, ‘উইলস লাইফস্টাইল ইন্ডিয়া ফ্যাশন উইক’-এ ডিজ়াইনার মনীশ মলহোত্রার শো-স্টপার হিসেবে?
আমি শেষ র্যাম্পে হেঁটেছিলাম গত বছরের শুরুতে ঋতু কুমারের একটি শোয়ে। এর পর প্রায় এক বছর নানা কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম যে, শো করার সময়ই পাইনি। এখন হাতে একটু সময় ছিল আর মনীশ মলহোত্রা আমার অন্যতম প্রিয় ফ্যাশন ডিজ়াইনার। মনীশ একবার বলাতেই তাই আমি রাজি হয়ে যাই। ‘উইলস লাইফস্টাইল ইন্ডিয়া ফ্যাশন উইক’-এর র্যাম্পে মনীশের ডিজ়াইনার শাড়িতে সত্যিই খুব এনজয় করলাম। মনীশ আমার জন্য এত সুন্দর একটা লাইট, ফ্যাশনেব্ল অথচ ফেমিনিন লুক তৈরি করেছিলেন যে, আয়নায় নিজেকে দেখেই অবাক লাগছিল।
কিছুদিন আগে তো তুমি একটা আইটেম সং করলে…
পুনীত মলহোত্রার পরিচালনা ও করণ জোহরের প্রযোজনায় ‘গোরি তেরি পেয়ার মে’ ছবিতে একটি আইটেম সং করলাম। রেমো ডি সুজা কোরিওগ্রাফি করেছেন। ছবিতে ইমরান খান ও করিনা কপূর খান রয়েছেন। এই ধরনের কাজ আগে করিনি বলে এটাও বেশ এনজয় করেছিলাম।
নতুন কোনও ছবি সাইন করোনি?
একটা ছবির কথাবার্তা চলছে। কিন্তু পুরোপুরি ফাইনাল হয়নি বলে ওই বিষয়ে আপাতত কিছু বলতে চাই না।
মিস ইন্ডিয়া খেতাব জেতা, তারপর মডেলিং এবং এখন অভিনয়। এই জার্নিটা কীভাবে এনজয় করছ?
এটা আমার কছে খুবই সুন্দর জার্নি। মডেলিং থেকেও অভিনয়টাকে বেশি এনজয় করছি। অনেক নতুন কিছু শিখছি, নতুন-নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটা আমার জীবনে খুবই ভাল অভিজ্ঞতা।
এটা খুবই প্রচলিত, যাদের লেখাপড়া হয় না, তারা মডেলিং করে। তুমি তো এর ব্যতিক্রম। এ ব্যাপারে তোমার কী মত?
আমি নিজে লেখাপড়া ছেড়ে মডেলিং শুরু করি, কারণ আমি জানতাম এখানে আমি সফল হবই। আর সফল হওয়াটাই আসল কথা, সেটা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হোক বা মডেলিং। আমার মনে হয়, কেবল সখের জন্য নয়, নিজের মধ্যে যদি সত্যিই মডেলিং করার জেদ থাকে, তা হলেই একে বেছে নেওয়া দরকার। মডেলিং কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের কাজ। নিজের প্রতি বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কিন্তু মডেলিংয়ে টিঁকে থাকা সম্ভব নয়।
সাক্ষাত্কার: ঈপ্সিতা বসু

পরপর এরকম ভৌতিক, থ্রিলার মুভিতে কাজ করার কোনও কারণ?
এটা ঠিক প্ল্যান্ড নয়, হয়ে গিয়েছে। সুপারন্যাচারাল জিনিস আমার কাছে বেশি অ্যাপিল করে। তা ছাড়া ‘রাজ থ্রি’ বা ‘আত্মা’ এই দু’টো ছবির স্টোরিলাইন খুব ভাল ছিল। আমি আমার কেরিয়ারে কখনও কিছু প্ল্যান করে করিনি, এমনকী নায়িকাও হয়েছি বাই চান্স। তবে হঁ্যা, আমি খুশি যে, এই ধরনের ছবিতে দর্শক আমাকে গ্রহণ করছে। আমারও নিজেকে অ্যাজ় অ্যান অ্যাক্টর এখন অনেক স্ট্রং মনে হয়। আমি রোজ এত ভূতের সিনেমার অফার পাই যে, মনে হয় যেন আমি ভূত স্পেশ্যালিস্ট হয়ে গিয়েছি।
ফিল্মকে ‘না’ বলতে কষ্ট হয়?
নট রিয়্যালি। আমার বলতে খারাপ লাগছে যে, হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে মেয়েদের জন্য ভাল রোল কোথায়? একমাত্র বিদ্যা বালন ছাড়া সমসাময়িক সব হিরোইনদেরই একই অবস্থা। হয়তো একশো কোটি সিনেমা করছেন, কিন্তু কোনও রোল ভাল নয়। আমার মনে হয়, আমরা সকলেই খুব ট্যালেন্টেড। গত বারো বছর ধরে আমি অনেক রকম রোলে অভিনয় করেছি আর আত্মাতেও নিজের চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। হলিউডে চল্লিশোর্ধ্ব হিরোইনদের ট্যালেন্টেড অ্যাক্টর বলা হয়, আর এখানে তো ম্যারেড হলেই ছবি আসা কমে যায়। আমি যখন প্রথম মুম্বইতে আসি, তখন তো আমাকে আমার বয়ফ্রেন্ডের কথা বলতেও বারণ করা হয়েছিল।
মায়ের রোলে অভিনয় করে কেমন লাগল?
এই চরিত্রে অভিনয় করে একটা জিনিস বুঝলাম যে, আমি ভবিষ্যতে খুব ভাল মা হতে পারব। এই ফিল্মে আমি অনেক ইনভল্ভ হয়ে গিয়েছিলাম। বিশেষ করে, আমাদের পুরো টিমকেই অনেক ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। কারণ হরর ফিল্ম বলে রাতে শুট করতে হত। আর মেয়েটি তো বাচ্চা, রাতে ঘুমিয়ে পড়ত। তাই নানাভাবে ওকে জাগিয়ে রাখতে হত। মেয়েটির সঙ্গে আমি খুব অ্যাটাচ্ড হয়ে গিয়েছিলাম। সিনেমাটা করতে গিয়ে একটা জিনিস বুঝতে পারি যে, মা হওয়াটা যে-কোনও মেয়ের জন্য বেস্ট অভিজ্ঞতা। এই ফিল্মটা শুধু হরর ফিল্ম নয়, বরং সোশ্যাল ফিল্মও বটে। এতে খুব সুন্দর মেসেজ দেওয়া হয়েছে। অ্যাবিউসিভ রিলেশন বেশিদিন বয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। যে সম্পর্কে ভালবাসা থাকে না, সেটা শেষ করে ফেলা ভাল।
নওয়াজউদ্দিনের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?
হি ইজ় আ মেথড অ্যাক্টর আর আমি জীবনে কোনওদিন অ্যাক্টিং স্কুলে যাইনি। আমরা দু’জনে একসঙ্গে রিহার্স করতাম। যখন ‘কহানি’ দেখি তখন আমার ‘খান’-এর ক্যারেক্টারটা সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছিল। তখন সক্কলকে জিজ্ঞেস করতাম, ওই চরিত্রটা কে করেছে? পরে যখন আত্মা ছবির ডিরেক্টর আমাকে বললেন যে তিনি নওয়াজের কথা ভাবছেন, তখন আমি বললাম যে, ভাবতে হবে না, ওকে নিয়ে নাও। নওয়াজ়উদ্দিন ইজ় আ সুপার্ব অ্যাক্টর।
আইটেম সং কি সমাজের উপর কোনও নেগেটিভ এফেক্টে ফ্যালে?
এই কথাটা শুনলেই আমার মনে হয় কোন যুগে বসে আছি আমরা! একটা সমাজকে কি কোনও আইটেম সং পালটে দিতে পারে? সেই ষাট, সত্তরের দশক থেকে এটা চলে আসছে। তখন ক্যাবারে ডান্স হত, সেটাও লোকে এনজয় করত। একটা সিনেমা কি সমাজকে চেঞ্জ করতে পারে? আমরা, মানুষরা সমাজ বানিয়েছি, সুতরাং আমাদের চেঞ্জ হতে হবে।
যখন মুম্বইতে এসেছিলে, তখন নাকি তুমি ব্যাগে হাতুড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে !
হ্যাঁ! সেল্ফডিফেন্সের জন্য, কারণ তখন তো আমি এতটা স্ট্রং ছিলাম না। আর এখন চারিদিকে যা চলছে, আমার মনে হয় সব মেয়েদেরই সেল্ফডিফেন্স সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। আমার বলতে খুব খারাপ লাগছে যে, আমি আগে চাইতাম যে, আমার বাচ্চা হলে যেন, সেটা মেয়ে হয়। কিন্তু এখন চারপাশের পরিস্থিতি দেখে মন হয়, আমারও যেন ছেলে হয়। তা হলে ওকে অন্তত এগুলো ফেস করতে হবে না।
ফিউচার প্ল্যান্স…
অনেককিছু… আমার ফিটনেস ডিভিডির থার্ড পার্ট রিলিজ় হবে কিছুদিনের মধ্যেই। আমার কাছে ফিটনেস আর হেল্থ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আই হোপ আমি ভবিষ্যতে এই দেশের হেল্থ মিনিস্টার হতে পারব। কিন্তু আফসোস আমি গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করিনি, তাই হতে পারব না।
শ্রাবন্তী চক্রবর্তী
……………………………………………………
এবার মুম্বইয়ে ‘ল্যাকমে ফ্যাশন উইক’-এর জন্য তোমার কী প্ল্যান? কী কালেকশন দেখাচ্ছ?
স্প্রিং সামার কালেকশনের কথা মাথায় রেখে আমি বিহারের মিথিলা অঞ্চলের মধুবনী আর্টের উপর কাজ করেছি। কালেকশনের নামও দিয়েছি ‘মিস্টিক মধুবন’। মধুবনী থেকে এই শিল্পীদের এনে ফ্যাব্রিকের উপর হাতে আঁকানো হচ্ছে। আউটফিটের মধ্যে শাড়ি থেকে শুরু করে পালাজ়ো প্যান্টস, ট্রাউজ়ার, জ্যাকেট, শর্ট স্কার্ট, ফ্লেয়ার্ড স্কার্ট, আনারকলি কাটের গাউন, জাম্পসুট…অনেক ভ্যারাইটি-ই রয়েছে।
পোশাকের জন্য কী ধরনের ফ্যাব্রিক ব্যবহার করেছ?
কাপড়ের মধ্যে মটকা, হ্যান্ডলুম, কটন, জর্জেট, তসর, লিনেন ব্যবহার করেছি। আর জ্যাকেটের জন্য হেভি মটকা।
এলএফডব্লিউ মানেই তো তারকার ছড়াছড়ি, তোমার শো-এ শো স্টপার কেউ থাকছে?
এখনও আসলে কিছু ঠিক হয়নি। বিনয় পাঠকের সঙ্গে কথা চলছে, ও তো পটনার লোক, তাই। ও ছাড়াও, আমার থিমের সঙ্গে মিল রেখে আরও দু’-তিনজন সেলেব্রিটির সঙ্গে কথা চলছে।
কলকাতার ফ্যাশন সেন্স সম্পর্কে ডিজ়াইনার অগ্নিমিত্রা পলের কী মত?
এখানকার মেয়েরা আর পাঁচটা মেট্রোপলিটন সিটির মতোই ফ্যাশন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। কিন্তু ছেলেরা এখনও লং ওয়ে টু গো। তারা শার্ট আর প্যান্টসের বাইরে কিছু ভাবতে পারে না।
তোমার চোখে কলকাতার সবচেয়ে স্টাইলিশ পুরুষ ও নারী…
অপর্ণা সেন আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সুচিত্রা সেনেরও ফ্যাশন সেন্স অসাধারণ ছিল। সে সময়ে তাঁর চেয়ে বেশি স্টাইলিশ কেউ ছিল না। আমার অবশ্য প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের ফ্যাশন সেন্সও খুব ভাল লাগে।
এই মুহূর্তে টলিউডের সবচেয়ে হেভিওয়েট দেব ও জিতের জন্য নতুন লুক সাজেস্ট করতে বলা হলে, তুমি কী পরামর্শ দেবে?
দেব এবং জিতের জন্য প্রচুর পোশাক বানিয়েছি। আমার যেটা মনে হয়েছে, ওয়েল টোনড বডির কারণে ওদের বডি হাগিং টি-শার্ট, জ্যাকেট পরার প্রবণতা রয়েছে। এর বদলে ওদের যদি লিনেনের শর্ট কুর্তি বা ফিটেড শার্ট, জহর কোটের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্যান্টস মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরানো হয়, তা হলে একটা ইন্টারেস্টিং চেঞ্জ আসবে।
এমন কেউ রয়েছে, যাকে সাজানোর তোমার খুব ইচ্ছে, কিন্তু এখনও সুযোগ পাওনি?
অমিতাভ বচ্চন। অসংখ্য ছবিতে বিভিন্নরকম লুকে ওঁকে দেখেছি। আমার খুব ইচ্ছে, কোনও ঐতিহাসিক ছবিতে সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ওঁকে যদি সাজাতে পারতাম।
তোমার মতে এই মুহূর্তে দেশের সেরা ডিজ়াইনার কে?
আমি রোহিত বালের নাম বলব। সেই ছোটবেলা থেকে ওঁর নাম শুনে আসছি, কিন্তু এখনও উনি টপে। ওঁর প্রত্যেকটা শো-এ নতুন কিছু না কিছু থাকে। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায়, এক-একজন ফ্যাশন ডিজ়াইনারের এক-একটা ব্যাপারে দক্ষতা থাকে, রিতু কুমারের যেমন প্রিন্টে, কিন্তু রোহিত বাল কোনও একটা কিছুতে বাঁধা থাকেন না, পুরো কালেকশনেই নতুনত্ব থাকে। উনি দেখিয়ে দিয়েছেন, এমব্রয়ডারি-সহ তো বটেই, এটা ছাড়াও কী অসাধারণ সব আউটফিট তৈরি করা যায়!
অগ্নিমিত্রা পল নিজেই একজন স্টার। তোমার স্টাইল স্টেটমেন্ট অনেকের মধ্যেও নজর কাড়ে। রহস্যটা কী?
(হাসি) নিজের জন্য আলাদা করে কোনও কিছু বানানোর সুযোগ হয় না। পোশাক বানানোর সময় খেয়াল রাখি, সেটা যেন গ্রেসফুল হয়। এটা আমার কাছে খুব ইম্পর্ট্যান্ট। আমার ডিজ়াইন করা জামাকাপড় সবসময় খুব ফেমিনিন হয়। খুব টমবয়িশ বা সেক্সি পোশাক আমি বানাতে পারি না। আমার সবসময় মনে হয়, উইমেন ইউজ়ড টু বি এলিগ্যান্ট। আর পোশাক পরার সময় সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন আমার পার্সোনালিটির সঙ্গে যায়, যা খুশি একটা পরে নিলেই হয় না।
‘১৯ ২০’দের জন্য তোমার ফ্যাশন সাজেশন কী?
টিনএজে পড়াশোনা, কোচিং, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যাংআউট, সিনেমা দেখা… এসবই চলে। তাই এই সময়টা বা বয়সটা দামি বা ডিজ়াইনার আউটফিট পরার নয়। বরং ইন্টারেস্টিং দেখতে, কিন্তু দামি নয় এমন একটা শ্রাগ বা বুট্স, বেল্ট, ব্লাউজ় বা দোপাট্টা নিজের ওয়র্ডরোবে রাখব, যাতে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে বিভিন্ন আউটফিটের সঙ্গে পরতে পারি। এতে লুকে একটা বদল আসবে।
পারমিতা সাহা
…………………………………………………………………….
অভিনয়ে এলে কীভাবে?
অভিনয়ে আসাটা খুব আকস্মিকভাবেই হয়েছিল। স্কুলে পড়তে-পড়তেই টুকটাক মডেলিং করতাম। ‘১৯ ২০’ পত্রিকায় আমার ছবি ছাপা হয়েছিল। ওই ছবি দেখেই সানন্দা টিভির পক্ষ থেকে একটি সিরিয়ালের জন্য আমাকে ডাকা হয়। কিন্তু ওইসময় একটি ছবিতে অভিনয়ের কথা পাকা হয়ে গিয়েছিল। তাই পরিষ্কার ‘না’ বলেই চলে এসেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। এই ঘটনার বেশ কয়েকমাস পর আবার ওখান থেকে আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ‘সবিনয় নিবেদন’ সিরিয়ালের জন্য। কিন্তু তখনও ছবিটার কাজ চলছিল বলে প্রথমে রাজি হইনি। তারপর একদিন হঠাত্ করেই কনট্র্যাক্ট সাইন করি। এভাবেই আমার টলিউডে যাত্রা শুরু। কিন্তু এর মধ্যে একটা মজার ব্যাপার হল, যে ছবিটার জন্য আমি কিছুতেই সিরিয়াল করতে চাইনি, সেটি কিন্তু আজ পর্যন্তও মুক্তি পায়নি।
‘সবিনয় নিবেদন’ আর ‘কেয়ার করি না’ এই দু’টো সিরিয়ালের মধ্যে কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল?
প্রথম সিরিয়ালের অফারটা যত সহজে পেয়েছিলাম, কাজটা তত সোজা ছিল না, কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলাম। ওইসময় আমি অভিনয়ের ‘অ’ জানতাম না। ‘নয়না’ চরিত্রের সঙ্গে আমার কোনও মিলও ছিল না। তাই সেই সময় অভিনয় করাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ‘সবিনয়…’ শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকটা সিরিয়ালের অফার এসেছিল। এর মধ্যে ‘কেয়ার করি না’ আমার কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছিল। কারণ, চরিত্রটার মধ্যে দু’টো দিক আছে। তাই আমার মনে হয়, দু’টো সিরিয়ালই আমার কাছে দু’ধরনের পরিস্থিতিতে দু’রকমের চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল।
‘কেয়ার করি না’র জুনি, নাকি ‘সবিনয় নিবেদন’-এর নয়না! এদের মধ্যে মধুমিতা ঠিক কেমন?
মধুমিতার সঙ্গে নয়নার কোনও মিল নেই। মধুমিতা একেবারে ‘জুনি’র মতো, বকবক করে, খুব তাড়াতাড়ি রেগে যায়, এনার্জেটিক ইত্যাদি… আসলে আমাকে ‘জুনি’ চরিত্রে অভিনয় করতে হয়নি, কেবল বিহেভ করেছি।
‘কেয়ার করি না’ শেষ হওয়ার পর কী করবে বলে ভাবছ?
এপ্রিলে আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। আপাতত পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করছি। সিরিয়ালের অফারটা তো আছেই। এ ছাড়া বেশ কয়েকটা ছবির অফারও পেয়েছি। কিন্তু এর পর সিরিয়াল বা ছবি! এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি।
ছবি করার জন্য নিজেকে আরও গ্রুম করতে হবে, মনে হয় না?
হ্যাঁ। এই কারণেই আমি কিছুদিনের ব্রেক নিতে চাইছি। এই সময় নাচ শিখব, কোনও থিয়েটারের দলে যোগ দেওয়ার কথাও ভাবব। আসলে নিজেকে সব দিক দিয়ে গ্রুম করার চেষ্টা করব।
‘সবিনয়…’-র হিরো সৌরভ, ‘কেয়ার…’-র হিরো ফারহান দু’জনের সঙ্গেই মধুমিতার নাম জড়িয়েছিল। মধুমিতা কি ঘন-ঘন প্রেমে পড়তে ভালবাসে?
আসলে যে-কোনও সিরিয়ালের হিরো ও হিরোইন যদি সিঙ্গল থাকে, তা হলে দর্শকরা তাদের দু’জনকে এনগেজড করে দিতে ভালবাসেন। আমার দিক থেকে বলতে পারি, সৌরভ আমার খুব ভাল বন্ধু আর ফারহান আমার কো-স্টার। ওদের দু’জনের সঙ্গে কোনও সময় আমার কোনও সম্পর্ক কখনও গড়ে ওঠেনি।
তা হলে মধুমিতার স্টেডি বয়ফ্রেন্ড কে?
আমার কোনও বয়ফ্রেন্ড নেই। আর যদি থাকত, তা হলে টানা ১৫-১৬ ঘন্টা অভিনয়ের পর বয়ফেন্ডকে সময় দিতে পারতাম না। এমনিতেই ব্রেকআপ হয়ে যেত। ক্লাস টেনে পড়ার সময় একবার এনগেজড হয়েছিলাম, ওই স্কুলের মিষ্টি-মিষ্টি প্রেম আর কী! কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ব্রেকআপ হয়ে যায়। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত আমি সিঙ্গল এবং সিঙ্গল থাকতেই ভালবাসি।
ঈপ্সিতা বসু
ফোটো: প্রদীপ আদক

