On Stands 4 June ’13
বারবার কাজে ভুল হচ্ছে, মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছে সবকিছু ছেড়ে একেবারে দূরে কোথাও চলে যাই। নেগেটিভ ইমোশন মাথায় ভিড় করে একেবারে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এক কাজ দীর্ঘদিন ধরে করলে অনেকসময়েই মোটিভেশন লেভেল কমে যায়। তবে তাই বলে তো আর সেই কাজটাকে জীবন থেকে একেবারে বাদ দিয়ে দিতে পারি না। তখন ইচ্ছে না থাকলেও চালিয়ে যেতে হয়। এর পরে মনের উপর একটা চাপ সৃষ্টি হয়। ‘কিছু ভাল লাগছে না’, ‘মন খারাপ’ এই ধরনের উপসর্গগুলো দেখা দিলেই বুঝে নিতে হবে যে, আমার এখন সবচেয়ে আগে দরকার মোটিভেশন।
১। নিজেকে মোটিভেটেড রাখতে সবচেয়ে আগে কাজের প্রতি একটা ভালবাসা গ্রো করতে হবে।
২। প্রথমেই নিজের হার্ডওয়ার্ক, অ্যাচিভমেন্ট এবং পোটেনশিয়ালের কথা মনে করব। নিজের ব্যাপারে যতটা পজ়িটিভ চিন্তা করব ততই ভাল।
৩। কাজটার ক্ষেত্রে নতুন-নতুন চ্যালেঞ্জ বা এক্সপেরিমেন্ট করলে সেটা যদি প্রশংসিত হয়, তাহলে আপনা থেকেই নিজের মোটিভেশন বুস্ট আপ হবে।
৪। অন্যদের ফিডব্যাক নিয়ে যেসব জায়গায় ইমপ্রুভমেন্ট দরকার সেটা চটপট সেরে ফেলব।
৫। কাজের ফাঁকে নিজের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য ইন্টারনেট বা বই পড়তে পারি। সেটা কাজের বিষয়েই যে হতে হবে, তার বাধ্য-বাধ্যকতা নেই।
৫। তবে রি-মোটিভেট হওয়ার সবচেয়ে উপযোগী উপায় হল একটা ছোট ব্রেক নেওয়া। বাইরে ছোট টুরে চলে যেতে পারি বা নিদেনপক্ষে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একটু কোয়ালিটি টাইম কাটিয়ে নিতে পারি।
‘ওর আছে, আমার নেই!’ কখনও বা আবার ‘আমার আছে ওর নেই!’ শুনে মনে হতেই পারি কম্পিটিশনের কথা বলছি। নাঃ, বলছি আসলে হিংসের কথা। কম্পিটিশনটা যখন হেলদি থেকে নেগেটিভ পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখনই জন্ম নেয় হিংসের মতো ইমোশন আর দেখতে-দেখতে জুড়ে বসে মন, মাথা সবকিছুর উপরই।
ওর বয়ফ্রেন্ডটা হেবি হ্যান্ডসাম, ক্লাসে আবার টিয়া আমাকে টেক্কা দিয়ে গেল? আবিরের হাতে কাল একটা লেটেস্ট গ্যাজেট দেখলাম আর আমার হাতে সেই ১৯৬৭ সালের ফোন! কত ভাবনা… কিন্তু বস, আমি বলি হু কেয়ারস??? লাইফে তো এমনিতেই প্রচুর চাপ। আরও হ্যাপা বাড়িয়ে কী-ই বা লাভ? পাশের বান্দাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার এক অদম্য ইচ্ছে। তবে কোন লক্ষ্যে দৌড়চ্ছি আমরা? দৌড়তে গিয়ে মাথা ফাটছে, হাত ভাঙছে তবে তাতে কী? আই মাস্ট বি দ্য বেস্ট! তবে তা হওয়ার এই উপায়ের বদলে আরও উপযোগী কিছু উপায় রয়েছে নিজেকে ‘দ্য বেস্ট’ প্রমাণ করার।
১। প্রথম কথা হল অন্যকে হিংসে করে অনেকসময়ই তার লক্ষ্যের পিছনে দৌড়ই আমরা। এমনটা না করে নিজের গোল সেট করব এবং তার উপরই মন দেব।
২। সারাদিন পাশের বন্ধুটা কী পেল আর আমি কী পেলাম না এই নিয়ে না ভেবে নিজের কাজের উপর মনোযোগ দেব, তাহলে হয়তো আমি অনায়াসেই তাকে টপকে যেতে পারব।
৩। ওর কাছে দামি জিনিস আছে বলে নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে তা কেনার কথা না ভেবে বরং কনফিডেন্সের সঙ্গে সেটাই ব্যবহার করব যেটা আমার। লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট, অন্যের জন্য নিজের মনের শান্তি নষ্ট করব না বস! আখেরে ক্ষতিটা তাহলে আমারই হবে।

